জিম্বাবুয়ে সফরের শুরুটা ছিল হতাশার। একমাত্র টেস্টে হারের পর ওয়ানডে সিরিজও হাতছাড়া করে বাংলাদেশ। তবে টি-টোয়েন্টিতে ঘুরে দাঁড়িয়ে শেষ ম্যাচে ৪ উইকেটের নাটকীয় জয়ে ২-১ ব্যবধানে সিরিজ নিজেদের করে নিয়েছে টাইগাররা।
বুলাওয়েতে টস জিতে আগে ব্যাটিংয়ে নেমে শুরুতেই ধাক্কা খায় জিম্বাবুয়ে। নিজের প্রথম ওভারেই ওপেনার তাদিওয়ানাশে মারুমানিকে (৪) ফিরিয়ে দেন শেখ মেহেদী হাসান। এরপর ব্রায়ান বেনেট ও ডিয়ন মেয়ার্স দ্বিতীয় উইকেটে প্রতিরোধ গড়ে তোলেন।
বেনেট ৩৮ বলে ৪৭ রান করে মোহাম্মদ সাইফউদ্দিনের শিকার হন। এক প্রান্তে মেয়ার্স ফিফটি তুলে নিলেও অন্যপ্রান্তে নিয়মিত উইকেট হারাতে থাকে স্বাগতিকরা। সিকান্দার রাজাকে (৩) ফেরান রিশাদ হোসেন, রায়ান বার্লকে (৭) আউট করেন আবদুল গাফফার সাকলাইন। শেষদিকে ব্র্যাড ইভান্স রানআউট হওয়ার পরের বলেই ক্লিভ মাদান্দেকে ফিরিয়ে দেন সাইফউদ্দিন।
শেষ ওভারে ডিয়ন মেয়ার্স ৫৩ বলে ৭৩ রানের দুর্দান্ত ইনিংস খেললেও শেষ পর্যন্ত ২০ ওভারে ৭ উইকেটে ১৪৩ রানেই থামে জিম্বাবুয়ে। বাংলাদেশের হয়ে মোহাম্মদ সাইফউদ্দিন নেন ২ উইকেট। শেখ মেহেদী হাসান, রিশাদ হোসেন ও আবদুল গাফফার সাকলাইন পান একটি করে উইকেট।
১৪৪ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে শুরুতেই সাইফ হাসান (৪) ফিরে যান। পাওয়ারপ্লেতে বাংলাদেশ তোলে ১ উইকেটে ৩০ রান। পরে ওপেনার পারভেজ হোসেন ইমন ২২ বলে ২৪ রান করে আউট হন।
এরপর তানজিদ হাসান তামিম ও অধিনায়ক তাওহিদ হৃদয় দলকে এগিয়ে নেন। হৃদয় ১৯ বলে ২৪ রান করেন। ইয়াসির আলী চৌধুরী যোগ করেন ১০ রান। তবে শেষ দিকে দ্রুত কয়েকটি উইকেট হারিয়ে চাপে পড়ে বাংলাদেশ।
শেষ ওভারে জয়ের জন্য প্রয়োজন ছিল ৫ রান। প্রথম বলে আসে ১ রান। এরপর টানা দুই বলে মোসাদ্দেক হোসেন ও মোহাম্মদ সাইফউদ্দিনকে ফিরিয়ে দেন ব্র্যাড ইভান্স। সমীকরণ দাঁড়ায় ৩ বলে ৪ রান। পরের ডেলিভারির আগে ফিল্ডিং পরিবর্তনের কারণে আম্পায়ার ডেড বল ঘোষণা করেন। পুনরায় করা বলে শেখ মেহেদী হাসান দারুণ এক বাউন্ডারি হাঁকিয়ে বাংলাদেশকে এনে দেন ৪ উইকেটের রোমাঞ্চকর জয়।
এই জয়ের মাধ্যমে তিন ম্যাচের টি-টোয়েন্টি সিরিজ ২-১ ব্যবধানে নিজেদের করে নেয় বাংলাদেশ। টেস্ট ও ওয়ানডে সিরিজ হারলেও সফরের শেষটা হাসিমুখেই শেষ করল টাইগাররা।