ঘরের মাঠ ন্যু ক্যাম্পে রায়ো ভায়েকানোর বিপক্ষে বার্সেলোনার ৫-২ গোলের দাপুটে জয়ের রাতে নতুন ইতিহাস লিখেছেন লামিনে ইয়ামাল। মাত্র ১৯ বছর ৪৯ দিন বয়সে স্প্যানিশ ফুটবলে ৫০ গোলের মাইলফলক ছুঁয়ে একাধিক রেকর্ড নিজের করে নিয়েছেন বার্সার এই তরুণ তারকা।
ম্যাচের শুরুটা অবশ্য বার্সার জন্য ছিল অস্বস্তির। ১২তম মিনিটে সের্হিও ক্যামেলোর গোলে এগিয়ে যায় রায়ো ভায়েকানো। তবে দ্রুতই ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নিজেদের হাতে তুলে নেয় হান্সি ফ্লিকের দল।
১৯তম মিনিটে রাফিনিয়ার গোলে সমতায় ফেরে বার্সেলোনা। মাত্র দুই মিনিট পরই ইয়ামালের গোলে ২-১ ব্যবধানে এগিয়ে যায় স্বাগতিকরা। চলতি মৌসুমে এটাই ছিল তরুণ এই উইঙ্গারের প্রথম গোল।
দ্বিতীয়ার্ধে আরও আগ্রাসী হয়ে ওঠে বার্সা। ইয়ামাল ও রাফিনিয়া দুজনেই নিজেদের জোড়া গোল পূর্ণ করেন। এর মাঝে রায়োর ফ্লোরিয়ান লেজেউনের আত্মঘাতী গোলে ব্যবধান আরও বাড়ে। রায়োর হয়ে দ্বিতীয় গোলটি করেন ক্যামেলো।
এই জয়ের ফলে লিগে টানা তিন জয় পেল বার্সেলোনা। শেষ তিন ম্যাচে প্রতিপক্ষের জালে ১২ গোল করেছে ফ্লিকের দল।
তবে দলের জয়ের চেয়েও বড় হয়ে উঠেছে ইয়ামালের ব্যক্তিগত অর্জন। ১৯ বছর ৪৯ দিন বয়সে স্প্যানিশ ফুটবলে ৫০ গোল করে তিনি পেছনে ফেলেছেন রিয়াল মাদ্রিদের কিংবদন্তি রাউল গঞ্জালেসকে। রাউল এই মাইলফলকে পৌঁছেছিলেন ১৯ বছর ২৪৯ দিন বয়সে। অ্যাটলেটিকো মাদ্রিদের সাবেক তারকা ফার্নান্দো তোরেসও এখন ইয়ামালের পেছনে।
বার্সেলোনার ক্লাব ইতিহাসেও নতুন অধ্যায় লিখেছেন ইয়ামাল। ১৯৩৫ সালে ২০ বছর ৩৫৬ দিন বয়সে ৫০ গোল করে যে রেকর্ড গড়েছিলেন প্রয়াত ফরোয়ার্ড জোসেফ এসকোলা, প্রায় ৯১ বছর পর সেই রেকর্ড ভেঙে দিলেন ইয়ামাল।
শুধু তাই নয়, বার্সেলোনার সর্বকালের সেরা তারকা লিওনেল মেসিও এত কম বয়সে ৫০ গোলের মাইলফলক ছুঁতে পারেননি। মেসির ৫০তম গোল এসেছিল ২১ বছর ১২০ দিন বয়সে।
ইউরোপের শীর্ষ পাঁচ লিগের হিসাবেও নতুন কীর্তি গড়েছেন ইয়ামাল। সবচেয়ে কম বয়সে ৫০ গোলের রেকর্ডে তিনি ছাড়িয়ে গেছেন কিলিয়ান এমবাপ্পে ও আর্লিং হাল্যান্ডকে। এমবাপ্পে ১৯ বছর ২৪১ দিন এবং হাল্যান্ড ২০ বছর ১৯৬ দিন বয়সে ৫০ গোল করেছিলেন।
বার্সেলোনার হয়ে এখন পর্যন্ত সব প্রতিযোগিতা মিলিয়ে ১৫৪ ম্যাচ খেলেছেন ইয়ামাল। এর মধ্যে ১২৬ ম্যাচে ছিলেন শুরুর একাদশে। গোল করেছেন ৫১টি, আর সতীর্থদের দিয়ে করিয়েছেন আরও ৪৫টি।
মাত্র ১৯ বছর বয়সেই একের পর এক রেকর্ড নিজের করে নেওয়া ইয়ামাল যেন জানান দিচ্ছেন—বার্সেলোনার ভবিষ্যৎ তার হাতেই লেখা হচ্ছে।