গাইবান্ধার সাদুল্লাপুর উপজেলার রসুলপুর ইউনিয়নের মহিষবান্দী পূর্বপাড়া (দ্বীপ) এলাকার শতাধিক পরিবারের চলাচলের একমাত্র ভরসা একটি নড়বড়ে বাঁশের সাঁকো। সাঁকো পার হওয়ার পরও নেই কোনো পাকা বা কাঁচা রাস্তা। বাধ্য হয়ে কৃষিজমির আইল ধরে প্রায় ৫০০ মিটার হেঁটে প্রধান সড়কে পৌঁছাতে হয় এলাকাবাসীকে। এতে শিশু, শিক্ষার্থী, নারী ও বৃদ্ধসহ সব বয়সী মানুষ প্রতিদিন জীবনের ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করছেন।
স্থানীয়দের অভিযোগ, কয়েক যুগ ধরে এ এলাকায় শতাধিক পরিবার বসবাস করলেও নদীভাঙনের কারণে চারপাশ নদী ও খালে বেষ্টিত হয়ে তারা কার্যত নদীবন্দি হয়ে পড়েছেন। বর্ষা মৌসুমে তাদের দুর্ভোগ চরম আকার ধারণ করে। নড়বড়ে সাঁকো থেকে পড়ে আজিজার রহমান নামে এক ব্যক্তির মৃত্যুর ঘটনাও ঘটেছে বলে জানান তারা।
স্থানীয় বাসিন্দা মিয়াজ উদ্দিন বলেন, প্রতিদিন জীবনের ঝুঁকি নিয়ে সাঁকো পার হতে হয়। দ্রুত একটি রাস্তা ও সেতু নির্মাণ করা জরুরি।
স্কুলশিক্ষার্থী ওমর ফারুক মিয়া জানায়, ভাঙাচোরা সাঁকো পার হতে তার ভয় লাগে। এর আগে একবার সাঁকো থেকে পড়ে আহতও হয়েছে সে।
আরেক বাসিন্দা ফুল মিয়া বলেন, রাস্তা ও সেতুর অভাবে রাতে মাঠ পেরিয়ে বাড়ি ফিরতে হয়। যোগাযোগব্যবস্থার এমন দুরবস্থার কারণে ছেলে-মেয়েদের বিয়ের সম্বন্ধ করতেও সমস্যায় পড়তে হচ্ছে।
রসুলপুর ইউনিয়ন পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান বেলাল হোসেন বলেন, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে নিয়ে এলাকাটি পরিদর্শন করা হয়েছে। রাস্তা ও সেতু নির্মাণের বিষয়টি আবারও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে তুলে ধরা হবে।
সাদুল্লাপুর উপজেলা প্রকৌশলী মো. মেনাজ বলেন, এলাকায় রাস্তা ও সেতুর সমস্যা রয়েছে। বিষয়টি খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।