সিলেটের গোয়াইনঘাট উপজেলার ডৌবাড়ী ইউনিয়নের হাকুর বাজার-মানিকগঞ্জ রাস্তার কাজে ব্যাপক দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে উপজেলা এলজিইডি প্রকৌশলী ও ঠিকাদার প্রতিষ্ঠান ‘আরিফ এন্টারপ্রাইজ’-এর বিরুদ্ধে। রাস্তাটি সংস্কার কাজ শেষ হওয়ার মাত্র দুই মাসের ভেতরেই সড়কের বিভিন্ন জায়গার পিচ ও পাথর উঠে খানাখন্দ সৃষ্টি হয়েছে।
স্থানীয় একাধিক ব্যক্তির সঙ্গে আলাপকালে জানা যায়, হাকুর বাজার-মানিকগঞ্জ রাস্তাটি তিনটি ইউনিয়নের ওপর দিয়ে প্রবাহিত হলেও উপজেলাধীন পাঁচটি ইউনিয়নের মানুষের কাছে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সড়ক এটি। এই সড়ক দিয়ে প্রতিনিয়ত উপজেলা সদর ও সিলেট জেলা সদরের সঙ্গে যাতায়াত ব্যবস্থার দূরত্ব কম হওয়ায় ডৌবাড়ী ইউনিয়ন, ফতেহপুর ইউনিয়ন,পূর্ব আলীরগাঁও ইউনিয়ন, পশ্চিম আলীরগাঁও ইউনিয়ন ও লেঙ্গুরা ইউনিয়নের সাধারণ মানুষ, স্কুল, কলেজ ও মাদরাসাপড়ুয়া ছাত্রছাত্রীরা এই সড়ক দিয়ে চলাচল করে থাকেন।
দীর্ঘদিন পর সড়কটি সংস্কার কাজ দেখে স্থানীয় এলাকাবাসী ও ছাত্র-ছাত্রীরা আনন্দিত হলেও আশানুরূপ কাজ হয়নি সড়কটির। দুই মাস যেতে না যেতেই সড়কটিতে বিছানো নতুন কার্পেটিং উঠে বেশিরভাগ রাস্তাটি এখন মরণ ফাঁদে পরিণত হয়েছে। এতে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন স্থানীয় ব্যবসায়ী, পথচারী ও সচেতন মহল।
এলজিইডি কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, প্রায় ৮৭ লাখ টাকা বরাদ্দে এই সড়ক সংস্কারের কাজটি পায় ‘আরিফ এন্টারপ্রাইজ’ নামের একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। অভিযোগ উঠেছে, প্রতিষ্ঠানটি কাজ শুরুর পর থেকেই অত্যন্ত নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহার করে আসছিল। পাথরের সঙ্গে নামমাত্র ও নিম্নমানের বিটুমিন ব্যবহার করায় কার্পেটিং টেকসই হয়নি।
স্থানীয় ব্যবসায়ী জমির উদ্দিনসহ এলাকার বাসিন্দারা জানান, ঠিকাদার সড়ক সংস্কারে চরম গাফিলতি করেছেন। বিটুমিন ও পাথর পরিমাণে অনেক কম দেওয়া হয়েছে। অবস্থা এমন দাঁড়িয়েছে যে, গাড়ির চাকার ঘর্ষণেই রাস্তায় বিছানো পাথর উঠে যাচ্ছে। এমনকি হাত বা পা দিয়ে সামান্য চাপ দিলেই কার্পেটিং আলাদ হয়ে যাচ্ছে।
স্থানীয় ইউপি সদস্য রুনা আক্তার বলেন, ৮৭ লাখ টাকা ব্যয়ে আমাদের হাকুর বাজার-মানিকগঞ্জ রাস্তাটির সংস্কার কাজ শেষ হতে না হতেই দুই মাসের মধ্যে গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। ঠিকাদার ও সংশ্লিষ্টরা এতই নিম্নমানের বিটুমিন ও নির্মাণ সামগ্রী ব্যবহার করেছেন যে, জনগণের ট্যাক্সের টাকা এভাবে লুটপাট হয়ে গেল! এখন এই বর্ষায় ভাঙা রাস্তায় চলতে গিয়ে এলাকার সাধারণ মানুষ, রোগী এবং স্কুল-কলেজ ও মাদরাসাগামী শিক্ষার্থীদের চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। আমরা জনপ্রতিনিধি হিসেবে জনগণের কাছে জবাবদিহি করতে পারছি না। আমি প্রশাসনের কাছে জোর দাবি জানাচ্ছি, এই হরিলুট ও দুর্নীতির সুষ্ঠু তদন্ত করা হোক এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে দ্রুত কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হোক। একই সঙ্গে রাস্তাটি যাতে পুনরায় টেকসইভাবে সংস্কার করা হয়, সেই ব্যবস্থা নেওয়া দরকার।
সরেজমিনে সড়কটি ঘুরে দেখা গেছে, সম্প্রতি সংস্কার করা হাকুর বাজার-মানিকগঞ্জ রাস্তার অধিকাংশ জায়গারই কার্পেটিংয়ের পাথর উঠে গেছে। অনেক জায়গায় সড়ক দেবে গিয়ে আগের মতোই বড় বড় গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। ফলে এই সড়ক দিয়ে চলাচলকারী যানবাহন ও পথচারীদের চরম ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে। স্থানীয়রা অবিলম্বে এই অনিয়ম ও দুর্নীতির সুষ্ঠু তদন্ত করে দোষী ঠিকাদারের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থার দাবি জানিয়েছেন।
অভিযোগের বিষয়ে জানতে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান আরিফ এন্টারপ্রাইজের স্বত্বাধিকারী এনাম উদ্দিন তাফাদারের মোবাইল ফোনে বারবার ফোন করা হলেও তিনি তা ধরেননি। ফলে এ বিষয়ে তার কোনো বক্তব্য বা মতামত পাওয়া যায়নি।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে গোয়াইনঘাট উপজেলা প্রকৌশলী হাসিব আহমেদ বলেন, আমি নিজে সড়কটি পরিদর্শন করে বিভিন্ন অংশের কার্পেটিং উঠে যাওয়ার বিষয়টি দেখেছি। যেসব জায়গায় কাজ নষ্ট হয়েছে, সেখানে পুনরায় নতুন করে কাজ করার জন্য ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে কঠোর নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। তিনি আরো জানান, ঠিকাদারকে এখনো কাজের চূড়ান্ত বিল (ফাইনাল বিল) দেওয়া হয়নি। প্রাক্কলন (ইস্টিমিট) অনুযায়ী শতভাগ মানসম্মত কাজ বুঝিয়ে না দিলে কোনো অবস্থাতেই চূড়ান্ত বিল পাস করা হবে না বলে জানান তিনি।