আর্জেন্টিনা জাতীয় দলের জার্সিতে আর মাঠে নামবেন না লিওনেল মেসি। আন্তর্জাতিক ফুটবল থেকে সরে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছেন বিশ্বকাপজয়ী এই মহাতারকা। তবে জাতীয় দলকে বিদায় বললেও ফুটবল থেকে এখনই দূরে সরে যাচ্ছেন না ৩৯ বছর বয়সী মেসি। বরং মাঠের বাইরেও ফুটবলের সঙ্গে দীর্ঘমেয়াদি সম্পর্ক ধরে রাখার প্রস্তুতি নিচ্ছেন তিনি।
বর্তমানে ইন্টার মায়ামির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ খেলোয়াড় মেসি। বয়স বাড়লেও তাঁর পারফরম্যান্সে ভাটা পড়েনি। সর্বশেষ ম্যাচেই একাই চার গোল করে নিজের সামর্থ্যের প্রমাণ দিয়েছেন আর্জেন্টাইন ফরোয়ার্ড। এমএলএসে ১৮ গোল নিয়ে এখন পর্যন্ত আসরের সর্বোচ্চ গোলদাতাও তিনি।
মেসির বর্তমান পারফরম্যান্স বলছে, মাঠে তাঁর দেওয়ার মতো আরও অনেক কিছু রয়েছে। তবে খেলোয়াড়ি জীবনের শেষটা কবে হবে, সেটি এখন বয়স কিংবা চুক্তির হিসাবের চেয়ে মেসির নিজের সিদ্ধান্তের ওপরই বেশি নির্ভর করছে।
ইন্টার মায়ামির সঙ্গে মেসির বর্তমান চুক্তির মেয়াদ ২০২৮ সালের শেষ পর্যন্ত। ফলে চুক্তি অনুযায়ী ২০২৭-২৮ এমএলএস মৌসুমেও তাঁকে মাঠে দেখা যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। মায়ামি যদি কনকাকাফ চ্যাম্পিয়নস লিগের পরবর্তী আসরে জায়গা করে নেয়, সেখানেও শিরোপার লড়াইয়ে মেসিকে দেখা যেতে পারে।
তবে চুক্তির মেয়াদ শেষ না হওয়া পর্যন্ত খেলতেই হবে—এমন কোনো বাধ্যবাধকতা নেই। নিজের ক্যারিয়ারের ইতি টানার সঠিক সময় মেসি নিজেই ঠিক করবেন। চাইলে ২০২৮ সালের আগেই খেলোয়াড়ি জীবন থেকে সরে দাঁড়াতে পারেন তিনি।
অবসরের সিদ্ধান্ত নিলেও ইন্টার মায়ামির সঙ্গে মেসির সম্পর্ক পুরোপুরি শেষ হওয়ার সম্ভাবনা কম। জানা গেছে, আগেভাগে অবসর নিলে তাঁকে ক্লাবের অন্য কোনো গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে যুক্ত রাখার বিষয়টি বিবেচনা করতে পারে মায়ামি কর্তৃপক্ষ। অর্থাৎ মাঠের মেসি বিদায় নিলেও ক্লাবটির দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনায় তাঁর উপস্থিতি থাকতে পারে।
শুধু ইন্টার মায়ামিকে ঘিরেই ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা করছেন না মেসি। ফুটবলের সঙ্গে দীর্ঘমেয়াদি সম্পর্ক ধরে রাখতে মাঠের বাইরেও একাধিক প্রকল্পে যুক্ত হয়েছেন তিনি।
চলতি বছর স্পেনের তৃতীয় বিভাগের ক্লাব ইউনিয়ন এস্পোর্তিভো কর্নেলার মালিকানাও কিনেছেন মেসি। পাশাপাশি লিওনেস এফসিকে ঘিরে রয়েছে তাঁর পারিবারিক প্রকল্প। উরুগুয়ের এলএসএমেও ঘনিষ্ঠ বন্ধু ও সাবেক সতীর্থ লুইস সুয়ারেজের সঙ্গে তাঁর সংযোগ রয়েছে।
সব মিলিয়ে আর্জেন্টিনা জাতীয় দলের অধ্যায় শেষ হলেও ফুটবলের সঙ্গে মেসির সম্পর্ক শেষ হচ্ছে না। খেলোয়াড় হিসেবে কবে বুটজোড়া তুলে রাখবেন, সেটিই এখন সবচেয়ে বড় প্রশ্ন। তবে অবসরের পরও ফুটবলের সঙ্গে তাঁকে অন্য কোনো ভূমিকায় দীর্ঘ সময় দেখা যাওয়ার সম্ভাবনা ক্রমেই স্পষ্ট হচ্ছে।