খুলনার কয়রা উপজেলার ফতেকাটি কুশোডাঙা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী দীর্ঘদিন ধরে জরাজীর্ণ ঝুপড়ি ঘরে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে পাঠদান করছে। পরিত্যক্ত ভবনের পরিবর্তে দুই দশকেও নতুন ভবন না হওয়ায় চরম দুর্ভোগে পড়েছেন শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও অভিভাবকরা। দ্রুত একটি আধুনিক ও দুর্যোগ-সহনীয় বহুতল ভবন নির্মাণের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বিদ্যালয়ের জন্য ২০০১ সালে একটি পাকা ভবন নির্মাণ করা হলেও নির্মাণ ত্রুটির কারণে কয়েক বছরের মধ্যেই ভবনটির প্লাস্টার খসে পড়ে, লোহার রড বেরিয়ে আসে এবং ছাদ দিয়ে পানি চুঁইয়ে পড়তে শুরু করে। পরে ভবনটিকে ঝুঁকিপূর্ণ ঘোষণা করে পরিত্যক্ত করা হয়। এরপর দীর্ঘ দুই দশক পেরিয়ে গেলেও সেখানে আর কোনো স্থায়ী ভবন নির্মাণ করা হয়নি।
বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক আব্দুর রব বলেন, জীবনের শেষ প্রান্তে এসেও শিক্ষার্থীদের জন্য একটি নিরাপদ বিদ্যালয় ভবন দেখতে পারলাম না। প্রতিদিন আতঙ্ক নিয়ে ক্লাস নিতে হয়। শিশুদের নিরাপত্তার স্বার্থে দ্রুত একটি টেকসই ভবন নির্মাণ জরুরি।
শিক্ষকরাও জানান, বর্ষা মৌসুমে নিয়মিত পাঠদান ব্যাহত হয়। অনিরাপদ পরিবেশের কারণে শিক্ষার্থীদের পড়াশোনায় আগ্রহ কমে যাচ্ছে এবং শিক্ষকরা স্বাভাবিকভাবে পাঠদান করতে পারছেন না।
বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সভাপতি রাবেয়া খাতুন বলেন, ১৫৫ জন কোমলমতি শিশুকে এমন ঝুঁকিপূর্ণ পরিবেশে পড়াশোনা করতে হচ্ছে, যা অত্যন্ত উদ্বেগজনক। শিক্ষার্থীদের মৌলিক অধিকার নিশ্চিত করতে দ্রুত নতুন ভবন নির্মাণ করা উচিত।
সহ-সভাপতি রোকনুজ্জামান বলেন, তিনি নিজেও এই বিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষার্থী। তাঁর মতে, দুর্যোগপ্রবণ কয়রার মতো এলাকায় একটি বহুতল, দুর্যোগ-সহনীয় ভবন সময়ের দাবি, যা প্রয়োজনে আশ্রয়কেন্দ্র হিসেবেও ব্যবহার করা যাবে।
অভিভাবক ও স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, বিদ্যালয় মাঠে বৃষ্টির সময় পানি জমে থাকায় শিশুরা খেলাধুলা ও শারীরিক চর্চার সুযোগ থেকেও বঞ্চিত হচ্ছে। তাই আধুনিক অবকাঠামোর পাশাপাশি মাঠের উন্নয়নেরও দাবি জানান তারা।
এ বিষয়ে কয়রা উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা বলেন, বিদ্যালয়টি পরিদর্শনের সময় তিনি জরাজীর্ণ অবস্থার বিষয়টি দেখেছেন। নতুন ভবনের প্রয়োজনীয়তা উল্লেখ করে ইতোমধ্যে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে তালিকা পাঠানো হয়েছে। দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
এলাকাবাসীর দাবি, শিক্ষা মন্ত্রণালয়, শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তর ও সংশ্লিষ্ট প্রশাসন দ্রুত বরাদ্দ নিশ্চিত করে বিদ্যালয়টিতে একটি আধুনিক, নিরাপদ ও দুর্যোগ-সহনীয় বহুতল ভবন নির্মাণ করুক, যাতে শিক্ষার্থীরা নিরাপদ পরিবেশে পড়াশোনার সুযোগ পায়।