শুরুতেই কঠিন পরীক্ষা। অনূর্ধ্ব-২০ হকি এশিয়া কাপে নিজেদের প্রথম ম্যাচেই স্বাগতিক চীনের মুখোমুখি হচ্ছে বাংলাদেশ। তবে শক্তিশালী প্রতিপক্ষের চেয়ে বাংলাদেশের কাছে ম্যাচটির গুরুত্ব আরও বেশি—কারণ টুর্নামেন্টের সেরা ছয়ে থাকতে পারলেই মিলবে অনূর্ধ্ব-২০ হকি বিশ্বকাপের টিকিট।
আগামীকাল চীনের মকিতে বাংলাদেশ সময় বেলা ৩টায় শুরু হবে ম্যাচটি। বিশ্বকাপের স্বপ্ন পূরণে তাই প্রথম ম্যাচেই জয় তুলে নিতে মরিয়া বাংলাদেশ।
স্বাগতিক চীনকে হারাতে পারলে পরের ধাপের পথ কিছুটা সহজ হবে বলে মনে করছেন বাংলাদেশ অধিনায়ক মাহমুদ হাসান। তাঁর মতে, প্রথম ম্যাচের জয় দলকে পরবর্তী পর্বে তুলনামূলক সুবিধাজনক অবস্থানে রাখবে।
মাহমুদ হাসান বলেন, দলের সবার লক্ষ্য একটাই—চীনকে হারিয়ে বিশ্বকাপের পথে এগিয়ে যাওয়া। প্রথম ম্যাচে জয় পেলে পরের ধাপে তুলনামূলক সহজ প্রতিপক্ষ পাওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হবে।
টুর্নামেন্টের প্রস্তুতির জন্য কয়েক দিন আগেই চীনে পৌঁছেছে বাংলাদেশ দল। মকির আবহাওয়া ও মাঠের কন্ডিশনের সঙ্গে মানিয়ে নিতে নিয়মিত অনুশীলনের পাশাপাশি জাপানের বিপক্ষে একটি প্রস্তুতি ম্যাচও খেলেছে তারা।
আজ শেষ হয়েছে দলের আনুষ্ঠানিক অনুশীলন। স্বস্তির বিষয়, স্কোয়াডের সব খেলোয়াড়ই পুরোপুরি ফিট রয়েছেন। নেই কোনো চোটের সমস্যা।
প্রস্তুতি নিয়ে সন্তুষ্ট অধিনায়ক মাহমুদ হাসানও। জাপানের বিপক্ষে প্রস্তুতি ম্যাচটি খেলোয়াড়দের নিজেদের আরও ভালোভাবে প্রস্তুত করতে সহায়তা করেছে বলে জানান তিনি।
বাংলাদেশের প্রস্তুতি অন্য দলগুলোর তুলনায় কম হওয়ায় চীনের বিপক্ষে ম্যাচটি কঠিন হবে বলে মনে করছেন দক্ষিণ আফ্রিকান কোচ জাইলস বোনেট।
তাঁর মতে, চীন যেখানে ঘরের মাঠে শিরোপার লক্ষ্য নিয়ে খেলতে নামছে, সেখানে বাংলাদেশের মূল লক্ষ্য বিশ্বকাপে জায়গা করে নেওয়া। তাই নিজেদের দলগত কাঠামো ঠিক রেখে যতটা সম্ভব দীর্ঘ সময় চীনের সঙ্গে লড়াই করে যেতে চান তিনি।
কোচ বলেন, অন্য দলগুলোর তুলনায় বাংলাদেশের প্রস্তুতি ভিন্ন হওয়ায় ম্যাচটি কঠিন হবে। চীন চ্যাম্পিয়ন হওয়ার লক্ষ্য নিয়ে খেলছে, আর বাংলাদেশ এসেছে বিশ্বকাপে জায়গা করে নিতে। তাই ভালো ফলের জন্য নিজেদের দলগত কাঠামোর ওপরই সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিতে হবে।
শক্তির বিচারে চীনের চেয়ে বেশ পিছিয়ে বাংলাদেশ। এশিয়ায় বাংলাদেশের অবস্থান সপ্তম। অন্যদিকে চীন, পাকিস্তান ও মালয়েশিয়া রয়েছে র্যাঙ্কিংয়ে এগিয়ে।
এই বাস্তবতা মাথায় রেখে চীনের বিপক্ষে বাংলাদেশকে আন্ডারডগ হিসেবেই দেখছেন কোচ বোনেট। তাঁর মতে, র্যাঙ্কিং ও শক্তির বিচারে স্বাভাবিকভাবেই চীনের জয়ের সম্ভাবনা বেশি।
তবে অসম্ভব প্রত্যাশা না করে নিজেদের সামর্থ্য অনুযায়ী লড়াই করাই বাংলাদেশের লক্ষ্য বলে জানান তিনি।
বোনেট বলেন, স্বাভাবিক সমীকরণে চীনেরই জেতার কথা। বাংলাদেশ এশিয়ার সপ্তম দল এবং র্যাঙ্কিং পয়েন্টের দিক থেকেও চীন, পাকিস্তান ও মালয়েশিয়ার পেছনে। তাই আন্ডারডগ হিসেবেই মাঠে নামবে দল। তবে বাস্তবতা মাথায় রেখে শেষ পর্যন্ত লড়াই করে যেতে চান তাঁরা।
বিশ্বকাপের টিকিট পাওয়ার লড়াইয়ে তাই চীনের বিপক্ষে ম্যাচটিই বাংলাদেশের জন্য হতে যাচ্ছে বড় পরীক্ষা। কঠিন এই পরীক্ষায় জয় তুলে নিয়ে বিশ্বকাপের পথে কতটা এগোতে পারে মাহমুদ হাসানের দল, এখন সেটিই দেখার।