ক্যারিবিয়ান প্রিমিয়ার লিগে (সিপিএল) অভিষেক আসরটা মেহেদী হাসান মিরাজের জন্য শেষ হলো হতাশা দিয়ে। দ্বিতীয় কোয়ালিফায়ারে জ্যামাইকা কিংসম্যানের বিপক্ষে বল হাতে নিজেকে মেলে ধরতে পারেননি বাংলাদেশের এই অলরাউন্ডার। ফলে হেটমায়ারের দুর্দান্ত সেঞ্চুরিতে ২০৬ রান তুলেও ফাইনালের টিকিট পায়নি গায়ানা অ্যামাজন ওয়ারিয়র্স।
ব্রিজটাউনে টস জিতে আগে ব্যাট করে গায়ানা। দলের বড় সংগ্রহের মূল কারিগর ছিলেন শিমরন হেটমায়ার। মাত্র ৪৫ বলে ১০২ রানের অপরাজিত ইনিংস খেলেন তিনি। তাঁর ঝোড়ো ব্যাটিংয়ে ২০ ওভারে ২০৬ রানের পুঁজি পায় গায়ানা।
তবে বড় লক্ষ্য দিয়েও ম্যাচ ধরে রাখতে পারেনি দলটি। জবাবে শুরু থেকেই রান তোলার গতি ধরে রাখে জ্যামাইকা। সাদাকাত ৪১, ক্রিক ম্যাকেঞ্জি ৩৪ ও কিচি কার্টি ৫৬ রান করে দলকে জয়ের পথে রাখেন। শেষ দিকে রোভম্যান পাওয়েলের মাত্র ১৭ বলে ৪০ রানের বিস্ফোরক ইনিংসে দুই বল হাতে রেখেই জয় নিশ্চিত করে জ্যামাইকা।
গায়ানার হয়ে বোলিংয়ে শুরুতেই আক্রমণে আনা হয় মিরাজকে। ইনিংসের দ্বিতীয় ওভারে বল হাতে নেন তিনি। দুই বাঁহাতি ব্যাটার সাদাকাত ও ম্যাকেঞ্জিকে চাপে রাখার পরিকল্পনা থাকলেও শুরুতেই ধাক্কা খান মিরাজ। তাঁর করা প্রথম ওভারে দুটি ছক্কা ও একটি চারের সাহায্যে ১৮ রান তুলে নেন সাদাকাত।
পাওয়ারপ্লে শেষে আবারও বোলিংয়ে ফেরানো হয় মিরাজকে। সপ্তম ওভারে ৮ রান দেওয়ার পর পরের দুই ওভারে বেশ নিয়ন্ত্রিত বোলিং করেন তিনি। কিন্তু নিজের শেষ ওভারের শেষ দুই বলে সাইম আইয়ুব দুটি ছক্কা হাঁকালে আবারও খরুচে হয়ে ওঠে তাঁর বোলিং।
চার ওভারের কোটা পূরণ করে মিরাজ দেন ৪৩ রান, পাননি কোনো উইকেট। ব্যাটিংয়ের সুযোগও আসেনি তাঁর সামনে।
এবারই প্রথম সিপিএলে খেলতে নেমেছিলেন মিরাজ। মোহাম্মদ নবীর বদলি হিসেবে গায়ানার হয়ে পাঁচ ম্যাচ খেলার সুযোগ পান তিনি। টুর্নামেন্টে মোট ৯টি উইকেট শিকার করেছেন মিরাজ, যার সবকটিই এসেছিল প্রথম তিন ম্যাচে।
প্লে-অফের প্রথম ম্যাচেও উইকেটের দেখা পাননি তিনি। ১.২ ওভার বল করে দিয়েছিলেন ১০ রান। ব্যাট হাতে অবশ্য পুরো আসরেই নিজেকে সেভাবে মেলে ধরতে পারেননি। চার ইনিংসে তাঁর সংগ্রহ মাত্র ২১ রান, স্ট্রাইক রেট ৪৮.৮৩।
অন্যদিকে, হেটমায়ারের সেঞ্চুরি সত্ত্বেও গায়ানার বিদায়ে ফাইনালের মঞ্চে জায়গা করে নিয়েছে জ্যামাইকা কিংসম্যান।