টানা ভারী বৃষ্টিতে গাজীপুরের ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্ট ভোগড়া বাইপাস এলাকা হাঁটুসমান পানিতে তলিয়ে গেছে। এতে স্থবির হয়ে পড়েছে ওই এলাকার যোগাযোগ ব্যবস্থা।
সড়কজুড়ে সৃষ্টি হওয়া ভয়াবহ জলাবদ্ধতার কারণে চরম দুর্ভোগে পড়েছেন হাজার হাজার পথচারী, পোশাক শ্রমিকসহ সাধারণ কর্মজীবী মানুষ এবং দূরপাল্লার যানবাহনের যাত্রী ও চালকেরা।
সোমবার (২০ জুলাই) সকালে ভোগড়া বাইপাস এলাকায় সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের ওপর প্রায় এক থেকে দেড় ফুট পানি জমে রয়েছে। জমে থাকা এই পানির কারণে ভারী যানবাহনগুলো হেলেদুলে অত্যন্ত ধীরগতিতে চলাচল করছে।
অপরদিকে সিএনজিচালিত অটোরিকশা, লেগুনা ও মোটরসাইকেলের মতো ছোট ছোট যানবাহনের ইঞ্জিনে পানি ঢুকে বিকল হয়ে পড়ে থাকতে দেখা গেছে। ফলে মহাসড়কের উভয় পাশে কয়েক কিলোমিটার জুড়ে তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দা ও নিয়মিত যাতায়াতকারীদের অভিযোগ, প্রায় দুই বছর আগে সড়কটি আধুনিকায়ন ও প্রশস্ত করা হলেও তা কোনো কাজে আসছে না। পর্যাপ্ত ও কার্যকর পানি নিষ্কাশন (ড্রেনেজ) ব্যবস্থা গড়ে না তোলায় সামান্য বৃষ্টিতেই এলাকাটি খালের রূপ নেয়। বছরের পর বছর এই ভোগান্তি চললেও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দৃশ্যমান কোনো স্থায়ী পদক্ষেপ নেই।
ভোগড়া এলাকার এক স্থানীয় ব্যবসায়ী ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘এখানে সামান্য বৃষ্টি হলেই আমাদের দোকানপাটে পানি ঢুকে পড়ে। মূল সড়কে হাঁটু পানি টপকে মানুষ যাতায়াত করতে বাধ্য হচ্ছে। ড্রেনগুলো ময়লা-আবর্জনায় বন্ধ হয়ে আছে, পরিষ্কার করার কেউ নেই। প্রতি বছর বর্ষায় আমাদের এই সাজা ভোগ করতে হয়।’
এদিকে চরম জনদুর্ভোগ ও মহাসড়কে যানজটের বিষয়ে জানতে চাইলে সড়ক ও জনপথ (সওজ) বিভাগের এক কর্মকর্তা জানান, মহাসড়কের পাশে অপরিকল্পিত নগরায়ণ ও নিচু এলাকা ভরাট হয়ে যাওয়ার কারণে বৃষ্টির পানি সরতে সময় লাগছে। পাশাপাশি ড্রেনে পলিথিন ও বর্জ্য জমে পানি প্রবাহে বাধা সৃষ্টি করছে। আমরা দ্রুততম সময়ের মধ্যে পাম্প বসিয়ে পানি নিষ্কাশন এবং বন্ধ হয়ে থাকা ড্রেনগুলো পরিষ্কারের উদ্যোগ নিচ্ছি।
এলাকাবাসীর দাবি, শুধু সাময়িক আশ্বাস বা পাম্প দিয়ে পানি সেচ দেওয়া নয়; পুরো বর্ষা মৌসুমে জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ এই মহাসড়কে যান চলাচল স্বাভাবিক রাখতে দ্রুত ড্রেনেজ ব্যবস্থার স্থায়ী আধুনিকায়ন ও সংস্কার করতে হবে। অন্যথায় এই মহাসড়ক দিয়ে যাতায়াতকারী সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ আরও চরমে পৌঁছাবে।
এ বিষয়ে গাজীপুর সড়ক ও জনপদ (সওজ) এর সাবডিভিশন প্রকৌশলী সাইদুর রহমান বলেন, বিআরটি প্রকল্পের লোকেরা এ অবস্থা করে গেছে। তবে আমাদের লোক এখানে কাজ করেন পানি নেমে যেতে দুই-তিন ঘন্টা লেগে যাবে। আমরা চেষ্টা করি যাতে পানি দ্রুত নেমে যায়।