ফুটবল ক্যারিয়ারে প্রায় সব অর্জনই নিজের করে নিয়েছেন লিওনেল মেসি। বিশ্বকাপ শিরোপা থেকে গোল্ডেন বল—সব বড় পুরস্কারই উঠেছে তার হাতে। তবে একটি পুরস্কার এখনো অধরা রয়েছে আর্জেন্টাইন অধিনায়কের জন্য, সেটি হলো বিশ্বকাপের গোল্ডেন বুট।
এক আসরে বিশ্বকাপের সর্বোচ্চ গোলদাতার এই পুরস্কার জয়ের সুযোগ এবার মেসির সামনে থাকলেও পথটা কঠিন করে দিয়েছেন ফ্রান্সের অধিনায়ক কিলিয়ান এমবাপ্পে।
ইংল্যান্ডের বিপক্ষে তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচে দুই গোল করে গোল্ডেন বুটের দৌড়ে এগিয়ে গেছেন এমবাপ্পে। চলতি বিশ্বকাপে তার গোলসংখ্যা এখন ১০। অন্যদিকে ফাইনালের আগে মেসির গোল ৮টি।
বাংলাদেশ সময় রোববার (১৯ জুলাই) দিবাগত রাত ১টায় নিউজার্সির মেটলাইফ স্টেডিয়ামে স্পেনের বিপক্ষে ফাইনালে নামবে আর্জেন্টিনা। এই ম্যাচেই গোল করে এমবাপ্পেকে ছাড়িয়ে যাওয়ার সুযোগ রয়েছে মেসির সামনে।
তবে শুধু দুই গোল করলেই হবে না মেসির। কারণ গোলসংখ্যা সমান হলে এগিয়ে থাকবেন এমবাপ্পে। দুই খেলোয়াড়ের অ্যাসিস্ট সংখ্যাও সমান—৪টি করে। তাই এরপর বিবেচনায় আসবে মাঠে খেলার সময়।
এমবাপ্পে এখন পর্যন্ত খেলেছেন ৭৬৯ মিনিট, আর মেসির খেলার সময় ৭১২ মিনিট। নিয়ম অনুযায়ী গোল ও অ্যাসিস্ট সমান হলে যে খেলোয়াড় কম সময় মাঠে ছিলেন, তিনি এগিয়ে থাকবেন। তাই মেসিকে এমবাপ্পেকে টপকাতে আরও নিখুঁত হিসাব মেলাতে হবে।
গোল্ডেন বুট জিততে মেসির সামনে মূলত তিনটি সুযোগ রয়েছে।
প্রথমত, স্পেনের বিপক্ষে ফাইনালে হ্যাটট্রিক করতে হবে। তাহলে তার গোলসংখ্যা দাঁড়াবে ১১টি, যা এমবাপ্পের ১০ গোলকে ছাড়িয়ে যাবে।
দ্বিতীয়ত, মেসিকে করতে হবে দুটি গোল এবং অন্তত একটি অ্যাসিস্ট। এতে তার গোল হবে ১০টি এবং অ্যাসিস্ট বেড়ে হবে ৫টি, যা এমবাপ্পের চেয়ে বেশি হবে।
তৃতীয়ত, মেসি যদি ফাইনালে ৫৭ মিনিটের মধ্যে দুটি গোল করে মাঠ ছাড়েন, তাহলে গোল ও অ্যাসিস্ট সমান থাকলেও কম সময় খেলার সুবিধায় গোল্ডেন বুট জয়ের সম্ভাবনা তৈরি হবে।
বিশ্বকাপ ফাইনাল তাই শুধু শিরোপা নির্ধারণের ম্যাচ নয়, মেসি ও এমবাপ্পের ব্যক্তিগত লড়াইয়েরও শেষ অধ্যায় হতে যাচ্ছে।