সামাজিকমাধ্যমে ফুটবলারদের নিয়ে অতিরিক্ত সমালোচনা ও নেতিবাচক মন্তব্য তাঁদের ওপর মানসিক চাপ তৈরি করছে বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ জাতীয় ফুটবল দলের প্রধান কোচ থমাস ডুলি। তাঁর দাবি, পারফরম্যান্সের ঘাটতি নিয়ে খেলোয়াড়দের আক্রমণাত্মকভাবে সমালোচনা করার প্রবণতা তাঁদের আত্মবিশ্বাসে নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে।
বসুন্ধরা কিংস অ্যারেনায় অনুশীলনের আগে সংবাদমাধ্যমের সঙ্গে কথা বলার সময় ডুলি এ বিষয়ে নিজের উদ্বেগের কথা জানান। বিশেষ করে প্রবাসী ফুটবলারদের বাংলাদেশ দলে এসে দ্রুত মানিয়ে নেওয়ার বিষয়টি তুলে ধরেন তিনি।
ডুলি বলেন, ‘আব্বাসের সঙ্গে মানুষ যা করেছে, সেটা দেখুন। একজন অসাধারণ খেলোয়াড় আমাদের দলে এসেছে। কিন্তু এখানকার আবহাওয়ার সঙ্গে মানিয়ে নিতে তারও সমস্যা হয়েছে। সে প্রত্যাশামতো দৌড়াতে পারেনি, নিজের সেরা পারফরম্যান্স দিতে পারেনি। এরপর সামাজিকমাধ্যমে অনেকে তাকে আক্রমণ করতে শুরু করলেন। এভাবে আপনারা তাদের ধ্বংস করছেন।’
ইংল্যান্ডপ্রবাসী ১৯ বছর বয়সী ফরোয়ার্ড অ্যাডাম আব্বাসের উদাহরণ দিয়ে বাংলাদেশ কোচ মূলত নতুন খেলোয়াড়দের সময় দেওয়ার প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দেন। গত ৮ আগস্ট ইংল্যান্ড থেকে ঢাকায় এসে একই দিন যশোরের শামসুল হুদা একাডেমিতে বাংলাদেশ অনূর্ধ্ব-২০ দলের ক্যাম্পে যোগ দিয়েছিলেন আব্বাস।
রাতারাতি বদলে যাবে না বাংলাদেশ
সামনের ফিফা আসিয়ান কাপেও বাংলাদেশের সামনে কঠিন চ্যালেঞ্জ অপেক্ষা করছে। গ্রুপ ‘এ’-তে বাংলাদেশের প্রতিপক্ষ স্বাগতিক ইন্দোনেশিয়া, মালয়েশিয়া ও সিঙ্গাপুর। সর্বশেষ ফিফা র্যাঙ্কিংয়ে ইন্দোনেশিয়া ১১৮, মালয়েশিয়া ১৩৬, সিঙ্গাপুর ১৪৮ এবং বাংলাদেশ ১৮১তম অবস্থানে রয়েছে।
র্যাঙ্কিংয়ের এই ব্যবধানের কথা উল্লেখ করে ডুলি মনে করেন, বাংলাদেশের উন্নতির জন্য সময় প্রয়োজন। তাঁর ভাষায়, ১৮০-এর কাছাকাছি অবস্থান থেকে ১৫০-এর মধ্যে উঠতেও দুই থেকে তিন বছর লেগে যেতে পারে। তাই শক্তিশালী প্রতিপক্ষের বিপক্ষে গিয়ে হঠাৎ করেই জয় পাওয়ার প্রত্যাশাকে তিনি বাস্তবসম্মত মনে করছেন না।
ডুলি বলেন, ‘সিঙ্গাপুর, মালয়েশিয়া কিংবা ইন্দোনেশিয়ার র্যাঙ্কিংয়ের দিকে তাকান। আমরা এখন যেখানে আছি, সেখান থেকে ১৫০-এর মধ্যে যেতে হলেও সময় লাগবে। তারা আমাদের চেয়ে অনেক ওপরে। তাই সেখানে গিয়ে হঠাৎ সবাইকে হারিয়ে দেব—এমনটা ভাবা বাস্তবসম্মত নয়। উন্নতি রাতারাতি সম্ভব নয়।’
সামাজিকমাধ্যমের নেতিবাচক প্রভাব নিয়ে এর আগেও সতর্ক করেছিলেন ডুলি। তাঁর মতে, ফেসবুকসহ সামাজিকমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া সব তথ্য নির্ভরযোগ্য নয়। ফুটবল সম্পর্কে পর্যাপ্ত জ্ঞান না থাকায় অনেক সময় সমর্থকদের মন্তব্য খেলোয়াড়দের জন্য অপ্রয়োজনীয় চাপ তৈরি করতে পারে।
তবে সামাজিকমাধ্যমে সমালোচনা কিংবা ট্রল পুরোপুরি বন্ধ করা সম্ভব নয়—এটিও বাস্তবতা। শেষ পর্যন্ত খেলোয়াড়দের নিজেদের পারফরম্যান্স দিয়েই সমালোচনার জবাব দিতে হবে। ডুলির বর্তমান বার্তাটি মূলত খেলোয়াড়দের উন্নতির জন্য প্রয়োজনীয় সময় ও পরিবেশ দেওয়ার ওপরই গুরুত্ব দিচ্ছে।
২৫ সেপ্টেম্বর বাংলাদেশের প্রথম ম্যাচ
১৯ সেপ্টেম্বর বাংলাদেশ দল ইন্দোনেশিয়ার উদ্দেশে রওনা দেওয়ার কথা।
২৫ সেপ্টেম্বর মালয়েশিয়ার বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে আসিয়ান কাপ অভিযান শুরু করবে বাংলাদেশ। এরপর ২৮ সেপ্টেম্বর সিঙ্গাপুর এবং ১ অক্টোবর স্বাগতিক ইন্দোনেশিয়ার বিপক্ষে গ্রুপপর্বের ম্যাচ খেলবে জামাল ভূঁইয়া-হামজারা। তিনটি ম্যাচই হবে জাকার্তার গেলোরা বুং কার্নো স্টেডিয়ামে।