ময়মনসিংহের নবগঠিত দক্ষিণ গফরগাঁও উপজেলার প্রশাসনিক সদর দপ্তর ভৌগোলিক মধ্যস্থল পাগলা মৌজায় (পাগলা থানা-সংলগ্ন এলাকায়) স্থাপনের দাবি জানিয়েছে দক্ষিণ গফরগাঁও নাগরিক ঐক্য। সংগঠনটির দাবি, গেজেটে ঘোষিত নয়াবাড়ী মৌজা উপজেলার এক প্রান্তে অবস্থিত হওয়ায় অধিকাংশ বাসিন্দাকে প্রশাসনিক সেবা নিতে দীর্ঘ পথ পাড়ি দিতে হবে, যা নতুন উপজেলা গঠনের মূল উদ্দেশ্যের সঙ্গে সাংঘর্ষিক।
মঙ্গলবার (২১ জুলাই) জাতীয় প্রেস ক্লাবে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে সংগঠনটির আহ্বায়ক মাহবুবুর রহমান ফুরকান লিখিত বক্তব্যে এ দাবি তুলে ধরেন। এ সময় বৃহত্তর ময়মনসিংহ সাংবাদিক সমিতির যুগ্ম সম্পাদক মোহাম্মদ আকতার হোসেন, ময়মনসিংহ দক্ষিণ জেলা যুবদলের সহ-সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ আলী বাবুল, জেলা যুবদলের সদস্য জাহাঙ্গীর আলম, নিগুয়ারী ইউনিয়নের সাবেক সাধারণ সম্পাদক নাজিম উদ্দিন প্রধান, ব্যবসায়ী ও বিএনপি নেতা আবু সাঈদ, পাভেল ও শামীম হাসানসহ অনেকে উপস্থিত ছিলেন।
লিখিত বক্তব্যে বলা হয়, গত ১ জুলাই জাতীয় বাস্তবায়ন, প্রশাসনিক উন্নয়ন ও সমন্বয় কমিটির (নিকার) সভায় পাগলা থানার আওতাধীন মশাখালী, পাঁচবাগ, পাইথল, উস্তি, লংগাইর, দত্তের বাজার, নিগুয়ারী ও টাংগাব—এই আটটি ইউনিয়ন নিয়ে দক্ষিণ গফরগাঁও নামে নতুন উপজেলা গঠনের অনুমোদন দেওয়া হয়। তবে পরবর্তীতে প্রকাশিত গেজেটে উপজেলার সদর দপ্তর হিসেবে উস্তি ইউনিয়নের নয়াবাড়ী মৌজার নাম উল্লেখ করা হয়।
সংগঠনের অভিযোগ, স্থানীয় সংসদ সদস্য আকতারুজ্জামান বাচ্চুর ব্যক্তিগত ইচ্ছার প্রতিফলন ঘটিয়ে গণশুনানি ছাড়াই জেলা ও উপজেলা প্রশাসন একপেশে প্রতিবেদন দিয়েছে। তাদের দাবি, নয়াবাড়ীতে সদর দপ্তর স্থাপিত হলে নতুন উপজেলার অধিকাংশ বাসিন্দাকে প্রশাসনিক সেবা পেতে আগের মতোই ৩০ থেকে ৩৫ কিলোমিটার পথ অতিক্রম করতে হবে।
সংবাদ সম্মেলনে আরও বলা হয়, পাগলা মৌজা উপজেলার আটটি ইউনিয়নের ভৌগোলিক মধ্যস্থলে অবস্থিত। সেখানে আগে থেকেই থানা ভবন, ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়ক, রেলপথ, বড় বাজার, ব্যাংকিং সুবিধাসহ প্রয়োজনীয় অবকাঠামো রয়েছে। ফলে স্বল্প সময় ও কম ব্যয়ে সেখানে উপজেলা সদর দপ্তর স্থাপন করা সম্ভব।
সংগঠনের পক্ষ থেকে জানানো হয়, নতুন উপজেলার অস্থায়ী কার্যক্রম পরিচালনার জন্য পাগলা থানা-সংলগ্ন এলাকায় অন্তত ২০টি ভবন বিনা ভাড়ায় ব্যবহারের সুযোগ দিতে স্থানীয় বাসিন্দারা সম্মতি দিয়েছেন। পাশাপাশি স্থায়ী প্রশাসনিক ভবন নির্মাণের জন্য প্রয়োজনীয় জমিও সরকারের নামে বিনামূল্যে হস্তান্তরের আগ্রহ প্রকাশ করেছেন তারা।
সংবাদ সম্মেলনে সরকারের প্রতি সদর দপ্তরের স্থান নির্ধারণের সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনার আহ্বান জানানো হয়। একই সঙ্গে দাবি বাস্তবায়ন না হলে স্থানীয়দের উদ্যোগে ঢাকা-ময়মনসিংহ রেলপথ অবরোধসহ কঠোর কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে বলেও হুঁশিয়ারি দেন সংগঠনের নেতারা।