বাগেরহাট জেলার সব সরকারি খাল অবমুক্ত করে প্রাকৃতিক পানি প্রবাহ নিশ্চিত, জলাবদ্ধতা নিরসন এবং কৃষি ও পরিবেশ রক্ষার দাবিতে তিন দিনব্যাপী অবস্থান কর্মসূচি শুরু হয়েছে।
রবিবার (২৬ জুলাই) সকাল থেকে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সামনে 'বাগেরহাটবাসী' ব্যানারে এ কর্মসূচি পালন করা হয়। কর্মসূচির প্রথম দিনে বেলা ১টা পর্যন্ত অবস্থান করেন আন্দোলনকারীরা। আয়োজকদের জানান, আগামী দুই দিনও প্রতিদিন বিকেল ৫টা পর্যন্ত এ কর্মসূচি চলবে।
এ সময় আন্দোলনকারীরা ‘সরকারি খাল উন্মুক্ত চাই’, ‘খাল বাঁচাও, কৃষি বাঁচাও’, ‘দখলদার উচ্ছেদ চাই’ এবং ‘খাল মুক্তি, কৃষকের বাঁচার পথ’—এমন বিভিন্ন দাবিসংবলিত প্ল্যাকার্ড প্রদর্শন করেন। পাশাপাশি দাবি বাস্তবায়নের সমর্থনে গণস্বাক্ষর কর্মসূচিও পালন করা হয়।
সমাবেশে বক্তব্য দেন শেখ ইমরান, সুমিত ভট্টাচার্য, মাহফুজ মাঝি, রবিউল ইসলাম, মিথিলা আক্তার ও আবু হুরায়রা।
বক্তারা বলেন, দীর্ঘদিন ধরে জেলার অসংখ্য সরকারি খাল অবৈধ দখল, ভরাট ও বিভিন্ন স্থাপনা নির্মাণের কারণে অস্তিত্ব হারাচ্ছে। এর ফলে বর্ষা মৌসুমে জলাবদ্ধতা বাড়ছে, কৃষি উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে এবং প্রাকৃতিক পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্য মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। তারা বলেন, খালগুলো অবমুক্ত করে স্বাভাবিক পানি প্রবাহ ফিরিয়ে আনা গেলে কৃষি, মৎস্যসম্পদ ও পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
বক্তারা অবিলম্বে জেলার সব সরকারি খাল থেকে অবৈধ দখল উচ্ছেদ করে খালের স্বাভাবিক প্রবাহ পুনঃস্থাপনে জেলা প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কার্যকর উদ্যোগ দাবি করেন। একই সঙ্গে দাবি বাস্তবায়ন না হওয়া পর্যন্ত শান্তিপূর্ণ আন্দোলন অব্যাহত রাখার ঘোষণাও দেন।