বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী বলেছেন, ‘জুলাই সনদ’ বাস্তবায়নে সরকার, সরকারি দল ও বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে আলোচনার মাধ্যমে একটি ন্যূনতম ঐকমত্যে পৌঁছানো জরুরি। ন্যূনতম সমঝোতা ও পারস্পরিক আস্থার পরিবেশ না থাকলে দেশের গণতন্ত্র বিপন্ন হতে পারে বলে মন্তব্য করেছেন তিনি।
সোমবার (২০ জুলাই) সকালে রাজধানীর উত্তরার একটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে ‘তারুণ্য, উদ্ভাবন ও স্টার্টআপ’ বিষয়ক আলোচনা সভায় তিনি এ মন্তব্য করেন।
রিজভী বলেন, জুলাই কোনো একক রাজনৈতিক দলের সম্পদ নয়; রাজনৈতিক কর্মী ও সাধারণ মানুষের সম্মিলিত অংশগ্রহণে গণঅভ্যুত্থান গড়ে উঠেছিল। তাঁর ভাষায়, সেই আন্দোলনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র ছিল উত্তরা।
রিজভী বলেন, জুলাই সনদ বাস্তবায়নে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে একটি ন্যূনতম সমঝোতা (মিনিমাম আন্ডারস্ট্যান্ডিং) প্রয়োজন। দ্রুত এ বিষয়ে ঐকমত্য গড়ে উঠতে না পারলে গণতন্ত্রবিরোধী শক্তি বিভিন্ন সুযোগে পুনরায় সংগঠিত হওয়ার চেষ্টা করতে পারে। বিপুল অর্থ ও বিদেশি মদদে তারা আবারও সক্রিয় হওয়ার আশঙ্কাও প্রকাশ করেন তিনি।
তিনি বলেন, জুলাই-আগস্টের আন্দোলনের মধ্য দিয়ে দেশের মানুষ গণতন্ত্রের একটি নতুন সম্ভাবনা দেখতে শুরু করেছে। বর্তমানে একটি গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের পরিবেশ তৈরি হয়েছে এবং সরকারের সমালোচনা করলেই গুম বা বিচারবহির্ভূত হত্যার শঙ্কা আগের মতো নেই। একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে মতপ্রকাশের স্বাধীনতা ও সরকারের সমালোচনার অধিকার নিশ্চিত করা অপরিহার্য বলেও মন্তব্য করেন বিএনপির এই নেতা।
জুলাই আন্দোলনের গুরুত্ব তুলে ধরে রিজভী বলেন, রাষ্ট্রে গণতন্ত্রের বিকাশে এখনো অনেক কাজ অসম্পূর্ণ রয়ে গেছে। মৌলিক কয়েকটি বিষয়ে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে ঐকমত্য প্রতিষ্ঠা না হলে ভবিষ্যতে গণতন্ত্র আবারও সংকটে পড়তে পারে, যা দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের জন্যও ঝুঁকির কারণ হতে পারে।
আন্দোলনের স্মৃতিচারণ করে তিনি বলেন, ‘পানি লাগবে, পানি?’—এই একটি বাক্যই যেন পুরো আন্দোলনের আত্মত্যাগ ও মানবিকতার প্রতীক হয়ে আছে। তিনি বলেন, জুলাই আন্দোলনের শহীদদের অবদান জাতি কখনো ভুলবে না।
রিজভী অভিযোগ করেন, পূর্ববর্তী সরকার নির্বাচন কমিশনসহ রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে দুর্বল করে দিয়েছিল। গণমাধ্যম নিয়ন্ত্রণ, বিচার বিভাগের স্বাধীনতা খর্ব এবং বিতর্কিত নির্বাচন আয়োজনের মাধ্যমে জনগণের আস্থা নষ্ট করা হয়েছিল বলেও দাবি করেন তিনি।
তিনি আরও অভিযোগ করেন, দীর্ঘদিন ক্ষমতায় থাকার উদ্দেশ্যে বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলোকে দমন-পীড়নের চেষ্টা করা হয়েছিল। বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়াকে অসুস্থ অবস্থায় কারাগারে রেখে রাজনৈতিকভাবে দুর্বল করার অপচেষ্টা চালানো হয়েছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
অনুষ্ঠানে ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির সদস্য সচিব মোস্তফা জামান, সংরক্ষিত মহিলা আসনের সাবেক সংসদ সদস্য ফেরদৌসী আহমেদ (মিষ্টি), এবি পার্টির নেতা ইঞ্জিনিয়ার আবু সাঈদ চঞ্চল, কেন্দ্রীয় স্বেচ্ছাসেবক দলের সহ-সভাপতি ডা. জাহিদুল কবির, কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের সহ-সভাপতি ডা. তৌহিদুর রহমান আউয়ালসহ বিএনপি ও সহযোগী সংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।