পর্দায় ইশারার ভাষায় কিং কংয়ের সঙ্গে হৃদয়ছোঁয়া সম্পর্ক গড়ে দর্শকদের মুগ্ধ করেছিলেন কেলি হটল। কিন্তু বাস্তব জীবনের পথচলা থেমে গেল খুব অল্প বয়সেই। ‘গডজিলা ভার্সেস কং’ চলচ্চিত্রে ‘জিয়া’ চরিত্রে অভিনয় করে আন্তর্জাতিক পরিচিতি পাওয়া কোরিয়ান-আমেরিকান বধির অভিনেত্রী কেলি হটল যুক্তরাষ্ট্রে এক মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনায় মারা গেছেন। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল মাত্র ১৮ বছর। এই অকালপ্রয়াণে শোক নেমে এসেছে হলিউড ও তাঁর অসংখ্য ভক্তের মাঝে।
মঙ্গলবার (২১ জুলাই) ভোরে যুক্তরাষ্ট্রের মেরিল্যান্ড অঙ্গরাজ্যের ফ্রেডেরিক কাউন্টিতে এ দুর্ঘটনা ঘটে। স্থানীয় প্রশাসনের বরাত দিয়ে জানা গেছে, ভোর আনুমানিক ৩টার দিকে কেলি ও তাঁর দুই সঙ্গীকে বহনকারী একটি হোন্ডা অ্যাকর্ড নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে দুই লেনের সড়ক থেকে ছিটকে রাস্তার পাশের একটি কালভার্টে আছড়ে পড়ে।
দুর্ঘটনার পর গুরুতর আহত অবস্থায় কেলিকে দ্রুত এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে করে ট্রমা সেন্টারে নেওয়া হয়। তবে হাসপাতালে নেওয়ার পথেই তাঁর মৃত্যু হয় বলে চিকিৎসকেরা নিশ্চিত করেন। গাড়ির চালকসহ অপর দুই আরোহী আহত হলেও তাঁদের আঘাত প্রাণঘাতী নয়।
ফ্রেডেরিক কাউন্টি শেরিফ কার্যালয় জানিয়েছে, প্রাথমিক তদন্তে অতিরিক্ত গতিকে দুর্ঘটনার অন্যতম কারণ হিসেবে ধারণা করা হচ্ছে। ঘটনার বিস্তারিত তদন্ত চলছে।
জন্মগতভাবে শ্রবণপ্রতিবন্ধী কেলি হটল আমেরিকান সাইন ল্যাঙ্গুয়েজ (এএসএল) ব্যবহার করে যোগাযোগ করতেন। তাঁর পুরো পরিবারই বধির। মেয়ের মৃত্যুতে শোকাহত বাবা জোশুয়া হটল সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ইশারা ভাষায় আবেগঘন বার্তা প্রকাশ করেন।
তিনি বলেন, কাইলির মা এবং তার চার ভাইবোন সম্পূর্ণ ভেঙে পড়েছে। আমি এখন মেরিল্যান্ডে যাচ্ছি, মেয়ের মরদেহ বাড়িতে নিয়ে আসার জন্য।
মেয়েকে হারানোর অসহনীয় কষ্টের মধ্যেও দুর্ঘটনায় আহত ১৯ বছর বয়সী চালকের প্রতি ক্ষমাশীলতার বার্তা দেন তিনি। জোশুয়া বলেন, আমি তোমাকে ক্ষমা করে দিয়েছি। এই দুর্ঘটনাকে তোমার বাকি জীবন নষ্ট করতে দিও না।
জর্জিয়ার আটলান্টায় জন্ম নেওয়া কেলি হটলের বাবা ছিলেন আমেরিকান এবং মা কোরিয়ান। তিনি টেক্সাস স্কুল ফর দ্য ডেফের দ্বাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিলেন।
‘গডজিলা ভার্সেস কং’ চলচ্চিত্রে ‘জিয়া’ চরিত্রে অভিনয়ের মাধ্যমে বড় পর্দায় অভিষেক হয় কেলির। শ্রবণপ্রতিবন্ধী এতিম শিশু জিয়ার চরিত্রে তাঁর অভিনয় দর্শকদের প্রশংসা কুড়ায়। পরে ‘গডজিলা এক্স কং: দ্য নিউ এম্পায়ার’ চলচ্চিত্রেও একই চরিত্রে অভিনয় করেন তিনি। এ ছবিতে অভিনয়ের জন্য ২০২৪ সালের স্যাটার্ন অ্যাওয়ার্ডসে তরুণ অভিনয়শিল্পীর সেরা পারফরম্যান্স বিভাগে মনোনয়ন পেয়েছিলেন এই উদীয়মান অভিনেত্রী।