হবিগঞ্জের লাখাইয়ে ঝুঁকিপূর্ণ ৬ প্রাথমিক বিদ্যালয়। জীবনের ঝুঁকি নিয়ে চলছে পাঠদান। এতে ছাত্র, শিক্ষক ও অভিভাবকদের মাঝে দেখা দিয়েছে নানা আতঙ্ক। প্রতিনিয়ত ওই বিদ্যালয়ের শিক্ষকরা জীবনের ঝুঁকি নিয়ে কোমলমতি ছাত্র ছাত্রীদের পাঠদান চালিয়ে যাচ্ছেন।
প্রাথমিক শিক্ষা অফিস সুত্রে জানা যায়, উপজেলার ৬টি বিদ্যালয় ঝুঁকিপূর্ণ তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে কিন্তু সমাধানের লক্ষ্যে কাজের কাজ কিছুই করা হচ্ছে না।
এ বিষয়ে বলাকান্দি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মনিষা রানী দাশ জানান, বুল্লা ইউনিয়ন একটি হাওর বেষ্টীত এলাকা। এখন বর্তমানে বর্ষার মৌসুম এবং প্রায় সময়ই ঝড় তুফান হলে ছাত্র ছাত্রী নিয়ে ভীতসন্ত্রস্ত অবস্থায় পাঠদান করতে হচ্ছে।
ঝুঁকিপূর্ণ বিদ্যালয়টি পরিত্যক্ত ঘোষণা করে নতুন ভবন নির্মাণ জরুরি।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, ওই বিদ্যালয়গুলোর ছাত্র-ছাত্রী সংখ্যা প্রায় ৮ শতাধিক। তারা জীবনের ঝুঁকি নিয়ে পাঠদান করে যাচ্ছেন। সুবিদপুর সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় নিয়ে একাধিক বার সংবাদ প্রকাশ করা হলেও কাজের কাজ কিছুই হয়নি।
এ বিষয়ে উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মোঃ জামাল উদ্দীন বলেন, সুজনপুর সজিব আলী, চরগাও, আগাপুর, বলাকান্দি, সুবিদ পুর ও চান্দপুর সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় গুলি ঝুকিপূর্ণ হিসেবে সনাক্ত করা হয়েছে।
আগামী ২০২৬ - ২৭ অর্থ বছরে পিডিবি ৫ এর বরাদ্দ পেলেই সব সমস্যার সমাধান করা হবে।
তিনি আরও বলেন, বিশ্ব ব্যাংকের অর্থায়নে বুল্লা ইউনিয়নের বলাকান্দি একটি ৬ তলা বিশিষ্ট একটি বিদ্যালয় কাম বন্যা আশ্রয় কেন্দ্র ভবন ইতিমধ্যে টেন্ডার হয়ে গেছে। সংশ্লিষ্ট ঠিকাদার কার্যাদেশ পেলেই নির্মাণ কাজ শুরু করা হবে।
তিনি আরও বলেন, মোড়াকরি ইউনিয়নের সুবিদপুর সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়টি ২০১৭ সালে পরিত্যক্ত ঘোষণা করা হলেও জমি সংক্রান্ত জটিলতার কারণে ওই বিদ্যালয় ভবনটি নির্মাণ কাজ করা সম্ভব হচ্ছে না। তবে অচিরেই তা নিরসন করে ওই বিদ্যালয়টি নির্মাণ কাজ করতে পারব বলে আমি আশাবাদী।
এসব বিদ্যালয়ের ছাত্র, শিক্ষক ও অভিভাবকদের মাঝে দেখা দিয়েছে নানা আতঙ্ক। ঝুঁকিপূর্ণ বিদ্যালয় গুলি জরুরী ভিত্তিতে ঝুঁকিমুক্ত করার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে জোর দাবি জানান।