এ বছর অনুকূল আবহাওয়া, সময়মতো বৃষ্টি এবং রোগবালাই কম থাকায় কৃষি নির্ভরশীল মাদারীপুরের শিবচর উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় পাটের বাম্পার ফলন হয়েছে। উৎপাদন ভালো হওয়ার পাশাপাশি বাজারে পাটের দামও সন্তোষজনক থাকায় কৃষকদের মুখে দেখা মিলছে স্বস্তির হাসি।
উপজেলার চরাঞ্চলসহ বিভিন্ন ইউনিয়নের মাঠজুড়ে এখন পাট কাটা, জাগ দেওয়া, আঁশ ছাড়ানো ও শুকানোর ব্যস্ততা চলছে।
বাংলাদেশের বৈদেশিক মূদ্রা উপর্জন কারী অর্থকারী ফসলের মধ্যে অন্যতম কৃষি পন্য পাট। দেশের সবচেয়ে ভালো পাট উদপান কারী অঞ্চল হচ্ছে মাদারীপুর, ফরিদপুর ও শরিয়তপুর, শিবচর উপজেলার ১৮ টি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভার ৭৮০০ হেক্টর জমিতে কৃষকেরা পাট চাষ করেছেন।
এবারে কৃষক জমি চাষাবাদের সময় তৈল, বিদ্যুৎ ও পানি সংকটে ভোগেন। তখন অনেকে এবার আবাদের আশা ছেড়ে দেয়। অনেক কৃষক আবাদ ছাড়াও বিনা চাষে জমিতে বীজ ফেলে রাখে। অনেক কৃষক এবার বিনাচাষে পাটের আবাদ করে ভালো হয়েছে।
অধিকাংশ কৃষক এখন পাট কাটতে জাগদিতে এবং আশ ছাড়াতে ব্যস্ত সময় পার করছেন। তবে স্হানীয় শ্রমিক কম থাকায় ফরিদপুর হাট থেকে রংপুর, মাগুড়া, বগুড়া অঞ্চলের শ্রমিক প্রতিদিন তিনবেলা খোরাকি ও ৭০০ থেকে ৮০০ টাকা দিন মুজুরীতে কাজ করাচ্ছেন।
তবে জাগ দেবার পর্যাপ্ত পানি না থাকায় কৃষকের পাট কেটে জমি থেকে ভ্যানে দূর দুরান্তে নিয়ে জাগ দেয়া আশ ছাড়ানোর কাজ করতে হচ্ছে। তাতে খরচ বেড়ে যাচ্ছে, শিবচরের অনেক ডোবা নালা খাল বিলে এখনো পর্যাপ্ত পানি প্রবেশ না করার কারনে ময়লা পানিতে একাধিক বার পাট জাগ দিচ্ছে ফলে পাটের কালার ও সোনালী থাকছে না।
এতে ময়লা পানিতে পাট জাগের করনে পাটের কালার কালচে ও মাইটা রং হয় সেই পাটের দাম তুলনামূলক মূলক কম হয়। নদী মাতৃক এলাকায় পানি প্রবাহিত হলে সেখানে পাটের রং ভালো হয়; দামও ভালো। বাঁশ কান্দি, বহেতলা সন্যাসিরচর, কাঠালবাড়ী, চরজানাজাত, ও কাদিপুর অঞ্চলের পাটের মান ভালো হওয়ায় কৃষক দাম ভালো পাচ্ছে।
এখন শিবচর উপজেলার বিভিন্ন হাটে পাট কেনা-বেচা হচ্ছে চার হাজার থেকে পাচ হাজার টাকা মন দরে; তাতে কৃষক সন্তোষ প্রকাশ করেন।
সেখপুরে কৃষক মাসুম তাইয়ানী জানান, গত কয়েক বছরের তুলনায় এবার ফলন যেমন ভালো হয়েছে, তেমনি বাজারেও পাটের চাহিদা রয়েছে। এতে উৎপাদন খরচ মিটিয়ে লাভের আশা করছি।
কৃষকদের ভাষ্য, বিঘাপ্রতি পাটের ফলন প্রত্যাশার চেয়ে বেশি হয়েছে। স্থানীয় হাটে মানভেদে পাট ভালো দামে বিক্রি হওয়ায় কৃষকেরা উৎসাহিত হচ্ছেন। অনেকেই মনে করছেন, ন্যায্য মূল্য অব্যাহত থাকলে আগামী মৌসুমে পাটের আবাদ আরও বাড়বে।
স্থানীয় পাট ব্যবসায়ীরা জানান, দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে পাইকাররা শিবচরের পোর বাসস্টান হাট, মাদবচর হাট, উতরাই হাট, কুতুবপুর হাট ও চান্দেরচর হাটে পাট কিনতে আসছেন। উন্নতমানের আঁশ হওয়ায় শিবচরের পাটের আলাদা চাহিদা রয়েছে। ফলে বাজারে ভালো দাম পাওয়া যাচ্ছে।
শিবচর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মোঃ আলীমুজ্জামান জানায়, চলতি মৌসুমে শিবচরে ৭৮০০ হেক্টর জমিতে পাটের আবাদ হয়েছে। কৃষি বিভাগের পরামর্শ অনুযায়ী চাষাবাদ করায় ফলনও সন্তোষজনক হয়েছে। কৃষকদের প্রয়োজনীয় কারিগরি সহায়তা অব্যাহত রয়েছে।
কৃষকদের আশা, বাজারে পাটের বর্তমান দাম স্থিতিশীল থাকলে তারা আরও লাভবান হবেন।
কৃষি সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, উৎপাদন বৃদ্ধি ও ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করা গেলে দেশের অর্থনীতিতে ‘সোনালি আঁশ’ পাট আবারও গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখবে।