২৫০ শয্যার ঠাকুরগাঁও জেনারেল হাসপাতালকে ৬০০ শয্যায় উন্নীত করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। এ বিষয়ে ইতোমধ্যে আনুষ্ঠানিক চিঠি দেওয়া হয়েছে। আগামী কয়েক দিনের মধ্যে হাসপাতালটির জন্য প্রয়োজনীয় চিকিৎসক, জনবল, টেকনিশিয়ান, আধুনিক চিকিৎসা সরঞ্জাম এবং খাদ্য ও ওষুধের বরাদ্দ নিশ্চিত করার উদ্যোগ নেওয়া হবে।
সোমবার (২৭ জুলাই) বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে ঠাকুরগাঁও ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালের লাউঞ্জে হাসপাতাল পরিচালনা কমিটির সঙ্গে মতবিনিময় সভায় এসব কথা বলেন স্থানীয় সরকার মন্ত্রী ও বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।
হাসপাতালের বর্তমান সংকটের চিত্র তুলে ধরে মির্জা ফখরুল বলেন, প্রতিদিন বিপুলসংখ্যক রোগী চিকিৎসা নিতে আসায় বর্তমান অবকাঠামো দিয়ে সেবা দেওয়া অত্যন্ত কঠিন হয়ে পড়েছে। বর্তমানে হাসপাতালে প্রায় ৬০০ রোগী ভর্তি থাকলেও খাদ্য ও ওষুধের বরাদ্দ মিলছে মাত্র ২৫০ জনের হিসেবে। এছাড়া প্রয়োজনীয় চিকিৎসকের অর্ধেকেরও কম কর্মরত রয়েছেন। ৮৪টি চিকিৎসক পদের বিপরীতে দীর্ঘদিন ধরে ৩৩টি মেডিকেল অফিসারের পদ শূন্য রয়েছে।
হাসপাতালের পরিচ্ছন্নতা ও চিকিৎসা সরঞ্জামের ঘাটতির কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, হাসপাতালে চিকিৎসা বর্জ্য ব্যবস্থাপনার জন্য প্রয়োজনীয় ইনসিনারেটর (বর্জ্য পোড়ানোর যন্ত্র) পর্যন্ত নেই। প্রায় ৮ থেকে ৯ লাখ টাকা মূল্যের এ যন্ত্রটি আগামীকালের মধ্যেই সরবরাহের ব্যবস্থা করা হবে বলে তিনি জানান। পাশাপাশি আইসিইউ, সিটি স্ক্যান, এমআরআই এবং আধুনিক মর্গ সুবিধা দ্রুত চালুর উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে বলেও জানান তিনি।
মির্জা ফখরুল বলেন, ঠাকুরগাঁও মেডিকেল কলেজের কাজও দ্রুত এগিয়ে চলছে। আগামী ফেব্রুয়ারি মাস থেকেই পুরোনো হাসপাতাল ভবনে প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থীদের ভর্তি কার্যক্রম শুরু করার পরিকল্পনা রয়েছে। এ জন্য প্রাথমিকভাবে স্থানও নির্ধারণ করা হয়েছে।
পরে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে বিএনপির মহাসচিব বলেন, “২০ কোটি মানুষের দেশে সবকিছু শুধু সরকারের পক্ষে করা সম্ভব নয়। প্রতিটি মানুষকে সচেতন ও দায়িত্বশীল নাগরিক হিসেবে গড়ে উঠতে হবে। বর্জ্য যেখানে-সেখানে না ফেলে নিজেদের দৃষ্টিভঙ্গি ও মানসিকতার পরিবর্তন আনতে হবে।”
তিনি আরও বলেন, বর্তমান সরকার আন্তরিকতার সঙ্গে কাজ করছে। নারী ও শিশু সুরক্ষায় আইন সংশোধন করে সর্বোচ্চ শাস্তি হিসেবে মৃত্যুদণ্ডের বিধান রাখা হয়েছে। একই সঙ্গে মাদক নিয়ন্ত্রণে স্থানীয় ও জাতীয়—উভয় পর্যায়েই কঠোর আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।
হাসপাতালের সেবার মান উন্নয়নে সবার সহযোগিতা কামনা করে মির্জা ফখরুল বলেন, আমাদের সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন আপনাদের পূর্ণ সহযোগিতা। বিষয়গুলো নেতিবাচকভাবে না দেখে ইতিবাচকভাবে দেখলে উন্নয়নমূলক কাজগুলো দ্রুত বাস্তবায়ন করা সম্ভব হবে।