জামালপুরের মাদারগঞ্জ উপজেলায় অচেতন অবস্থায় উদ্ধার করা হয়েছে একই পরিবারের পাঁচ সদস্যকে। পরে তাদের উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, টিউবওয়েলের পানি অথবা খাবারের সঙ্গে কোনো কিছু মিশে যাওয়ায় এ ঘটনা ঘটতে পারে।
বৃহস্পতিবার রাতে উপজেলার ৪ নম্বর বালিজুড়ী ইউনিয়নের চরনাংলা গ্রামের প্রবাসী শাহ আলমের বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে।
হাসপাতালে ভর্তি ব্যক্তিরা হলেন— শাহ আলমের স্ত্রী রিনা আক্তার (৪০), বড় ছেলে রিপন ইসলাম (২৩), ছোট ছেলে রিমন (১৭), মেয়ে সাথী আক্তার এবং তিন বছর বয়সী নাতনি হুমাইরা।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, রিপন ইসলাম চরনাংলা বাঁধের মাথা বাজারে একটি দোকান পরিচালনা করেন। প্রতিদিন সকালে দোকান খুললেও বৃহস্পতিবার বিকেল গড়িয়ে গেলেও তিনি দোকান না খোলায় স্থানীয় ব্যবসায়ী ও ক্রেতাদের সন্দেহ হয়। পরে তারা রিপনের বাড়িতে গিয়ে পরিবারের সদস্যদের ঘরের ভেতরে অচেতন অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখেন। অনেক ডাকাডাকির পরও সাড়া না পেয়ে তাদের উদ্ধার করে রাত ৮টার দিকে মাদারগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়।
চেতনা ফিরে পাওয়ার পর রিনা আক্তার জানান, সকালে পরিবারের সবাই একসঙ্গে খাবার খেয়েছিলেন। খাবার খাওয়ার কিছুক্ষণ পর থেকেই তাদের মাথাব্যথা ও প্রচণ্ড ঘুম অনুভূত হতে থাকে। একপর্যায়ে সবাই ঘুমিয়ে পড়েন। এরপর কী ঘটেছে, তা তাদের মনে নেই।
মাদারগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের কর্তব্যরত মেডিকেল অফিসার ডা. জাকিয়া ইসলাম বলেন, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, খাবারের সঙ্গে কোনো কিছু মিশে যাওয়ার কারণে এ ঘটনা ঘটেছে। তবে বিষয়টি নিশ্চিত হতে তদন্ত ও প্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা হবে। বর্তমানে সবাই চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
উল্লেখ্য, প্রতিবেদনের শিরোনামে টিউবওয়েলের পানি পান করে অচেতন হওয়ার কথা উল্লেখ থাকলেও মূল প্রতিবেদনে চিকিৎসকের বক্তব্যে খাবারের সঙ্গে কিছু মেশার আশঙ্কার কথা বলা হয়েছে। তথ্যগত সামঞ্জস্য বজায় রাখতে বিষয়টি পুনরায় যাচাই করা প্রয়োজন।