ভরা মৌসুমেও বাজারে নেই ইলিশ, চড়া দামে বিপাকে ক্রেতারা

ভোরের ডাক ডেস্ক

সারাদেশ

ভরা মৌসুমেও পিরোজপুরের বাজারে ইলিশের সরবরাহ স্বাভাবিক হয়নি। ৫৮ দিনের নিষেধাজ্ঞা শেষ হওয়ার পরও জেলেদের জালে মিলছে না প্রত্যাশিত পরিমাণ

2026-07-27T19:25:40+00:00
2026-07-27T19:25:40+00:00
  সোমবার, ২৭ জুলাই ২০২৬,
১২ শ্রাবণ ১৪৩৩
 
সোমবার, ২৭ জুলাই ২০২৬
সারাদেশ
ভরা মৌসুমেও বাজারে নেই ইলিশ, চড়া দামে বিপাকে ক্রেতারা
ভোরের ডাক ডেস্ক
সোমবার, ২৭ জুলাই, ২০২৬, ৭:২৫ পিএম 
সংগৃহীত ছবি
ভরা মৌসুমেও পিরোজপুরের বাজারে ইলিশের সরবরাহ স্বাভাবিক হয়নি। ৫৮ দিনের নিষেধাজ্ঞা শেষ হওয়ার পরও জেলেদের জালে মিলছে না প্রত্যাশিত পরিমাণ ইলিশ ও অন্যান্য সামুদ্রিক মাছ। ফলে বাজারে বেড়েছে সব ধরনের মাছের দাম। নদী-খালেও আগের মতো দেশীয় মাছের দেখা মিলছে না।

পিরোজপুর জেলা সদরের বিভিন্ন বাজার ঘুরে দেখা গেছে, প্রায় সব ধরনের মাছের দামই আগের তুলনায় বেশি। ছোট আকারের ইলিশ বা জাটকা বিক্রি হচ্ছে প্রতি কেজি প্রায় ১ হাজার ২০০ টাকায়। মাঝারি ও বড় ইলিশের দাম কেজিপ্রতি ১ হাজার ৬০০ থেকে ৩ হাজার টাকা পর্যন্ত উঠেছে।

সামুদ্রিক মাছের বাজারেও একই অবস্থা। বিভিন্ন প্রজাতির মাছ বিক্রি হচ্ছে ৪৫০ থেকে ১ হাজার ২০০ টাকা কেজি দরে। এর মধ্যে রূপচাঁদার দাম রয়েছে ১ হাজার থেকে ১ হাজার ২০০ টাকা পর্যন্ত।

চাষের মাছের দামও কমেনি। মাছের ধরন অনুযায়ী কেজিপ্রতি দাম ২০০ থেকে ৭০০ টাকার মধ্যে রয়েছে। রুই বিক্রি হচ্ছে ২৫০ থেকে ৪৫০ টাকা, পাঙাশ ২২০ থেকে ২৫০ টাকা এবং মরমা মাছ ৪০০ থেকে ৫০০ টাকা কেজি দরে।

মাছের বাজারের এই ঊর্ধ্বগতির প্রভাব পড়েছে মুরগির বাজারেও। বর্তমানে ব্রয়লার মুরগি বিক্রি হচ্ছে ১৮০ থেকে ১৯০ টাকা, কক ৩৮০ থেকে ৪০০ টাকা এবং সোনালি মুরগি ৩৩০ থেকে ৩৫০ টাকা কেজি দরে।

ব্যবসায়ীদের দাবি, অবৈধ চায়না দুয়ারি জালের কারণে পোনা ও ছোট মাছ ধ্বংস হচ্ছে। এতে দেশীয় মাছের প্রজনন ব্যাহত হওয়ায় প্রাকৃতিক জলাশয়ে মাছের উৎপাদন কমছে। ফলে বাজারে চাষের মাছের ওপর নির্ভরতা বাড়ছে।

তাদের মতে, সাগরে ট্রলিং ও ফিশিং জাহাজের মাধ্যমে মাছ ধরার কারণেও মাছের রেণু নষ্ট হচ্ছে। উৎপাদন খরচ বেড়ে যাওয়ায় চাষের মাছের দামও সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতার বাইরে চলে যাচ্ছে। সব মিলিয়ে মাছের বাজারে তৈরি হয়েছে অস্থিরতা।

ক্রেতারা বলছেন, আয় না বাড়লেও নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম বাড়ছে নিয়মিত। ফলে মাছ ও মাংস এখন অনেক পরিবারের জন্য কঠিন হয়ে উঠেছে।

পিরোজপুর সদর উপজেলার পৌর মাছ বাজারের ব্যবসায়ী রফিক উদ্দিন বলেন, ‘ইলিশের এখন ভরা মৌসুম কিন্তু বাজারে তেমন ইলিশ পাওয়া যাচ্ছে না। আমরা বিক্রি করব কী! নিজেদের খাওয়ার জন্য যা প্রয়োজন তাও পাই না। আগে এই সময় বাজারে ইলিশ মাছে ভরা ছিল কিন্তু এখন মাছ নেই।’

ব্যবসায়ী আজমল শেখ বলেন, ‘বর্তমানে কিছু চায়না জাল বের হইছে যার কারণে আমাদের দেশি মাছগুলো ধ্বংস হইয়া যাইতেছে। আগে বর্ষাকালে অনেক মাছ উঠতো কিন্তু এখন আগের মতো মাছ দেখা যায় না। সাগরের ট্রলিং জাহাজের কারণে মাছের রেণু মরে যায়, এ কারণেই মাছ কমে গেছে। সরকারের এ বিষয়ে পদক্ষেপ নেওয়া উচিত।’

মাছ কিনতে আসা শাহজালাল শেখ নামে এক ব্যক্তি বলেন, ‘ইলিশ মাছের যা দাম, আমাগো পক্ষে কেনা সম্ভব না। এমনিতেই বাজারে মাছ দেখা যায় না, যাও পাই দাম ৩ হাজার টাকা চায়। আমাগো মতো মানুষের পক্ষে ইলিশ মাছ কিনে খাওয়া সম্ভব না। ইলিশ মাছ এখন বড় লোকের খাবার, আমাগো মতো গরিবের জন্য বিলাসিতা।’

জেলা মৎস্য কর্মকর্তা সঞ্জীব সন্নামত বলেন, ‘নদ-নদীতে ডুবোচরের কারণে সাগর থেকে ইলিশের আসা বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। এ ছাড়া পিরোজপুরে ধরা পড়া ইলিশ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে চলে যাওয়ায় স্থানীয় বাজারে এর সরবরাহ কম দেখা যাচ্ছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘চায়না দুয়ারি জালের কারণে দেশীয় মাছের প্রজনন ধ্বংস হচ্ছে। জেলা এবং উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তারা নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করে এসব অবৈধ জাল ধ্বংস করার চেষ্টা করছেন।’ পাশাশাশি দেশীয় মাছের প্রজনন বৃদ্ধিতে এ ধরনের অভিযান অব্যাহত রাখার কথা জানিয়েছেন এই মৎস্য কর্মকর্তা।


  বিষয়:   ইলিশ মাছ  পিরোজপুর বাজার  মাছের দাম  চায়না দুয়ারি জাল  মৎস্য সংকট 


Loading...
Loading...

সারাদেশ- এর আরো খবর

Loading...
Loading...
© 2026 Daily Daily Bhorer Dak
সম্পাদক ও প্রকাশক : কে.এম. বেলায়েত হোসেন
৪-ডি, মেহেরবা প্লাজা, ৩৩ তোপখানা রোড, ঢাকা-১০০০ থেকে প্রকাশিত এবং মনিরামপুর প্রিন্টিং প্রেস ৭৬/এ নয়াপল্টন, ঢাকা থেকে মুদ্রিত। পিএবিএক্স: ৪১০৫২২৪৫, ৪১০৫২২৪৬, ০১৭৭৫-৩৭১১৬৭, বিজ্ঞাপন ও সার্কুলেশন: ৪১০৫২২৫৮
ই-মেইল : [email protected], [email protected]
ফলো করুন: