বন্যার ধ্বংসলীলায় ধুঁকছে সাতকানিয়ার ঐতিহ্যবাহী চরকা শিল্প

আব্দুল্লাহ্ আল মারুফ, চট্টগ্রাম

সারাদেশ

সাম্প্রতিক ভয়াবহ বন্যায় দক্ষিণ চট্টগ্রামের একমাত্র ঐতিহ্যবাহী চরকা শিল্প মারাত্মক ক্ষতির মুখে পড়েছে। চট্টগ্রামের সাতকানিয়া উপজেলার সামিয়ারপাড়া ২ নং ওয়ার্ডের

2026-07-26T11:01:07+00:00
2026-07-26T11:01:07+00:00
  রবিবার, ৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬,
২২ ভাদ্র ১৪৩৩
 
রবিবার, ৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬
সারাদেশ
বন্যার ধ্বংসলীলায় ধুঁকছে সাতকানিয়ার ঐতিহ্যবাহী চরকা শিল্প
আব্দুল্লাহ্ আল মারুফ, চট্টগ্রাম
রোববার, ২৬ জুলাই, ২০২৬, ১১:০১ এএম 
সংগৃহীত ছবি
সাম্প্রতিক ভয়াবহ বন্যায় দক্ষিণ চট্টগ্রামের একমাত্র ঐতিহ্যবাহী চরকা শিল্প মারাত্মক ক্ষতির মুখে পড়েছে। চট্টগ্রামের সাতকানিয়া উপজেলার সামিয়ারপাড়া ২ নং ওয়ার্ডের ৫৪ বছরের পুরনো এই কুটির শিল্পের সঙ্গে জড়িত প্রায় ৭৫০টি পরিবার এখন চরম অনিশ্চয়তা ও মানবেতর জীবনযাপন করছে। আকস্মিক এই প্রাকৃতিক দুর্যোগে উৎপাদন কেন্দ্র, কাঁচামাল ও প্রস্তুতকৃত পণ্য তলিয়ে যাওয়ায় কোটি টাকারও বেশি ক্ষতির আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা।

৫৪ বছরের ঐতিহ্য ও অর্থনৈতিক গুরুত্ব ১৯৭২ সাল থেকে সাতকানিয়ার সামিয়ারপাড়ায় বাণিজ্যিকভাবে গড়ে ওঠে এই ঐতিহ্যবাহী চরকা শিল্প। দক্ষিণ চট্টগ্রামে কেবল এই অঞ্চলেই চরকার সাহায্যে বিভিন্ন ধরনের সুতা ও জাল তৈরির কাজ হয়ে আসছে। বর্তমানে এই শিল্পের সঙ্গে সরাসরি যুক্ত রয়েছেন এলাকার নারী-পুরুষসহ প্রায় ৭৫০টি পরিবার।

বাইরে থেকে আমদানি করা চিকন সুতা প্রক্রিয়াজাত করে এখানে মোটা সুতা ও বিভিন্ন ধরনের জাল তৈরি করা হয়, যা দেশের মৎস্য ও কৃষিখাতে ব্যাপকভাবে ব্যবহৃত হয়। উৎপাদিত এসব সুতা ও জাল ঢাকা, খুলনা, বরিশাল, চট্টগ্রামের চাক্তাই, বাঁশখালী, কক্সবাজার, ফেনী ও টেকনাফসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের আড়ত ও ব্যবসায়ীদের কাছে সরবরাহ করা হয়।


প্রতি কেজি সুতা সাধারণত ৩০০ থেকে ৩৫০ টাকায় বিক্রি হয়, যার উৎপাদন খরচ পড়ে ২২ থেকে ২৫০ টাকা। এ কাজের সঙ্গে যুক্ত শ্রমিকরা প্রতি কেজিতে ৪০ থেকে ৮০ টাকা মজুরি পেয়ে থাকেন। একজন দক্ষ শ্রমিক দিনে গড়ে ৫০০ থেকে ৬০০ টাকা আয় করে নিজেদের জীবিকা নির্বাহ করতেন। তবে বর্ষা মৌসুমে উৎপাদন ব্যাহত হওয়ায় প্রতিবছরই নানা সংকটের মুখে পড়তে হয় তাদের। এবারকার ভয়াবহ বন্যা সেই সংকটকে চরম রূপ দিয়েছে।

বন্যার পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় গুদামজাত কাঁচামাল এবং সম্পূর্ণ নষ্ট হয়ে গেছে প্রস্তুতকৃত সুতা ও জাল। আকস্মিক এই বিপর্যয়ে কাজ ও আয় দুটোই হারিয়ে বিপাকে পড়েছেন শ্রমিকরা।

ক্ষতিগ্রস্ত শ্রমিকদের আক্ষেপ, বন্যার পানিতে আমাদের সব সুতা নষ্ট হয়ে গেছে। এখন কোনো কাজ নেই, আয়ও নেই। সরকারি বা বেসরকারি কোনো সহায়তা না পেয়ে পরিবার-পরিজন নিয়ে চরম কষ্টে দিন কাটাতে হচ্ছে।

সামিয়ারপাড়া চরকা শিল্পের সভাপতি মঞ্জুর আলম বলেন, এবারের ভয়াবহ বন্যায় আমাদের চরকা শিল্পে অপূরণীয় ক্ষতি হয়েছে। প্রায় ৭৫০টি পরিবার এখন অনাহারে-অর্ধাহারে দিন কাটাচ্ছে। শ্রমিকরা মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছেন। আমরা দ্রুত সরকারের পক্ষ থেকে জরুরি আর্থিক সহায়তা ও পুনর্বাসনের জোর দাবি জানাচ্ছি।

এ বিষয়ে সাতকানিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা খোন্দকার মাহমুদুল হাসান জানান,বন্যায় চরকা শিল্পের প্রায় ৩০০টি পরিবার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে আমরা প্রাথমিক তথ্য পেয়েছি। ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর তালিকা প্রস্তুতের জন্য সংশ্লিষ্ট দপ্তর কাজ করছে। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানিয়ে কুটির শিল্প সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন সংস্থার মাধ্যমে দ্রুত প্রয়োজনীয় সহায়তার ব্যবস্থা করা হবে।

স্থানীয় উদ্যোক্তা ও শ্রমিকদের দাবি, ঐতিহ্যবাহী এই কুটির শিল্পটিকে দ্রুত টিকিয়ে না রাখলে হাজারো মানুষের কর্মসংস্থান চিরতরে বন্ধ হয়ে যাবে। তাই সরকারি প্রণোদনা ও সহজ শর্তে ব্যাংক ঋণের মাধ্যমে পুনর্বাসন কর্মসূচি গ্রহণের জোরালো দাবি জানিয়েছেন তারা।


Loading...
Loading...

সারাদেশ- এর আরো খবর

Loading...
Loading...
© 2026 Daily Daily Bhorer Dak
সম্পাদক ও প্রকাশক : কে.এম. বেলায়েত হোসেন
৪-ডি, মেহেরবা প্লাজা, ৩৩ তোপখানা রোড, ঢাকা-১০০০ থেকে প্রকাশিত এবং মনিরামপুর প্রিন্টিং প্রেস ৭৬/এ নয়াপল্টন, ঢাকা থেকে মুদ্রিত। পিএবিএক্স: ৪১০৫২২৪৫, ৪১০৫২২৪৬, ০১৭৭৫-৩৭১১৬৭, বিজ্ঞাপন ও সার্কুলেশন: ৪১০৫২২৫৮
ই-মেইল : [email protected], [email protected]
ফলো করুন: