সিলেটের জকিগঞ্জে ইউপি সদস্য আব্দুস সালামকে মিথ্যা মামলায় জড়ানোর অভিযোগ তুলে তার বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলা প্রত্যাহারের দাবিতে মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়েছে।
মানববন্ধনে বক্তারা জানান, ২০১৯ সালের ৯ নভেম্বর আব্দুল মান্নান বুতুল বিষপানে মারা যান। এ ঘটনায় মো. শাকিল আহমদ বাদী হয়ে সি.আর.-১৬৭/২০১৯ নম্বর মামলা দায়ের করেন। বক্তাদের দাবি, মামলাটি একাধিকবার তদন্ত করা হলেও প্রতিটি তদন্তে সাক্ষীরা একই ধরনের জবানবন্দি দিয়েছেন।
তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, পারিবারিক কলহের জেরে নিহত ব্যক্তি বাড়ি থেকে বের হয়ে নিজের হাঁস-মুরগি বিক্রি করে বিষ ও মিষ্টি কেনেন। পরে বাইরে বিষপান করে বাড়িতে ফিরে মিষ্টি খাওয়ার পর উপস্থিত লোকজনকে নিজেই বিষপানের বিষয়টি জানান।
বক্তারা আরও বলেন, খবর পেয়ে ইউপি সদস্য আব্দুস সালাম দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে একটি সিএনজি অটোরিকশা ভাড়া করে স্থানীয়দের সহযোগিতায় তাকে জকিগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে পাঠান। সেখানে ভর্তি না নেওয়ায় স্থানীয়দের সহায়তায় অর্থ সংগ্রহ করে তাকে সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানোর ব্যবস্থা করা হয়।
মানববন্ধনে বক্তারা প্রশ্ন তোলেন, একাধিক তদন্তে আব্দুস সালামের সম্পৃক্ততার কোনো প্রমাণ না পাওয়ার দাবি থাকা সত্ত্বেও কীভাবে তার বিরুদ্ধে আদালত থেকে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি হলো। তাদের অভিযোগ, রাজনৈতিক ও ব্যক্তিস্বার্থে একজন জনপ্রতিনিধিকে হয়রানির উদ্দেশ্যে মামলায় জড়ানো হয়েছে।
বক্তারা বলেন, টানা চারবার জনগণের ভোটে নির্বাচিত হওয়া আব্দুস সালামের জনপ্রিয়তা ও জনসম্পৃক্ততার প্রমাণ বহন করে। মানববন্ধনে সাধারণ মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণও তার প্রতি জনগণের আস্থার প্রতিফলন বলে তারা উল্লেখ করেন। একই সঙ্গে সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে মামলা প্রত্যাহার এবং এ ধরনের হয়রানিমূলক মামলা বন্ধের দাবি জানান।
মানববন্ধনে সভাপতিত্ব করেন উস্তার হোসেন চৌধুরী এবং সঞ্চালনা করেন মাওলানা শিহাব উদ্দিন। এতে বক্তব্য দেন আব্দুল মালেক আনিস, মকবুল ইসলাম মখই মিয়া, মাওলানা আব্দুল বাসিত, জইন উদ্দিন (মেম্বার), ছনুহর আলী ছনু (মেম্বার), ফারুক আহমেদ ফুরুক (মেম্বার), আব্দুল কুদ্দুস বুদুর (মেম্বার) এবং সড়কের বাজারের ব্যবসায়ী দেলওয়ার হোসেন দুলু। এছাড়া কাজলসার ইউনিয়নের বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ ও গণ্যমান্য ব্যক্তিরা মানববন্ধনে অংশ নেন।