নওগাঁর আত্রাই উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে সামান্য বৃষ্টিতেই ভয়াবহ জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হচ্ছে। এর সঙ্গে বেড়েছে মশা-মাছির উপদ্রব। হাসপাতালের বহির্বিভাগ, জরুরি বিভাগের সামনের অংশসহ বিভিন্ন স্থানে পানি জমে থাকায় রোগী, স্বজন ও চিকিৎসাসেবা নিতে আসা সাধারণ মানুষ চরম দুর্ভোগে পড়ছেন। বিশেষ করে রাতের বেলায় শিশু, বয়স্ক ও শারীরিকভাবে অসুস্থ রোগীদের জন্য পরিস্থিতি আরও কষ্টকর হয়ে উঠছে।
রোগীর স্বজনদের অভিযোগ, দীর্ঘসময় পানি জমে থাকায় মশা-মাছির উপদ্রব আশঙ্কাজনকভাবে বেড়েছে। এতে ডেঙ্গুসহ বিভিন্ন মশাবাহিত রোগ ছড়িয়ে পড়ার শঙ্কাও তৈরি হয়েছে। জলাবদ্ধতার কারণে অসুস্থ রোগীদের নিয়ে হাসপাতালের ভেতরে চলাচল করাও অত্যন্ত দুরূহ হয়ে পড়েছে।
জানা গেছে, হাসপাতাল চত্বরে পর্যাপ্ত ড্রেনেজ ব্যবস্থা না থাকায় বৃষ্টির পানি দ্রুত নিষ্কাশন হতে পারে না। ফলে সামান্য বৃষ্টিতেই হাসপাতাল এলাকার বিভিন্ন অংশ পানিতে তলিয়ে যায়।
হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসা কয়েকজন রোগী জানান, সরকারি এই হাসপাতালে প্রতিদিন শত শত মানুষ চিকিৎসাসেবা নিতে আসেন। কিন্তু অল্প বৃষ্টিতেই হাসপাতালের এমন বেহাল চিত্র অত্যন্ত হতাশাজনক। রোগীর স্বজন হাসান আলী বলেন, রোগী নিয়ে হাসপাতালে এসে দেখি চারদিকে পানি জমে আছে। হাসপাতালের মতো গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানে এমন পরিস্থিতি কোনোভাবেই কাম্য নয়।
স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, হাসপাতালের অভ্যন্তরে জলাবদ্ধতার সমস্যা দীর্ঘদিনের। বিষয়টি একাধিকবার সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জানানো হলেও স্থায়ী কোনো সমাধান হয়নি। তাদের দাবি, বর্ষা মৌসুমে রোগীদের দুর্ভোগ কমাতে দ্রুত ড্রেন সংস্কার, কার্যকর পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা এবং হাসপাতাল চত্বর উঁচুকরণের উদ্যোগ নিতে হবে।
উল্লেখ্য, ১৯৮০ সালে প্রতিষ্ঠিত আত্রাই উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সটি উপজেলার অন্যতম প্রধান সরকারি স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্র। প্রতিদিন এখানে শত শত রোগী চিকিৎসাসেবা গ্রহণ করেন। অতীতেও জনবল সংকট, অব্যবস্থাপনা ও বিভিন্ন অনিয়মের কারণে রোগীদের ভোগান্তির খবর প্রকাশিত হয়েছে।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে আত্রাই উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. খায়রুল আলম বলেন, জলাবদ্ধতার বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হয়েছে। সমস্যাটি গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে। স্থায়ী সমাধানের জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। আশা করছি, খুব দ্রুতই এ সমস্যার সমাধান হবে।