বগুড়ার বিভিন্ন উপজেলার ভরাট ও হারিয়ে যাওয়া খাল পুনঃখননের মাধ্যমে কৃষি, সেচ ও জলাবদ্ধতা নিরসনে বড় ধরনের পরিবর্তন আনার উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। জলবায়ু ও দুর্যোগ সহনশীল ক্ষুদ্রাকার পানি সম্পদ ব্যবস্থাপনা প্রকল্পের আওতায় জেলার ১১টি খালে পুনঃখনন কাজ চলছে। একই সঙ্গে প্রকল্পে কোনো ধরনের অনিয়ম ঠেকাতে কঠোর অবস্থান নিয়েছে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি)। কাজ সম্পূর্ণ না হলে বিল পরিশোধ করা হবে না বলে সংশ্লিষ্টদের সতর্ক করা হয়েছে।
সরেজমিনে দেখা গেছে, শেরপুর, শিবগঞ্জ ও আদমদীঘি উপজেলার বিভিন্ন খালে পুনঃখনন কার্যক্রম চলছে। শেরপুর উপজেলার ভদ্রাবতী-তিলকাতলা উপ-প্রকল্পের আওতায় ভদ্রাবতী খালের ৬ কিলোমিটার খননকাজ চলমান রয়েছে। এছাড়া একদুলতলা, চকরামপুর, ঝাঝড়, কইগাড়ি ও দুদকুমড় বিলের খালের কাজ বিভিন্ন পর্যায়ে রয়েছে। শিবগঞ্জ উপজেলার চিতলার উপ-প্রকল্পের চারটি খালের খনন শেষ হয়েছে। আদমদীঘি উপজেলার বসনবুড়ি খালের ৮ কিলোমিটার পুনঃখনন কাজ শুরু হয়েছে।
এলজিইডি সূত্র জানায়, প্রকল্প বাস্তবায়নে স্থানীয় বাসিন্দা, কৃষক ও উপজেলা প্রকৌশল দপ্তরের কর্মকর্তাদের সম্পৃক্ত করা হয়েছে। কোনো অভিযোগ উঠলে তাৎক্ষণিকভাবে সরেজমিনে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। প্রকল্পের গুণগত মান নিশ্চিত করতে নিয়মিত তদারকি অব্যাহত রয়েছে।
স্থানীয় কৃষকদের মতে, দীর্ঘদিন খালগুলো ভরাট হয়ে থাকায় বর্ষাকালে জলাবদ্ধতা এবং শুষ্ক মৌসুমে সেচ সংকট ছিল নিত্যদিনের সমস্যা। পুনঃখননের ফলে বর্ষার পানি দ্রুত নিষ্কাশন হবে এবং সংরক্ষিত পানি শুষ্ক মৌসুমে সেচের কাজে ব্যবহার করা যাবে। এতে কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি, চাষাবাদের খরচ কমানো এবং গ্রামীণ অর্থনীতিতে ইতিবাচক প্রভাব পড়বে বলে তারা আশা করছেন। খালের দুই পাশে বৃক্ষরোপণের উদ্যোগ পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায়ও সহায়ক হবে বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।
শেরপুর উপজেলা প্রকৌশলী মো. আব্দুল মজিদ জানান, ভদ্রাবতী খালের ৬ কিলোমিটার পুনঃখননের জন্য ৫৬ লাখ ৪ হাজার ৬৮২ টাকার চুক্তি হয়েছে। এছাড়া একদুলতলা, চকরামপুর, ঝাঝড়, কইগাড়ি ও দুদকুমড় বিলের খালের জন্যও পৃথক চুক্তিতে কাজ চলছে বা সম্পন্ন হয়েছে।
এলজিইডি বগুড়ার নির্বাহী প্রকৌশলী মো. মাসুদুজ্জামান বলেন, খাল পুনঃখনন কর্মসূচি সরকারের একটি অগ্রাধিকার প্রকল্প। প্রকল্প বাস্তবায়নে কোনো ধরনের অনিয়ম বা গাফিলতি বরদাশত করা হবে না। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের নিয়মিত মাঠ পরিদর্শনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে এবং কাজের মান নিশ্চিত করেই বিল পরিশোধ করা হবে।
সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, খাল পুনঃখনন কার্যক্রম সফলভাবে বাস্তবায়িত হলে জলাবদ্ধতা কমবে, সেচ সুবিধা বাড়বে, কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি পাবে এবং গ্রামীণ অর্থনীতিতে দীর্ঘমেয়াদি ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।