বিশ্বকাপ ফাইনালের আগে আর্জেন্টিনার বিপক্ষে কঠিন লড়াইয়ের প্রত্যাশা করছে স্পেন। ইংল্যান্ডের বিপক্ষে সেমিফাইনালে আর্জেন্টিনার শারীরিক ফুটবল ও ঘন ঘন ফাউল স্প্যানিশদের নজর কেড়েছে। এ নিয়ে স্পেনের ডিফেন্ডার আইমারিক লাপোর্তে ইতোমধ্যেই ফাইনালের রেফারির দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন। তবে দলের অধিনায়ক রদ্রি জানিয়েছেন, প্রতিপক্ষের শারীরিক খেলার জন্য তারা পুরোপুরি প্রস্তুত এবং মাঠে কোনোভাবেই পিছিয়ে থাকবেন না।
ম্যানহাটনে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে রদ্রি বলেন, আর্জেন্টিনা যদি উস্কানিমূলক কৌশলও নেয়, তবু স্পেন সেই ফাঁদে পা দেবে না। তাদের মূল লক্ষ্য থাকবে নিজেদের পরিকল্পনা অনুযায়ী ফুটবল খেলা। তবে তাঁর বিশ্বাস, ফাইনাল অন্য যেকোনো ম্যাচের তুলনায় বেশি শারীরিক লড়াইপূর্ণ হবে।
রদ্রির ভাষায়, ‘আমার মনে হয় রোববারের ম্যাচটি ভিন্ন ধরনের হবে। এখানে শারীরিক শক্তির ব্যবহার অনেক বেশি থাকবে এবং সেই চ্যালেঞ্জ মোকাবিলার জন্য আমাদের প্রস্তুত থাকতে হবে। আমরা জানি, কোন পরিস্থিতিতে কীভাবে খেলতে হয়। আক্রমণ, রক্ষণ কিংবা পাল্টা আক্রমণ—সব ধরনের পরিস্থিতির জন্য আমরা প্রস্তুত। পূর্ণাঙ্গ দল হিসেবেই আমরা ফাইনালে উঠেছি।’
আর্জেন্টিনা যদি উস্কানির আশ্রয় নেয়, তাহলে স্পেন কীভাবে তা মোকাবিলা করবে—এমন প্রশ্নের জবাবে রদ্রি বলেন, ‘এটাও ফুটবলের একটি অংশ। ম্যাচ কীভাবে এগোয় এবং তারা কী কৌশল নেয়, সেটা আমরা দেখব। আমি বিশ্বাস করি, আর্জেন্টিনা সর্বোচ্চ চেষ্টা করবে, তবে যদি তারা উস্কানির পথ বেছে নেয়, তাহলে আমাদের অবশ্যই সেই ফাঁদ এড়িয়ে নিজেদের খেলায় মনোযোগ দিতে হবে।’
ফাইনালে স্পেনের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হতে পারেন লিওনেল মেসি। টুর্নামেন্টে এখন পর্যন্ত ৮ গোল ও ৪টি অ্যাসিস্ট করে দুর্দান্ত ছন্দে রয়েছেন আর্জেন্টাইন অধিনায়ক। তবে রদ্রির মতে, শুধু মেসিকে আটকে রাখলেই হবে না, পুরো আর্জেন্টিনা দলকেই সমান গুরুত্ব দিতে হবে।
তিনি বলেন, ‘আমার কাছে মেসিই সর্বকালের সেরা ফুটবলার। তিনি দলকে বিশ্বকাপ জিতিয়েছেন এবং এবারও ফাইনালে তুলেছেন। কিন্তু আর্জেন্টিনা শুধু মেসিকে ঘিরেই নয়। তাদের দলে বিশ্বমানের অনেক খেলোয়াড় রয়েছে। তাই আমাদের মেসির পাশাপাশি পুরো দলের প্রতিই সমান মনোযোগ দিতে হবে।’