নতুন রাজনৈতিক বাস্তবতায় রাষ্ট্রপতি নির্বাচনকে ঘিরে দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে ব্যাপক আগ্রহ তৈরি হয়েছে। সংখ্যার হিসেবে বিএনপির প্রার্থী এগিয়ে থাকলেও বিরোধী দলগুলোর একটি বড় অংশ রাষ্ট্রপতি পদে জাতীয় ঐকমত্য গড়ে তোলার পক্ষে অবস্থান নিয়েছে।
ফলে নির্বাচনটি প্রতিদ্বন্দ্বিতামূলক হবে, নাকি সমঝোতার ভিত্তিতে একক প্রার্থী নির্বাচিত হবেন সেদিকেই এখন রাজনৈতিক মহলের দৃষ্টি। তবে নির্ভরযোগ্য সূত্র নিশ্চিত করেছে সরকার ও বিরোধী দলের সমঝোতার ভিত্তিতেই বাংলাদেশ পেতে পারে তা ২৩ তম রাষ্ট্রপতি।
এদিকে নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের সাংবিধানিক প্রক্রিয়া শুরু করতে যাচ্ছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। এ লক্ষ্যে আজ (মঙ্গলবার) জাতীয় সংসদের ভারপ্রাপ্ত স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামালের সঙ্গে বৈঠকে বসছেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এএমএম নাসির উদ্দিন। বৈঠকে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের সময়সূচি, ভোটার তালিকা, তফসিল ঘোষণাসহ প্রয়োজনীয় সাংবিধানিক ও প্রশাসনিক বিষয় নিয়ে আলোচনা হওয়ার কথা রয়েছে।
নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ের কর্মকর্তারা জানান, আজ বেলা ১১টায় সংসদ ভবনে অনুষ্ঠিতব্য বৈঠকের পর রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের পরবর্তী কার্যক্রম আরও স্পষ্ট হবে। ইসি সচিব আখতার আহমেদ জানিয়েছেন, সংসদ সচিবালয়ের সঙ্গে সমন্বয় করে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে।
সংবিধানের ১২৩(২) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী রাষ্ট্রপতির পদ শূন্য হওয়ার পরবর্তী ৯০ দিনের মধ্যে নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচন সম্পন্ন করা বাধ্যতামূলক। আইন অনুযায়ী জাতীয় সংসদের সদস্যদের গোপন ব্যালটের মাধ্যমে রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হন। এ জন্য প্রথমে সংসদ সচিবালয় থেকে সংসদ সদস্যদের চূড়ান্ত তালিকা নির্বাচন কমিশনের কাছে পাঠানো হবে। এরপর কমিশন প্রয়োজনীয় আইনি ও কারিগরি বিষয় পর্যালোচনা করে নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করবে।
বর্তমান জাতীয় সংসদে সংরক্ষিত নারী আসনসহ বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) মোট সংসদ সদস্য ২৪৫ জন। এর মধ্যে সাধারণ আসনে নির্বাচিত সদস্য ২০৯ জন এবং সংরক্ষিত নারী আসনে রয়েছেন ৩৬ জন। সংসদে এই সংখ্যাগরিষ্ঠতার কারণে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে বিএনপির মনোনীত প্রার্থীর জয় নিশ্চিত । জাতীয় সংসদের পরবর্তী অধিবেশনেই রাষ্ট্রপতি নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। ফলে রাজনৈতিক দলগুলোও ইতোমধ্যে নিজেদের অবস্থান নির্ধারণে আলোচনা শুরু করেছে।
সর্বসম্মত প্রার্থী চায় জামায়াত ও এনসিপি: রাষ্ট্রপতি নির্বাচনকে প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ রাজনৈতিক লড়াইয়ের পরিবর্তে জাতীয় ঐকমত্যের ভিত্তিতে সম্পন্ন করার পক্ষে মত দিয়েছে জামায়াতে ইসলামী ও জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)।
জামায়াতের দায়িত্বশীল সূত্রগুলো বলছে, রাষ্ট্রপতি পদকে তারা দলীয় রাজনৈতিক প্রতিযোগিতার ক্ষেত্র হিসেবে দেখতে চায় না। বরং এমন একজন ব্যক্তিকে রাষ্ট্রপ্রধান হিসেবে দেখতে চায়, যিনি সব রাজনৈতিক দলের কাছে গ্রহণযোগ্য, নিরপেক্ষ এবং সংবিধানের রক্ষক হিসেবে দায়িত্ব পালনে সক্ষম।
জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ও প্রচার-মিডিয়া বিভাগের প্রধান অ্যাডভোকেট এহসানুল মাহবুব জুবায়ের বলেন, রাষ্ট্রপতি নির্বাচন নিয়ে আমরা এখনো দলগতভাবে আনুষ্ঠানিক আলোচনা করিনি। যেহেতু সংসদে বিএনপি সংখ্যাগরিষ্ঠ, তাই আমরা এমন একজন রাষ্ট্রপতি প্রত্যাশা করি, যাঁর সর্বজনীন গ্রহণযোগ্যতা ও মর্যাদা রয়েছে।
বিএনপিতে সম্ভাব্য প্রার্থী নিয়ে আলোচনা: রাষ্ট্রপতির পদ শূন্য হওয়ার পর থেকেই বিএনপির অভ্যন্তরে সম্ভাব্য প্রার্থী নিয়ে অনানুষ্ঠানিক আলোচনা চলছে বলে দলীয় একাধিক সূত্র জানিয়েছে। দলটির নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে পরিচ্ছন্ন ভাবমূর্তি, দীর্ঘ রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা এবং সাংবিধানিক দায়িত্ব পালনের সক্ষমতাকে গুরুত্ব দেওয়া হতে পারে।
আলোচনায় বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন এবং ড. আব্দুল মঈন খানের নাম রয়েছে বলে দলীয় সূত্রগুলো জানিয়েছে।
বিএনপির জ্যেষ্ঠ নেতাদের মতে, এই তিন নেতা দীর্ঘদিন ধরে দলের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করে আসছেন এবং জাতীয় রাজনীতিতেও তাঁদের গ্রহণযোগ্যতা রয়েছে। তবে এ বিষয়ে বিএনপির পক্ষ থেকে এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো সিদ্ধান্ত জানানো হয়নি।
এদিকে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী এবং বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, রাষ্ট্রপতি পদে দলীয় সিদ্ধান্ত অনুযায়ীই প্রার্থী মনোনয়ন দেওয়া হবে।
সোমবার রংপুরে বিআরডিবির বিভাগীয় কার্যালয়ের উদ্বোধন শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, রাষ্ট্রপতি পদে কাকে মনোনয়ন দেওয়া হবে, সে বিষয়ে দলই সিদ্ধান্ত নেবে। সময় হলে তা জানানো হবে।