নানা আলোচনা-সমালোচনার মধ্য দিয়ে পর্দা উঠেছে ২০তম এশিয়ান গেমসের। শনিবার জাপানের আইচি-নাগোয়ায় আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হয়েছে এবারের আসর। তবে উদ্বোধনী অনুষ্ঠান ঘিরে প্রত্যাশা থাকলেও গ্যালারির বড় অংশ ফাঁকা থাকায় এবং আয়োজন তুলনামূলক সাদামাটা হওয়ায় তা নিয়ে আলোচনা তৈরি হয়েছে।
জাপান সময় সন্ধ্যা ৬টায় শুরু হয় উদ্বোধনী অনুষ্ঠান। প্রায় দুই ঘণ্টা পর রাত ৮টার কয়েক মিনিট আগে শেষ হয় অনুষ্ঠান। প্রায় ৩০ হাজার দর্শক ধারণক্ষমতার গ্যালারিতে বেশ কিছু আসন খালি দেখা যায়। এমনকি মিডিয়া ট্রিবিউনেও অনেক আসন ফাঁকা ছিল।
প্রযুক্তিতে বিশ্বের অন্যতম এগিয়ে থাকা দেশ জাপান হওয়ায় উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বিশেষ কোনো প্রযুক্তিনির্ভর আয়োজনের প্রত্যাশা ছিল। এর আগে হাংজু এশিয়ান গেমসে চীন লেজার শো ও প্রযুক্তির ব্যবহার করে দর্শকদের নজর কেড়েছিল। তবে এবারের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তেমন কোনো বড় প্রযুক্তিনির্ভর প্রদর্শনী চোখে পড়েনি।
প্রায় দুই ঘণ্টার অনুষ্ঠানের বড় একটি অংশজুড়ে ছিল অংশগ্রহণকারী দেশগুলোর মার্চ পাস্ট। প্রায় ৪৫ মিনিট ধরে চলে এই পর্ব। মার্চ পাস্টে দেশগুলোর প্রবেশের ক্রমেও কিছু ব্যতিক্রম দেখা যায়। সাধারণত ইংরেজি বর্ণানুক্রম অনুযায়ী দেশগুলো প্রবেশ করলেও এবার কয়েকটি ক্ষেত্রে সেই ধারাবাহিকতায় ব্যত্যয় ঘটে। এমনকি একটি দেশের নাম একাধিকবার ঘোষণার ঘটনাও ঘটে।
আরেকটি ব্যতিক্রম ছিল মার্চ পাস্টে অ্যাথলেটদের বসার ব্যবস্থা। সাধারণত এ ধরনের আয়োজনে ক্রীড়াবিদরা দাঁড়িয়ে মার্চ পাস্টে অংশ নেন। তবে এবার জাপানের আয়োজনে অংশগ্রহণকারীদের বসার ব্যবস্থা রাখা হয়।
বাংলাদেশের পতাকা বহন করেন শুটার আবদুল্লাহ হেল বাকী ও কারাতেকা হুমায়রা আক্তার অন্তরা। পরদিন যাদের খেলা রয়েছে, নারী ক্রিকেট, হকি ও ব্যাডমিন্টন দলের খেলোয়াড়দের মার্চ পাস্টে রাখা হয়নি। কোচ, কর্মকর্তা ও বাংলাদেশ অলিম্পিক অ্যাসোসিয়েশনের (বিওএ) স্টাফ মিলিয়ে বাংলাদেশের প্রায় ৫০ জন এতে অংশ নেন।
মার্চ পাস্ট শেষে বক্তব্য দেন জাপান অলিম্পিক অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি ও অলিম্পিক কাউন্সিল অব এশিয়ার (ওসিএ) সভাপতি। ওসিএ সভাপতি এশিয়ান গেমসের মাধ্যমে এশিয়ার ক্রীড়াঙ্গনকে একসূত্রে বাঁধার আহ্বান জানান। জাপান অলিম্পিক অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি টোকিও অলিম্পিক এবং হাংজু ও জাকার্তা এশিয়ান গেমসের মতো নাগোয়া আসরও সফলভাবে আয়োজনের আশা প্রকাশ করেন।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন আন্তর্জাতিক অলিম্পিক কমিটির সভাপতি কভেন্ট্রি, জাপানের সম্রাট, সম্রাজ্ঞী ও প্রধানমন্ত্রী।
আনুষ্ঠানিকভাবে গেমসের উদ্বোধন ঘোষণার পর জাপানের হাই জাম্পের এক অ্যাথলেট অংশগ্রহণকারী ক্রীড়াবিদদের পক্ষে শপথ নেন। পরে জাপানের হয়ে অলিম্পিক ও এশিয়ান গেমসে স্বর্ণজয়ী ক্রীড়াবিদদের সমন্বয়ে মশাল প্রজ্জ্বলন করা হয়।
অনুষ্ঠানে গান ও বিভিন্ন সাংস্কৃতিক পরিবেশনাও ছিল। তবে এসব পরিবেশনা খুব বেশি জাঁকজমকপূর্ণ বা চমকপ্রদ ছিল না বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। সব মিলিয়ে প্রযুক্তিনির্ভর বড় কোনো প্রদর্শনীর বদলে তুলনামূলক সংযত আয়োজনের মধ্য দিয়েই শুরু হলো আইচি-নাগোয়া এশিয়ান গেমস।