২০২৬ বিশ্বকাপের ফাইনালে আর্জেন্টিনার সবচেয়ে বড় ভরসাগুলোর একটি লিওনেল মেসি হলেও, স্পেনের জন্য আলাদা দুশ্চিন্তার কারণ হয়ে উঠেছেন মিডফিল্ডার এনজো ফার্নান্দেজ। দূরপাল্লার দুর্দান্ত শট, নিরলস পরিশ্রম এবং ম্যাচের গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তে জ্বলে ওঠার ক্ষমতা—সব মিলিয়ে আর্জেন্টিনার এই মিডফিল্ড ‘জেনারেল’ ফাইনালের আগে স্পেনের নজরের কেন্দ্রে।
ইংল্যান্ডের বিপক্ষে সেমিফাইনালে দূরপাল্লার শক্তিশালী শটে গোল করে দলকে ম্যাচে ফেরান এনজো। পুরো ম্যাচে একাধিক দূরপাল্লার চেষ্টা করেন তিনি, যার একটি জালে জড়িয়ে আর্জেন্টিনাকে এনে দেয় গুরুত্বপূর্ণ সমতা। এমন শটই এখন স্পেনের রক্ষণভাগের অন্যতম বড় সতর্কতার জায়গা।
২০২২ কাতার বিশ্বকাপে সেরা উদীয়মান খেলোয়াড়ের পুরস্কার জেতা এনজো চার বছর পর এখন আর্জেন্টিনার মিডফিল্ডের প্রধান নিয়ন্ত্রক। দায়িত্ব বেড়েছে, বেড়েছে তাঁর প্রভাবও। আক্রমণ গড়ে তোলা থেকে শুরু করে রক্ষণ সামলানো—মাঠের প্রায় প্রতিটি জায়গাতেই তাঁর উপস্থিতি চোখে পড়ে।
পরিসংখ্যানও এনজোর গুরুত্বের প্রমাণ দেয়। আর্জেন্টিনার মিডফিল্ডারদের মধ্যে প্রতি ৯০ মিনিটে গোল, শট, লাইন ভাঙা পাস এবং বল পুনরুদ্ধারে এগিয়ে রয়েছেন তিনি। ইংল্যান্ডের বিপক্ষে দুই দল মিলিয়ে সবচেয়ে বেশি ১০৪ বার বল স্পর্শ করেন এবং তাঁর সফল পাসের হার ছিল প্রায় ৯৮ শতাংশ। এছাড়া ম্যাচজুড়ে প্রায় ১০.৭ কিলোমিটার দৌড়ে নিজের ফিটনেস ও কর্মক্ষমতারও দারুণ প্রমাণ দেন।
এনজোর আরেকটি বড় বৈশিষ্ট্য হলো গুরুত্বপূর্ণ সময়ে গোল করার অভ্যাস। বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে আগেও একাধিকবার শেষ মুহূর্তে দলকে উদ্ধার করেছেন তিনি। তাই ফাইনালেও স্পেনের জন্য তাঁর দূরপাল্লার শট ও বক্সের বাইরে থেকে গোল করার সামর্থ্য বড় হুমকি হয়ে উঠতে পারে।
ইংল্যান্ডকে হারানোর পর এনজো নিজেও জানিয়েছেন, টুর্নামেন্টের শুরুতে পুরোপুরি স্বস্তিতে না থাকলেও ধীরে ধীরে নিজের সেরা ছন্দ ফিরে পেয়েছেন। সেই আত্মবিশ্বাস নিয়েই তিনি নামছেন বিশ্বকাপের ফাইনালে।
এখন দেখার অপেক্ষা, স্পেনের বিপক্ষেও এনজো ফার্নান্দেজ তাঁর ‘দূরপাল্লার মিসাইল’ ছুড়ে আর্জেন্টিনাকে শিরোপার আরও কাছে নিয়ে যেতে পারেন কি না।