দিনাজপুরের ঘোড়াঘাট উপজেলার বুলাকিপুর ইউনিয়নের কুলানন্দনপুর নাপিতপাড়া এলাকায় করতোয়া নদীর অব্যাহত ভাঙনে সরকারের নির্মিত একটি আশ্রয়ণ প্রকল্পসহ শতাধিক পরিবারের বসতবাড়ি বিলীন হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। নদীর তীব্র স্রোত ও টানা বর্ষণে ভাঙন দ্রুত বিস্তার লাভ করায় চরম উৎকণ্ঠায় দিন কাটছে নদীপাড়ের বাসিন্দাদের।
স্থানীয়রা জানান, গত দুই থেকে তিন সপ্তাহে নদীভাঙনের গতি আশঙ্কাজনকভাবে বেড়েছে। নদীর পাড় ধসে আশ্রয়ণ প্রকল্পের ঘরগুলোর একেবারে কাছে চলে এসেছে। ইতোমধ্যে পাশের কয়েকটি ঘর নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে বলে দাবি করেছেন বাসিন্দারা। বড় ধরনের ধস নামলে পুরো আশ্রয়ণ প্রকল্প এবং আশপাশের অসংখ্য বসতবাড়ি মুহূর্তেই নদীতে তলিয়ে যেতে পারে বলে আশঙ্কা তাদের।
সরেজমিনে দেখা গেছে, নদীর তীরে বড় বড় ফাটল সৃষ্টি হয়েছে। কোথাও সামান্য বৃষ্টিতেই মাটি ধসে পড়ছে নদীতে। ঝুঁকির কারণে শিশুদের চলাচল সীমিত হয়ে পড়েছে। অনেক পরিবার প্রয়োজনীয় মালামাল গুছিয়ে রেখেছে, যাতে প্রয়োজনে দ্রুত নিরাপদ স্থানে সরে যেতে পারে।
আশ্রয়ণ প্রকল্পের বাসিন্দা আদরী রাণী বলেন, সরকারের দেওয়া ঘরই তাদের একমাত্র সম্বল। আগে এ এলাকায় আরও কয়েকটি ঘর থাকলেও সেগুলো নদীতে বিলীন হয়েছে। এখন প্রতিদিন আতঙ্ক নিয়ে বসবাস করতে হচ্ছে।
একই প্রকল্পের বাসিন্দা সুরাইয়া বেগম বলেন, ঘর সরিয়ে নেওয়ার সুযোগ নেই, আবার নতুন করে ঘর নির্মাণেরও সামর্থ্য নেই। নদীভাঙন অব্যাহত থাকায় যেকোনো সময় গৃহহীন হয়ে পড়ার শঙ্কায় রয়েছেন তারা।
আরেক বাসিন্দা বিলকিস আক্তার বলেন, বর্ষা শুরু হলেই ভয় বেড়ে যায়। রাতে ঠিকমতো ঘুমাতে পারেন না। দ্রুত নিরাপদ স্থানে পুনর্বাসনের দাবি জানান তিনি।
স্থানীয়দের অভিযোগ, করতোয়া নদীতে দীর্ঘদিন ধরে ভাঙন চললেও স্থায়ী প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা গড়ে তোলা হয়নি। প্রতিবছর বর্ষা মৌসুমে একই দুর্ভোগের শিকার হতে হচ্ছে। তারা জরুরি ভিত্তিতে নদীতীর সংরক্ষণ, ভাঙনরোধে স্থায়ী প্রকল্প বাস্তবায়ন এবং ঝুঁকিপূর্ণ পরিবারগুলোকে নিরাপদ স্থানে পুনর্বাসনের দাবি জানান।
এ বিষয়ে ঘোড়াঘাট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মিজ রুবানা তানজিন বলেন, আশ্রয়ণ প্রকল্পের পরিস্থিতি গুরুত্বের সঙ্গে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট দপ্তরকে বিষয়টি জানানো হয়েছে এবং ঝুঁকিতে থাকা পরিবারগুলোর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। পাশাপাশি নদীভাঙন রোধে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সমন্বয় করে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের চেষ্টা চলছে।
তবে নদীপাড়ের মানুষের প্রশ্ন, প্রশাসনের উদ্যোগ বাস্তবায়নের আগেই করতোয়ার ভাঙন থামবে তো? নাকি নদীগর্ভে হারিয়ে যাবে শতাধিক পরিবারের শেষ আশ্রয়—সেই উদ্বেগই এখন সবচেয়ে বড় বাস্তবতা।