পরিবেশ সংরক্ষণ, খাল পুনঃখনন এবং সামাজিক উন্নয়নকে সমন্বিতভাবে এগিয়ে নেওয়ার ওপর গুরুত্বারোপ করে সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী বলেছেন, নতুন স্বপ্নের আধুনিক ও বাসযোগ্য বাংলাদেশ গড়তে বৃক্ষরোপণের কোনো বিকল্প নেই। তিনি বলেন, সরকারের উন্নয়ন পরিকল্পনার অংশ হিসেবে পরিবেশ ও কৃষির ভারসাম্য রক্ষায় দেশজুড়ে ব্যাপক বৃক্ষরোপণ ও খাল পুনর্জীবনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
মাগুরায় ১০ হাজার বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির উদ্বোধন করেছেন সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী। শনিবার (২৫ জুলাই) দুপুরে মাগুরা জেলা পুলিশ ও গ্রিন ভিউ সোশ্যাল মিডিয়ার উদ্যোগে মাগুরা পুলিশ লাইন্সে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কর্মসূচির উদ্বোধন করেন।
অনুষ্ঠানে মন্ত্রী বলেন, নতুন স্বপ্নের আধুনিক বাংলাদেশ গড়তে হলে পরিবেশ সংরক্ষণ ও সামাজিক উন্নয়নকে সমান গুরুত্ব দিতে হবে। দেশের খাল পুনঃখনন, ব্যাপক বৃক্ষরোপণ এবং মানুষের অধিকার নিশ্চিত করার মাধ্যমে একটি সমৃদ্ধ ও বাসযোগ্য বাংলাদেশ গড়ে তোলাই সরকারের লক্ষ্য।
তিনি বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব মোকাবিলায় বৃক্ষরোপণের বিকল্প নেই। প্রতিটি গাছকে পরিবারের সদস্যের মতো যত্ন নিতে হবে। বসতবাড়ির আশপাশ, পতিত জমি, নদীর তীর, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এবং সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের প্রাঙ্গণে ফলজ, বনজ ও ঔষধি গাছ লাগানোর আহ্বান জানান তিনি।
নিতাই রায় চৌধুরী আরও বলেন, দেশের খালগুলো পুনঃখননের মাধ্যমে কৃষি ও পরিবেশের ভারসাম্য ফিরিয়ে আনা হবে। খাল পুনর্জীবিত হলে কৃষি উৎপাদন বাড়বে এবং কৃষকরা সরাসরি উপকৃত হবেন। একই সঙ্গে শিক্ষা, স্বাস্থ্য, কৃষি ও পরিবেশ উন্নয়নে সরকার ধারাবাহিকভাবে কাজ করে যাচ্ছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
মাগুরা জেলা পুলিশ সুপার মোল্লা আজাদ হোসেনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন খুলনা রেঞ্জের ডিআইজি মোহাম্মদ মোস্তাফিজুর রহমান, জেলা প্রশাসক মোতাকাব্বীর আহমেদ, জেলা পরিষদ প্রশাসক আলি আহমেদ, পৌর বিএনপির সভাপতি মাসুদ হাসান খান কিজিল এবং গ্রিন ভিউ সোশ্যাল ডেভেলপমেন্টের সভাপতি মো. আশরাফুল আলম খান।
আয়োজকরা জানান, সরকারের পাঁচ বছরে ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির অংশ হিসেবে মাগুরা জেলা পুলিশ জেলায় ১০ হাজার গাছের চারা রোপণ করবে। এ কর্মসূচির মাধ্যমে পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা, সবুজায়ন বৃদ্ধি এবং জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলায় ভূমিকা রাখার আশা প্রকাশ করেন সংশ্লিষ্টরা।