
আর্জেন্টিনাকে ১-০ গোলে হারিয়ে দ্বিতীয়বারের মতো ফিফা বিশ্বকাপের শিরোপা জিতেছে স্পেন। অতিরিক্ত সময়ের একমাত্র গোলে জয় নিশ্চিত করে লুইস দে লা ফুয়েন্তের শিষ্যরা। এর আগে ২০১০ সালে প্রথমবার বিশ্বকাপ জয়ের স্বাদ পেয়েছিল স্প্যানিশরা।
টুর্নামেন্টের অন্যতম ফেবারিট হিসেবে বিশ্বকাপে অংশ নেওয়া স্পেন টানা ৩৭ ম্যাচ অপরাজিত থেকে ফাইনালে ওঠে। ইউরো চ্যাম্পিয়ন দলটি পুরো আসরেই দুর্দান্ত ছন্দে ছিল, আর ফাইনালেও শুরু থেকেই আর্জেন্টিনার ওপর আধিপত্য বিস্তার করে।
যুক্তরাষ্ট্রের নিউ জার্সির মেটলাইফ স্টেডিয়ামে বাংলাদেশ সময় রোববার দিবাগত রাত ১টায় মাঠে নামে দুই দল। ম্যাচের শুরু থেকেই বলের দখল নিজেদের নিয়ন্ত্রণে রেখে আর্জেন্টিনার রক্ষণভাগে একের পর এক চাপ সৃষ্টি করে স্পেন।
পঞ্চম মিনিটেই গোলের সহজ সুযোগ নষ্ট করেন লামিন ইয়ামাল। এরপর ১২তম মিনিটে প্রথম কর্নার পেলেও লিসান্দ্রো মার্তিনেজের সতর্কতায় বিপদ কাটিয়ে ওঠে আর্জেন্টিনা।
প্রথমার্ধজুড়ে বলের দখল ও আক্রমণে স্পষ্ট আধিপত্য ছিল স্পেনের। নিখুঁত ট্যাকটিক্যাল ফুটবলের সামনে বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা নিজেদের স্বাভাবিক খেলাই খেলতে পারেনি। পুরো প্রথমার্ধে মূলত রক্ষণ সামলাতেই ব্যস্ত থাকতে হয় লিওনেল স্কালোনির দলকে।
দ্বিতীয়ার্ধেও আক্রমণের ধার অব্যাহত রাখে স্পেন। তবে আর্জেন্টাইন গোলরক্ষক এমিলিয়ানো মার্তিনেজ একাধিক দুর্দান্ত সেভ করে দলকে ম্যাচে টিকিয়ে রাখেন। ফলে নির্ধারিত ৯০ মিনিটে কোনো দলই গোল করতে না পারায় ম্যাচ গড়ায় অতিরিক্ত ৩০ মিনিটে।
শেষ পর্যন্ত অতিরিক্ত সময়ের ১০৬তম মিনিটে আসে ম্যাচের একমাত্র গোল। বক্সের বাইরে থেকে ভেসে আসা বল মাঠের ভেতরে রেখে দেন নিকো উইলিয়ামস। সুযোগ বুঝে ফাঁকায় বল পেয়ে শক্তিশালী শটে জাল খুঁজে নেন ফেররান তোরেস। তার সেই গোলেই এগিয়ে যায় স্পেন।
গোল হজমের পর সমতায় ফেরার চেষ্টা চালায় আর্জেন্টিনা। তবে ১০ জনের দল নিয়ে স্পেনের সুসংগঠিত রক্ষণ ভাঙতে পারেনি তারা। অন্যদিকে স্পেনও বাকি সময়ে আর কোনো গোল না করলেও ১-০ ব্যবধান ধরে রেখে শেষ পর্যন্ত বিশ্বকাপের শিরোপা নিজেদের করে নেয়। ২০১০ সালের পর আবারও বিশ্বসেরা হলো স্পেন।