বিশ্বকাপজয়ী আর্জেন্টাইন মিডফিল্ডার অ্যালেক্সিস ম্যাক অ্যালিস্টার সমালোচক ও বিদ্রূপকারীদের উদ্দেশে কড়া বার্তা দিয়েছেন। কঠিন সময় ও নানা প্রতিকূলতার মধ্যে যারা আর্জেন্টিনা দল এবং খেলোয়াড়দের কষ্ট দেখে আনন্দ পেয়েছেন, তাদের উদ্দেশে ব্যঙ্গাত্মক ভঙ্গিতে ‘ধন্যবাদ’ জানিয়ে তিনি বলেন, সেই অভিজ্ঞতাই দলকে আরও শক্তিশালী করেছে এবং সাফল্যের পথে এগিয়ে যেতে অনুপ্রাণিত করেছে।
বিশ্বকাপ ফাইনালে স্পেনের কাছে আর্জেন্টিনার পরাজয়ের পর যে খেলোয়াড়েরা প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন, সেই তালিকায় এবার যুক্ত হলেন অ্যালেক্সিস ম্যাক অ্যালিস্টার।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক আবেগঘন বার্তায় তিনি যেমন সমর্থকদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন, তেমনি আলবিসেলেস্তেদের সমালোচকদেরও দিয়েছেন কড়া জবাব।
বিশ্বকাপের রানার্সআপ ট্রফি নিয়ে জাতীয় দলের অন্য সদস্যদের সঙ্গে আর্জেন্টিনায় ফেরার পর লিভারপুল মিডফিল্ডার ম্যাক অ্যালিস্টার ইনস্টাগ্রামে নিজের অনুভূতি প্রকাশ করেন। সেখানে তিনি সমর্থকদের অকৃত্রিম সমর্থনের জন্য ধন্যবাদ জানান এবং ভবিষ্যতের জন্য ঐক্য ও ঘুরে দাঁড়ানোর বার্তা দেন।
বিশ্বকাপ ফাইনাল হারের পর এক ইনস্টাগ্রাম পোস্টে ম্যাক অ্যালিস্টার লেখেন, ‘আমরা জয়ের খুব কাছাকাছি ছিলাম... আর তাই কষ্টটাও এত বেশি। কিন্তু এই বিশ্বকাপে আমরা যা কিছু অভিজ্ঞতা লাভ করেছি, তা আমাদের কাছ থেকে কেউ কেড়ে নিতে পারবে না।
আপনারা আমাদের যা অনুভব করিয়েছেন, তা ছিল অসাধারণ। আমাদের অনেক ভুগতে হয়েছে, প্রতিকূলতার মুখোমুখি হতে হয়েছে, তবে আমরা সবাই একত্রে তা অতিক্রম করেছি। দয়া করে এই জিনিসটি কখনো ভুলবেন না: একসঙ্গে আমরা অন্য যে কারো চেয়ে বেশি শক্তিশালী।’
২০২২ সালের বিশ্বকাপজয়ী এই তারকা মেটলাইফ স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত ফাইনালের একটি ছবি যুক্ত করে এই পোস্টটি করেন।
পুরো টুর্নামেন্টে আর্জেন্টিনার আটটি ম্যাচের সাতটিতেই মূল একাদশে খেলা এই মিডফিল্ডার এমন দুটি মুহূর্তের কথা উল্লেখ করেন, যা তার হৃদয়ে আজীবন স্মরণীয় হয়ে থাকবে।
তিনি লেখেন, ‘২০২২ সালের সেই দিনটির কথা আমি কখনো ভুলব না, যখন আমরা বুয়েনস আইরেসের রাস্তায় বিশ্বকাপ ট্রফি নিয়ে উদযাপন করেছিলাম। ঠিক তেমনি এই টুর্নামেন্টও আমাদের এমন কিছু অবিস্মরণীয় মুহূর্ত উপহার দিয়েছে, যা সমর্থক ও জাতীয় দলের মধ্যকার অবিশ্বাস্য বন্ধনকে প্রকাশ করে।’
হৃদয়ভাঙ্গা পরাজয় সত্ত্বেও আর্জেন্টাইন ভক্তদের অবিচল সমর্থনের কথা স্মরণ করে তিনি বিশেষভাবে প্রশংসা জানান।
‘প্রথম মুহূর্তটি ছিল যখন আমরা রানার্সআপ পদক গ্রহণ করছিলাম এবং স্টেডিয়ামের ভেতরের আর্জেন্টাইন সমর্থকেরা গলার সবটুকু জোর দিয়ে গান গাইতে শুরু করেছিল। আমাদের পরিবার, বন্ধু ও সমর্থকদের এই ভালোবাসা অন্য সব উদযাপনকে আড়াল করে দিয়েছিল।
আর দ্বিতীয়টি ছিল বুয়েনস আইরেসে আমাদের দেওয়া উষ্ণ অভ্যর্থনা। বৃষ্টি আর প্রচণ্ড ঠান্ডা সত্ত্বেও আমাদের দেশ ও দলের প্রতি ভালোবাসাকে কোনো কিছুই ম্লান করতে পারেনি।
আমার ভাষা ক্ষমার দৃষ্টিতে দেখবেন, তবে আপনারা সত্যিই পাগল—আর এই পাগলামির জন্যই আমরা আপনাদের এতটা ভালোবাসি!’ ২৭ বছর বয়সি এই ফুটবলার তার মা মারিয়া সিলভিনা রিয়েলার একটি স্মৃতি থেকে অনুপ্রেরণা নিয়ে সমর্থকদের আশার আলোও দেখিয়েছেন।
‘আসুন আমরা কাঁদি, কারণ আমরা আর্জেন্টাইন এবং আমরা সবসময় জিততে চাই। কিন্তু কাঁদার পর চলুন আবার উঠে দাঁড়াই, ঐক্যবদ্ধ থাকি এবং সামনে এগিয়ে যাই; কারণ এই যাত্রা এখানেই শেষ নয়। আমার মা আমাকে একটি পুরনো প্রবাদের কথা মনে করিয়ে দিয়েছেন: যে খেলা আপনাকে পুনরায় সুযোগ (রিভেঞ্জ) দেওয়ার প্রস্তাব দেয়, তাকে কখনো ভয় পেয়ো না।’
চিঠির শেষাংশে টুর্নামেন্টজুড়ে দলকে সমর্থন দেওয়ার জন্য সবাইকে ধন্যবাদ জানান এই আর্জেন্টাইন। একই সঙ্গে আর্জেন্টিনার পরাজয়ে যারা আনন্দ প্রকাশ করেছিল, তাদের উদ্দেশ্য করে একটি তীক্ষ্ণ বার্তা দেন।
ম্যাক অ্যালিস্টার বলেন, ‘আমাদের পরিবার, বন্ধু, জাতীয় দলের নেপথ্যে কাজ করা প্রতিটি কর্মী এবং ভালোবাসা ও সমর্থন জানিয়ে বার্তা পাঠানো প্রতিটি আর্জেন্টাইনের প্রতি আমার অশেষ কৃতজ্ঞতা। আমাদের কাছে আপনারা কতটা গুরুত্বপূর্ণ, তা হয়তো আপনারা ধারণাও করতে পারবেন না।
আর হ্যাঁ, আমি অন্য দেশের সেই সব মানুষদেরও ধন্যবাদ জানাতে চাই, যারা আমাদের নিয়ে ট্রোল করেছেন কিংবা আমাদের কষ্ট উপভোগ করেছেন। আপনারা হয়তো বুঝতেও পারছেন না, কিন্তু আপনাদের এই আচরণ প্রতিদিন আমাদের একজন আর্জেন্টাইন হিসেবে আরও বেশি গর্বিত করে তোলে।’ সূত্র: মার্কা