টানা বৃষ্টিতে দিনাজপুরে মরিচের বাজারে আগুন

অনলাইন ডেস্ক

সারাদেশ

টানা বৃষ্টিতে মরিচের ক্ষেত ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় দিনাজপুরের বাজারে কাঁচামরিচের দামে বড় ধরনের ঊর্ধ্বগতি দেখা দিয়েছে। মাত্র এক সপ্তাহের ব্যবধানে প্রতি

2026-07-22T15:44:33+00:00
2026-07-22T15:44:33+00:00
  বুধবার, ২২ জুলাই ২০২৬,
৭ শ্রাবণ ১৪৩৩
 
বুধবার, ২২ জুলাই ২০২৬
সারাদেশ
টানা বৃষ্টিতে দিনাজপুরে মরিচের বাজারে আগুন
অনলাইন ডেস্ক
বুধবার, ২২ জুলাই, ২০২৬, ৩:৪৪ পিএম 
সংগৃহীত ছবি
টানা বৃষ্টিতে মরিচের ক্ষেত ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় দিনাজপুরের বাজারে কাঁচামরিচের দামে বড় ধরনের ঊর্ধ্বগতি দেখা দিয়েছে। মাত্র এক সপ্তাহের ব্যবধানে প্রতি কেজিতে ১৩০ টাকা বেড়ে বর্তমানে কাঁচামরিচ বিক্রি হচ্ছে ২৫০ টাকা দরে। উৎপাদন কমে যাওয়া ও বাজারে সরবরাহ সংকটকে এই মূল্যবৃদ্ধির প্রধান কারণ হিসেবে দেখছেন কৃষক, ব্যবসায়ী ও কৃষি কর্মকর্তারা।

বুধবার (২২ জুলাই) সকালে দিনাজপুর শহরের বাহাদুর বাজার, সুইহারী, রামনগর, উপশহর ও পুলহাট বাজার ঘুরে দেখা যায়, কাঁচামরিচের পাশাপাশি অন্যান্য নিত্যপ্রয়োজনীয় সবজির দামও বেড়েছে। বর্তমানে পটল ৫০ টাকা, ঢ্যাঁড়স ৫০ টাকা এবং শসা ১০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।

ব্যবসায়ীরা জানান, প্রায় এক সপ্তাহের টানা বৃষ্টিতে দিনাজপুরসহ আশপাশের জেলার মরিচের ক্ষেত নষ্ট হয়ে যাওয়ায় বাজারে সরবরাহ কমেছে। চাহিদার তুলনায় আমদানি ও স্থানীয় উৎপাদন—দুটিই কম থাকায় দাম বেড়েছে। যদিও ভারত থেকে কাঁচামরিচ আমদানির জন্য এলসি খোলা হয়েছে, তবে সেই চালান আগামী শনিবারের আগে দেশে পৌঁছাবে না। এছাড়া আমদানিকৃত মরিচের বেশিরভাগই ঢাকাসহ বড় আড়তে চলে যাওয়ায় দিনাজপুরের বাজারে এর প্রভাব তেমন পড়ে না।

বাহাদুর বাজারে কেনাকাটা করতে আসা আতাউর রহমান বলেন, আগে এক পোয়া মরিচ কিনলেও এখন ২৫ টাকায় মাত্র ১০০ গ্রাম মরিচ কিনতে হচ্ছে। এভাবে দাম বাড়তে থাকলে সাধারণ মানুষের জন্য সংসার চালানো কঠিন হয়ে পড়বে।

বিরামপুরের ব্যবসায়ী কুদ্দুস আলী বলেন, কয়েক দিনের বৃষ্টিতে মরিচ নষ্ট হয়ে গেছে। বাজারে পর্যাপ্ত সরবরাহ না থাকায় বেশি দামে মরিচ কিনে এনে বিক্রি করতে হচ্ছে।

কৃষকরাও বলছেন, অতিবৃষ্টি ও তাপমাত্রার তারতম্যে মরিচগাছের পাতা ঝরে যাচ্ছে এবং গাছ মারা যাচ্ছে। ফলে ফলন আশঙ্কাজনকভাবে কমে গেছে। ফুলবাড়ী উপজেলার কৃষক জনাব আলী জানান, ১০ কাঠা জমি থেকে ১৫ দিন পর মাত্র ২০ কেজি মরিচ পেয়েছেন। সদর উপজেলার কৃষক জুয়েল ইসলাম বলেন, ৫০ শতক জমিতে প্রায় এক লাখ টাকা খরচ করেও ফলন কম হওয়ায় লোকসানের মুখে পড়েছেন।

দিনাজপুর কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের অতিরিক্ত উপপরিচালক মো. আনিছুজ্জামান জানান, চলতি খরিফ-১ মৌসুমে জেলায় ৬৬৮ হেক্টর জমিতে মরিচের আবাদ হয়েছে এবং উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ১ হাজার ৭৩২ টন। একই সঙ্গে খরিফ-২ মৌসুমে ১০৩ হেক্টর জমিতে নতুন করে মরিচ চাষ শুরু হচ্ছে।

দিনাজপুর কৃষি বিপণন অধিদপ্তরের সিনিয়র কর্মকর্তা রবিউল হাসান বলেন, লাগাতার বৃষ্টিতে মরিচের ক্ষেত ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় উৎপাদন কমেছে। এর সরাসরি প্রভাব বাজারে পড়েছে এবং কাঁচামরিচের দাম ধারাবাহিকভাবে বাড়ছে।


Loading...
Loading...

সারাদেশ- এর আরো খবর

Loading...
Loading...
© 2026 Daily Daily Bhorer Dak
সম্পাদক ও প্রকাশক : কে.এম. বেলায়েত হোসেন
৪-ডি, মেহেরবা প্লাজা, ৩৩ তোপখানা রোড, ঢাকা-১০০০ থেকে প্রকাশিত এবং মনিরামপুর প্রিন্টিং প্রেস ৭৬/এ নয়াপল্টন, ঢাকা থেকে মুদ্রিত। পিএবিএক্স: ৪১০৫২২৪৫, ৪১০৫২২৪৬, ০১৭৭৫-৩৭১১৬৭, বিজ্ঞাপন ও সার্কুলেশন: ৪১০৫২২৫৮
ই-মেইল : [email protected], [email protected]
ফলো করুন: