প্রায় ১০ মাসের দীর্ঘ প্রতিযোগিতার পর ‘ইন্ডিয়ান আইডল ১৬’-এর বিজয়ী হয়েছেন ওডিশার ২৪ বছর বয়সী গায়িকা জ্যোতির্ময়ী নায়ক। ট্রফির পাশাপাশি তিনি পেয়েছেন বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ২৫ লাখ টাকা নগদ পুরস্কার।
রোববার (২৬ জুলাই) রাতে অনুষ্ঠিত গ্র্যান্ড ফিনালেতে জ্যোতির্ময়ীর হাতে বিজয়ীর মুকুট তুলে দেওয়া হয়। প্রতিযোগিতায় প্রথম রানারআপ হয়েছেন মধ্যপ্রদেশের জবলপুরের প্রতিযোগী তনিষ্ক শুক্লা।
শ্রেয়া ঘোষাল, বিশাল দাদলানি ও বাদশাহর বিচারকত্বে অনুষ্ঠিত এবারের আসরের থিম ছিল ‘ইয়াদোঁ কি প্লেলিস্ট’। দর্শকদের ব্যাপক আগ্রহের কারণে অনুষ্ঠানটির সময়সীমা দুই দফায় বাড়ানো হয়, ফলে প্রতিযোগিতাটি চলে প্রায় ১০ মাস।
বিজয়ী হওয়ার পর জ্যোতির্ময়ী বলেন, এই দীর্ঘ যাত্রা তার জীবনের অন্যতম বড় অভিজ্ঞতা। গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর মুম্বাইয়ে এসে তিনি প্রতিযোগিতায় অংশ নিয়েছিলেন। শুরু থেকেই তার লক্ষ্য ছিল ভালো গান পরিবেশন করা এবং বিচারকদের মন জয় করা। পুরস্কারের অর্থ কীভাবে ব্যবহার করবেন, তা নিয়ে আগে কোনো পরিকল্পনা ছিল না বলেও জানান তিনি।
প্রতিযোগিতার অভিজ্ঞতা জানাতে গিয়ে জ্যোতির্ময়ী বলেন, কিংবদন্তি শিল্পীদের গান পরিবেশন করার সুযোগ পাওয়া ছিল তার জন্য সবচেয়ে আনন্দের মুহূর্ত। অন্যদিকে এলিমিনেশনের সময় ঝুঁকিতে পড়া ছিল সবচেয়ে কঠিন অভিজ্ঞতা। তবে দর্শকদের ভোট ও নিজের পরিশ্রম তাকে শেষ পর্যন্ত এগিয়ে নিয়ে গেছে।
সংগীত ছিল তার শক্তি
ছোটবেলা থেকেই সংগীতের প্রতি আগ্রহ ছিল জ্যোতির্ময়ীর। ভক্তিমূলক ও ওড়িয়া আঞ্চলিক গান দিয়ে তার সংগীতচর্চার শুরু। পরবর্তীতে প্রশিক্ষিত শিল্পী হওয়ার পাশাপাশি তিনি মিউজিক থেরাপিস্ট হিসেবেও কাজ করেন।
ক্যানসারে আক্রান্ত রোগীদের মানসিক স্বস্তি দিতে গান শোনাতেন জ্যোতির্ময়ী। তার মতে, সেই রোগীদের ভালোবাসা ও আশীর্বাদই তাকে এই সাফল্যের পথে এগিয়ে দিয়েছে। রোগীরা তার গান শুনে আনন্দ পেতেন এবং একদিন তাকে ইন্ডিয়ান আইডলের মঞ্চে দেখতে চেয়েছিলেন বলেও জানান তিনি।
ইতিহাস গড়লেন জ্যোতির্ময়ী
জ্যোতির্ময়ী জানান, ‘ইন্ডিয়ান আইডল’-এর ইতিহাসে তিনিই প্রথম ওড়িয়া নারী, যিনি শুধু অংশগ্রহণই করেননি, বিজয়ের মুকুটও অর্জন করেছেন। এই সাফল্যের জন্য তিনি বাবা-মায়ের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। তাদের সমর্থনই তাকে নিজের স্বপ্ন পূরণের সাহস দিয়েছে বলে জানান তিনি।
বলিউডে প্লেব্যাকের স্বপ্ন
জ্যোতির্ময়ীর পরবর্তী লক্ষ্য বলিউডে প্লেব্যাক গায়িকা হিসেবে প্রতিষ্ঠা পাওয়া। গ্র্যান্ড ফিনালেতে তার সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন তনিষ্ক শুক্লা, অংশিকা চোংকর, মনরাজ বীর সিং, মাইস্কমে বসু ও সুহাইল সুফি।
ফিনালে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন উষা উত্থুপ, উদিত নারায়ণ, পাপন, কুমার শানু, শেহনাজ গিল ও উর্মিলা মাতন্ডকর।
বিচারক শ্রেয়া ঘোষাল বিজয়ীসহ সব প্রতিযোগীকে শুভেচ্ছা জানিয়ে বলেন, পুরো মৌসুমে প্রতিযোগীদের সংগীতচর্চা ও উন্নতি খুব কাছ থেকে দেখার সুযোগ হয়েছে। তার মতে, এই প্রতিযোগিতা সবার সংগীতজীবনের নতুন অধ্যায়ের সূচনা করবে।
ইন্ডিয়া টুডে অবলম্বনে