ক্রিস্টোফার নোলানের বহুল আলোচিত চলচ্চিত্র ‘দ্য ওডিসি’ বিশ্বজুড়ে বক্স অফিসে সাফল্যের ধারা অব্যাহত রাখার মধ্যেই নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছেন মার্কিন প্রযুক্তি উদ্যোক্তা ইলন মাস্ক। তিনি ঘোষণা দিয়েছেন, তার কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক টুল ‘গ্রোক ইমেজিন’ ব্যবহার করে হোমারের প্রাচীন গ্রিক মহাকাব্য ‘দ্য ওডিসি’ অবলম্বনে একটি পূর্ণদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র নির্মাণ করা হবে।
নিজস্ব সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স (সাবেক টুইটার)-এ দেওয়া এক পোস্টে মাস্ক জানান, চলতি বছরের শেষ নাগাদ—অস্কার মৌসুম শুরুর আগেই—এআই প্রযুক্তিতে নির্মিত চলচ্চিত্রটি প্রস্তুত হবে। তার দাবি, এটি হবে ‘ঐতিহাসিকভাবে সঠিক’ এবং হোমারের মূল শিল্পভাবনার প্রতি বিশ্বস্ত।
ঘোষণার সঙ্গে মাস্ক এক ব্যবহারকারীর তৈরি প্রায় তিন মিনিটের একটি এআই-জেনারেটেড ভিডিওও শেয়ার করেন। সেখানে তিনি লেখেন, বছরের শেষ হওয়ার আগেই গ্রোক ইমেজিন ‘দ্য ওডিসি’র পূর্ণাঙ্গ চলচ্চিত্র তৈরি করবে।
তবে মাস্কের এই মন্তব্য নিয়ে ইতোমধ্যেই বিতর্ক শুরু হয়েছে। কারণ প্রায় ২,৮০০ বছর পুরোনো এই মহাকাব্যে সাইক্লপস, বহু-মাথাওয়ালা দানব, জাদুকরী সির্সেসহ নানা পৌরাণিক চরিত্রের উপস্থিতি রয়েছে। ফলে এমন একটি কাহিনিকে কতটা ‘ঐতিহাসিকভাবে সঠিক’ভাবে উপস্থাপন করা সম্ভব, তা নিয়েই প্রশ্ন তুলছেন সমালোচকরা।
বিশ্লেষকদের মতে, মাস্কের ‘ঐতিহাসিকভাবে সঠিক’ মন্তব্যটি মূলত কাস্টিং বিতর্কের দিকেই ইঙ্গিত করে। নোলানের চলচ্চিত্রে হেলেন অব ট্রয় চরিত্রে কৃষ্ণাঙ্গ অভিনেত্রী লুপিতা নিওঙ্গোকে নেওয়ার সমালোচনা করেছিলেন তিনি। গত মার্চে মাস্ক দাবি করেছিলেন, নোলান ‘পুরস্কারের আশায়’ এমন সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। যদিও এ বিষয়ে নির্মাতাদের পক্ষ থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া দেওয়া হয়নি।
এ ছাড়া নোলানের ছবিতে অভিনয় করা ট্রান্সজেন্ডার অভিনেতা এলিয়ট পেজকে ঘিরেও সামাজিক মাধ্যমে বিতর্কিত মন্তব্যে সমর্থন জানিয়ে সমালোচনার মুখে পড়েছিলেন মাস্ক।
অন্যদিকে, সব বিতর্ক ছাপিয়ে ইউনিভার্সাল পিকচার্সের ব্যানারে নির্মিত নোলানের ‘দ্য ওডিসি’ বক্স অফিসে দুর্দান্ত সাফল্য অর্জন করেছে। মুক্তির উদ্বোধনী সপ্তাহান্তেই বিশ্বব্যাপী প্রায় ২৬৪ মিলিয়ন মার্কিন ডলার আয় করে ছবিটি নোলানের ক্যারিয়ারের সর্বোচ্চ আয়কারী চলচ্চিত্র হওয়ার পথে এগিয়ে যাচ্ছে।