নাটোরের লালপুর উপজেলার বিলমাড়ীয়া ইউনিয়নের আরাজি বাকনাই গ্রামে একটি ইটভাটার জন্য ফসলি জমির মাটি কাটার ঘটনায় একটি সচল বৈদ্যুতিক খুঁটি মারাত্মক ঝুঁকির মুখে পড়েছে। এতে প্রায় দুই হাজার গ্রাহকের বিদ্যুৎ সরবরাহ যেকোনো সময় বিঘ্নিত হওয়ার পাশাপাশি বড় ধরনের দুর্ঘটনার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। এ ঘটনায় দুই ইটভাটা মালিকের বিরুদ্ধে থানায় মামলা করেছে নাটোর পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-২।
রবিবার (১৯ জুলাই) রাতে লালপুর থানায় দায়ের করা মামলায় অভিযুক্ত করা হয়েছে উপজেলার বালিতিতা রামকৃষ্ণপুর গ্রামের মৃত মারফত হালসানার ছেলে মো. মাহাবুল হালসানা (৪৫) ও সাহাবুল হালসানা (৪০)-কে।
থানা, মামলা সূত্র ও স্থানীয়দের তথ্যমতে, দীর্ঘদিন ধরে ওই ইটভাটার জন্য আরাজি বাকনাই গ্রামের ফসলি জমি থেকে মাটি কাটা হচ্ছিল। একপর্যায়ে (LA-10J-77-3) নম্বরের বৈদ্যুতিক খুঁটির গোড়ার মাটি কেটে নেওয়ায় এর ভিত্তি দুর্বল হয়ে পড়ে। বর্তমানে খুঁটিটি অল্প পরিমাণ মাটির ওপর দাঁড়িয়ে রয়েছে। ভারী বৃষ্টি কিংবা ঝোড়ো বাতাসে এটি ভেঙে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।
নাটোর পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-২-এর উপমহাব্যবস্থাপক (ডিজিএম) মো. রেজাউল করিম জানান, রোববার সকালে বিলমাড়িয়া এলাকায় অবৈধ মাটি কাটার অভিযোগে পরিচালিত ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযানে গিয়ে উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. আবীর হোসেন বিষয়টি দেখতে পান। পরে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. বরকত উল্লাহ জননিরাপত্তা ও রাষ্ট্রীয় সম্পদ রক্ষায় প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নিতে পল্লী বিদ্যুৎ কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ দেন। এর পরই দুই ব্যক্তির বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়। একই সঙ্গে ঝুঁকিপূর্ণ খুঁটির নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।
লালপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শফিকুল ইসলাম বলেন, পল্লী বিদ্যুতের দায়ের করা মামলা গ্রহণ করা হয়েছে। অভিযোগটি তদন্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
তবে অভিযুক্ত মাহাবুল হালসানা ও সাহাবুল হালসানার সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাদের মোবাইল ফোন বন্ধ থাকায় এ বিষয়ে তাদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, গত সাত মাসে অবৈধ বালু ও মাটি উত্তোলনের বিরুদ্ধে ২০টি অভিযান চালিয়ে বালুমহাল ও মাটি ব্যবস্থাপনা আইন এবং ভূমি অপরাধ ও প্রতিকার আইনে ২৫ জনের বিরুদ্ধে ২২টি মামলা করা হয়েছে। এ সময় প্রায় ১৫ লাখ টাকার বেশি জরিমানা আদায় করা হয়েছে।