ফ্রান্সের ডাগআউটে নতুন যুগের শুরু জিনেদিন জিদানের হাত ধরে। জাতীয় দলের কোচ হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর প্রথমবার দল ঘোষণা করেই চমক দিয়েছেন ফরাসি কিংবদন্তি। নেশনস লিগের জন্য ঘোষিত ২৩ সদস্যের দলে ঢুকিয়েছেন পাঁচ নতুন মুখ, যাঁদের কারও এখনো আন্তর্জাতিক ফুটবলে অভিষেক হয়নি।
নতুনদের তালিকায় রয়েছেন রেনেসের ফরোয়ার্ড এতিয়েন লেপল, লিভারপুলের ডিফেন্ডার জেরেমি জ্যাকেত, কোমোর মিডফিল্ডার লুকা দা কুনহা, ইন্টার মিলানের ডিফেন্ডার আঁদি দিউফ ও তুলুজের গোলরক্ষক গিলিয়াম রেস্ত।
তবে তারুণ্যের দিকে ঝুঁকলেও অভিজ্ঞদের বাইরে রাখেননি জিদান। বিশ্বকাপের দলে থাকা ১৫ খেলোয়াড়কে এবারও রেখেছেন তিনি। দলের আর্মব্যান্ড থাকছে কিলিয়ান এমবাপ্পের কাছেই।
আক্রমণভাগে অধিনায়ক এমবাপ্পের সঙ্গী হিসেবে থাকছেন উসমান দেম্বেলে ও মাইকেল ওলিসে। দেম্বেলে ২০২৫ সালের ব্যালন ডি’অরজয়ী। সর্বশেষ বিশ্বকাপে ছয় গোল করে নিজের সামর্থ্যের জানান দিয়েছেন তিনি। আর ওলিসে গোল না পেলেও সাতটি অ্যাসিস্ট করে নজর কেড়েছেন।
জিদানের প্রত্যাবর্তন অবশ্য শুধু একটি নতুন স্কোয়াড ঘোষণার গল্প নয়। খেলোয়াড় হিসেবে ১৯৯৮ সালে বিশ্বকাপ জেতার পর কোচ হিসেবে রিয়াল মাদ্রিদকে টানা তিনটি চ্যাম্পিয়নস লিগ জেতানো এই কিংবদন্তির সামনে এবার আরও বড় ইতিহাস গড়ার সুযোগ।
খেলোয়াড় ও কোচ—দুই ভূমিকায় বিশ্বকাপ জেতার কীর্তি এখন পর্যন্ত রয়েছে মারিও জাগালো, ফ্রাঞ্জ বেকেনবাওয়ার ও দিদিয়ের দেশমের। জিদানও সেই বিরল তালিকায় নাম লেখানোর পথে।
ফ্রান্সের সঙ্গে জিদানের চুক্তি রয়েছে ২০৩০ বিশ্বকাপ পর্যন্ত। নতুন দায়িত্বে তাঁর প্রথম পরীক্ষা ২৫ সেপ্টেম্বর। নেশনস লিগে সেদিন তুরস্কের মুখোমুখি হবে ফ্রান্স। এরপর ২৮ সেপ্টেম্বর বেলজিয়াম, ২ অক্টোবর ইতালি এবং ৫ অক্টোবর আবার বেলজিয়ামের বিপক্ষে মাঠে নামবে দলটি।
নেশনস লিগে জিদানের ফ্রান্স দল
গোলরক্ষক: মাইক মাইন্যাঁ, গিলিয়াম রেস্ত, রবিন রিসার।
ডিফেন্ডার: আঁদি দিউফ, জেরেমি জ্যাকেত, পিয়ের কালুলু, ইব্রাহিমা কোনাতে, জুলস কুন্দে, ম্যাক্সেন্স লাক্রোয়া, আদ্রিয়েন ত্রুফের, দায়োত উপামেকানো।
মিডফিল্ডার: এদুয়ার্দো কামাভিঙ্গা, রায়ান শেরকি, লুকা দা কুনহা, মানু কোনে, আদ্রিয়েন রাবিও, ওয়ারেন জায়ের-এমেরি।
ফরোয়ার্ড: ব্র্যাডলি বারকোলা, উসমান দেম্বেলে, দেজিরে দুয়ে, এতিয়েন লেপল, কিলিয়ান এমবাপ্পে, মাইকেল ওলিসে।