পিরোজপুরের কাউখালী উপজেলার ১৪ নম্বর মধ্য সোনাকুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের এক সহকারী শিক্ষকের বিরুদ্ধে সহকর্মী এক নারী শিক্ষককে মানসিক হয়রানি, অশালীন আচরণ এবং কর্মপরিবেশে নিরাপত্তাহীনতায় রাখার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী শিক্ষক ফেরদৌস আক্তার গত ২৯ জুলাই জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা বরাবর লিখিত অভিযোগ দাখিল করেছেন। অভিযোগের অনুলিপি প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক, বরিশাল বিভাগীয় উপ-পরিচালক এবং উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তার কাছেও পাঠানো হয়েছে।
লিখিত অভিযোগে ফেরদৌস আক্তার জানান, তিনি ২০১২ সালের ২১ এপ্রিল থেকে বিদ্যালয়টিতে কর্মরত রয়েছেন। তার দাবি, সহকারী শিক্ষক মিলন কৃষ্ণ পাল দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন অশালীন মন্তব্য ও আচরণের মাধ্যমে তাকে মানসিকভাবে হয়রানি করে আসছেন। বিদ্যালয়ে একমাত্র নারী শিক্ষক হওয়ায় প্রতিনিয়ত আতঙ্ক ও নিরাপত্তাহীনতার মধ্যে দায়িত্ব পালন করতে হচ্ছে বলেও তিনি অভিযোগে উল্লেখ করেন।
অভিযোগে আরও বলা হয়, বিদ্যালয় চলাকালে অভিযুক্ত শিক্ষক উচ্চস্বরে মোবাইলে ভিডিও চালান। এছাড়া তিনি কমনরুমে নামাজ আদায় করতে গেলে সেখানে অবস্থান করায় তিনি বিব্রত ও অস্বস্তিকর পরিস্থিতির মুখোমুখি হন। অভিযুক্ত শিক্ষকের আচরণের কারণে অতীতেও কয়েকজন নারী শিক্ষক ওই বিদ্যালয় থেকে অন্যত্র বদলি নিয়েছেন বলেও অভিযোগে দাবি করা হয়েছে।
তবে অভিযোগ অস্বীকার করেছেন অভিযুক্ত শিক্ষক মিলন কৃষ্ণ পাল। তিনি বলেন, আমার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন। আমি নির্দোষ। সুষ্ঠু তদন্ত হলে প্রকৃত সত্য উদঘাটিত হবে।
উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মোহাম্মদ অহিদুর রহমান বলেন, অভিযোগের বিষয়টি তিনি মৌখিকভাবে জেনেছেন। লিখিত অভিযোগ হাতে পাওয়ার পর ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করে বিধি অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মোল্লা বখতিয়ার রহমান বলেন, লিখিত অভিযোগ হাতে পাওয়ার পর তদন্ত করে অভিযোগের সত্যতা যাচাই করা হবে। তদন্তে অভিযোগ প্রমাণিত হলে বিধি মোতাবেক প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।