ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নাসিরনগর উপজেলার চাতলপাড় ইউনিয়নের ঐতিহ্যবাহী চকবাজার আবারও মেঘনা নদীর ভয়াবহ ভাঙনের মুখে পড়েছে। টানা বৃষ্টি, পাহাড়ি ঢল ও নদীর তীব্র স্রোতে বাজারের পাড় ধসে পড়ছে, ফলে যেকোনো সময় দোকানঘর নদীগর্ভে বিলীন হওয়ার আশঙ্কায় দিন কাটাচ্ছেন ব্যবসায়ী ও স্থানীয় বাসিন্দারা।
সরেজমিনে দেখা গেছে, মেঘনার তীব্র স্রোতে চকবাজারের নদীতীরবর্তী অংশের মাটি ইতোমধ্যে নদীতে ধসে পড়েছে। ভাঙনের কারণে বেশ কয়েকটি ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে। নদীতীরে স্থায়ী প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা যেমন আরসিসি পাইলিং, রিটেইনিং ওয়াল কিংবা কংক্রিট ব্লক না থাকায় প্রতিদিনই বাড়ছে ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্কা।
স্থানীয় ব্যবসায়ী সুবল শুক্ল দাস জানান, গত বছর নদীভাঙনে তার একটি দোকান নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যায়। এবার নতুন করে শুরু হওয়া ভাঙনে তার আরেকটি দোকানও ঝুঁকিতে রয়েছে। তিনি বলেন, ‘মেঘনার ভাঙনে আমরা নিঃস্ব হয়ে যাচ্ছি। এখনই কার্যকর ব্যবস্থা না নিলে পুরো বাজার নদীতে চলে যাবে।’
স্থানীয় ব্যবসায়ীদের ভাষ্য, গত সাত থেকে আট বছর ধরে চাতলপাড় ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকায় নদীভাঙন অব্যাহত থাকলেও স্থায়ী কোনো প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। এরই মধ্যে চকবাজার সংলগ্ন একাধিক ব্যবসা প্রতিষ্ঠান, বসতবাড়ি ও কৃষিজমি নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে।
চাতলপাড় ইউনিয়ন পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান বিনয় রায় বলেন, দীর্ঘদিনের ভাঙনে বহু পরিবার ঘরবাড়ি ও জীবিকা হারিয়ে নিঃস্ব হয়েছে। ঐতিহ্যবাহী চকবাজার রক্ষায় দ্রুত নদীশাসন ও স্থায়ী প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা গ্রহণ করা জরুরি।
নাসিরনগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শাহীনা নাছরীন জানান, নদীভাঙন রোধে স্থানীয় সংসদ সদস্যের সহযোগিতায় পানি উন্নয়ন বোর্ডের সঙ্গে সমন্বয় করে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
এদিকে স্থানীয় সংসদ সদস্য এম এ হান্নান বলেন, হাওরাঞ্চলের তিনটি ইউনিয়নের মানুষের দুর্ভোগ কমাতে পানি উন্নয়ন বোর্ডের মাধ্যমে স্থায়ী বাঁধ নির্মাণের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি জরুরি ভিত্তিতে ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় জিও ব্যাগ ফেলার কাজও চলমান রয়েছে।
স্থানীয়দের দাবি, সাময়িক নয়, দীর্ঘমেয়াদি নদীশাসন প্রকল্প বাস্তবায়নের মাধ্যমে মেঘনার ভয়াবহ ভাঙন থেকে চাতলপাড়ের বাজার, বসতভিটা ও কৃষিজমি রক্ষায় দ্রুত কার্যকর উদ্যোগ নিতে হবে। না হলে নাসিরনগরের এই গুরুত্বপূর্ণ জনপদের আরও বিস্তীর্ণ এলাকা নদীগর্ভে হারিয়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।