মরণফাঁদে রূপ নিয়েছে ফরিদগঞ্জের কাটাখালী ব্রিজ

চাঁদপুর সংবাদদাতা

সারাদেশ

চাঁদপুরের ফরিদগঞ্জ উপজেলার ডাকাতিয়া নদীর ওপর নির্মিত কাটাখালী ব্রিজটি এখন চরম ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে। প্রায় ৩৬ বছর আগে নির্মিত সেতুটির

2026-07-21T15:55:08+00:00
2026-07-21T15:56:30+00:00
  বৃহস্পতিবার, ৬ আগস্ট ২০২৬,
২২ শ্রাবণ ১৪৩৩
 
বৃহস্পতিবার, ৬ আগস্ট ২০২৬
সারাদেশ
মরণফাঁদে রূপ নিয়েছে ফরিদগঞ্জের কাটাখালী ব্রিজ
চাঁদপুর সংবাদদাতা
মঙ্গলবার, ২১ জুলাই, ২০২৬, ৩:৫৫ পিএম  আপডেট: ২১.০৭.২০২৬ ৩:৫৬ পিএম
ফরিদগঞ্জের ডাকাতিয়া নদীর ওপর জরাজীর্ণ কাটাখালী ব্রিজ দিয়ে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে পারাপার করছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
চাঁদপুরের ফরিদগঞ্জ উপজেলার ডাকাতিয়া নদীর ওপর নির্মিত কাটাখালী ব্রিজটি এখন চরম ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে। প্রায় ৩৬ বছর আগে নির্মিত সেতুটির দুই পাশের নিরাপত্তা বেষ্টনী ভেঙে গেছে, মাঝখানে বড় ফাটল ও পাটাতন ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় প্রতিদিন জীবনের ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করছেন ফরিদগঞ্জ ও হাইমচর উপজেলার প্রায় দুই লক্ষাধিক মানুষ। স্থানীয়দের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে সংস্কার না হওয়ায় গুরুত্বপূর্ণ এই সেতুটি এখন কার্যত মরণফাঁদে পরিণত হয়েছে।

১৯৯১ সালে তৎকালীন সংসদ সদস্য আলমগীর হায়দারের উদ্যোগে নির্মিত ব্রিজটি দুই উপজেলার মানুষের যাতায়াত ও পণ্য পরিবহনের অন্যতম প্রধান মাধ্যম। পরবর্তীতে সংযোগ সড়ক নির্মাণের মাধ্যমে এর গুরুত্ব আরও বেড়ে যায়। তবে দীর্ঘদিন রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে বর্তমানে সেতুটির অবস্থা ভয়াবহ রূপ নিয়েছে।

সরেজমিনে দেখা যায়, ব্রিজের কার্পেটিং উঠে গিয়ে বিভিন্ন স্থানে বড় বড় গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। মাঝখানের ফাটল ও ক্ষতিগ্রস্ত পাটাতনের কারণে ভারী যানবাহন চলাচল পুরোপুরি বন্ধ রয়েছে। প্রতিদিন স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থী, ব্যবসায়ী, চাকরিজীবী ও সাধারণ মানুষ চরম ঝুঁকি নিয়ে সেতুটি ব্যবহার করছেন।

স্থানীয় শিক্ষক মো. জয়নাল আবেদীন বলেন, এই ব্রিজ দিয়ে ইউনিয়ন পরিষদ, বাজার, পোস্ট অফিস ও বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে যাতায়াত করতে হয়। প্রতিদিনই আতঙ্ক নিয়ে পার হতে হয়। যেকোনো সময় বড় দুর্ঘটনা ঘটতে পারে।

২ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য সাইফুল ইসলাম জানান, একসময় প্রতিদিন হাজারো মালবাহী যানবাহন চলাচল করলেও এখন সেতুর ঝুঁকির কারণে ভারী যান চলাচল বন্ধ। এতে স্থানীয় ব্যবসা-বাণিজ্য ও কৃষিপণ্য পরিবহন মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে।

স্থানীয় প্রবীণ বাসিন্দা অধ্যাপক আব্দুল গনী বলেন, সেতুটি ধসে পড়লে দুই উপজেলার মানুষের যোগাযোগ ব্যবস্থা ভেঙে পড়বে। কর্তৃপক্ষের উচিত দুর্ঘটনার অপেক্ষা না করে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া।

এদিকে, ব্রিজ পুনর্নির্মাণের দায়িত্বপ্রাপ্ত ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মেসার্স সুন্দরবন-এর স্বত্বাধিকারী রিপন মিয়া জানান, টেন্ডার সম্পন্ন হলেও সরকারি জায়গা দখলমুক্ত করা, দোকানপাট অপসারণ এবং নদীতে অস্থায়ী ডাইভার্সন তৈরির জটিলতায় কাজ শুরু করা সম্ভব হয়নি। তবে নতুন উপজেলা প্রকৌশলীর সহযোগিতায় দ্রুত কাজ শুরুর আশা করছেন তিনি।

উপজেলা প্রকৌশলী মেহেদী হাসান বলেন, নতুন সেতু নির্মাণের জন্য ঠিকাদার নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। তবে নদীতে পানির উচ্চতা বৃদ্ধি পাওয়ায় অস্থায়ী ডাইভার্সন নির্মাণে কারিগরি সমস্যা তৈরি হয়েছে। পরিস্থিতি অনুকূলে এলেই দ্রুত কাজ শুরু করা হবে।

তবে এসব আশ্বাসে আর ভরসা পাচ্ছেন না এলাকাবাসী। তাদের দাবি, দীর্ঘসূত্রতা নয়, দ্রুত দৃশ্যমান পদক্ষেপ নিয়ে নতুন টেকসই সেতু নির্মাণ করতে হবে। অন্যথায় যেকোনো সময় ঘটতে পারে ভয়াবহ দুর্ঘটনা।


Loading...
Loading...

সারাদেশ- এর আরো খবর

Loading...
Loading...
© 2026 Daily Daily Bhorer Dak
সম্পাদক ও প্রকাশক : কে.এম. বেলায়েত হোসেন
৪-ডি, মেহেরবা প্লাজা, ৩৩ তোপখানা রোড, ঢাকা-১০০০ থেকে প্রকাশিত এবং মনিরামপুর প্রিন্টিং প্রেস ৭৬/এ নয়াপল্টন, ঢাকা থেকে মুদ্রিত। পিএবিএক্স: ৪১০৫২২৪৫, ৪১০৫২২৪৬, ০১৭৭৫-৩৭১১৬৭, বিজ্ঞাপন ও সার্কুলেশন: ৪১০৫২২৫৮
ই-মেইল : [email protected], [email protected]
ফলো করুন: