ফরিদপুরের সদরপুর উপজেলার চরবিষ্ণুপুর ইউনিয়নের কৃষ্ণমঙ্গলের ডাঙ্গী গ্রামে চলাচলের একটি পুরোনো রাস্তা বাঁশের বেড়া ও নেট জাল দিয়ে বন্ধ করে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এতে প্রায় দুই বছর ধরে অন্তত ২৫টি পরিবার কার্যত অবরুদ্ধ অবস্থায় মানবেতর জীবনযাপন করছে বলে অভিযোগ করেছেন স্থানীয়রা। তবে অভিযুক্ত পক্ষ দাবি করেছে, এটি তাদের ব্যক্তিগত মালিকানাধীন জমি হওয়ায় সম্পত্তি রক্ষার স্বার্থেই বেড়া দেওয়া হয়েছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, আলমগীর বেপারী, রতন মণ্ডলসহ কয়েকজন রাস্তার ওপর বাঁশের বেড়া ও নেট জাল দিয়ে চলাচল বন্ধ করে দিয়েছেন। ফলে গ্রামের বাসিন্দাদের বাধ্য হয়ে জঙ্গল কিংবা অন্যের বাড়ির উঠান দিয়ে চলাচল করতে হচ্ছে। এতে স্কুলগামী শিশু, অসুস্থ রোগী ও কৃষকদের সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।
গ্রামের বাসিন্দা প্রভাত বৈদ্য বলেন, প্রায় একশ বছর ধরে এলাকাবাসী এই রাস্তা ব্যবহার করে আসছেন। হঠাৎ করে রাস্তা বন্ধ করে দেওয়ায় প্রয়োজনের সময় বাড়ি থেকে বের হওয়াও কঠিন হয়ে পড়েছে। দ্রুত রাস্তা খুলে দিতে প্রশাসনের হস্তক্ষেপ চান তিনি।
স্থানীয় গৃহবধূ ফেন্সী বেগম জানান, তার সন্তানসহ গ্রামের অনেক শিশু প্রতিদিন ঝুঁকিপূর্ণ জঙ্গলপথ দিয়ে স্কুলে যায়। বর্ষা মৌসুমে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে ওঠে। অসুস্থ ব্যক্তিকে হাসপাতালে নেওয়া কিংবা নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্র আনা-নেওয়াতেও চরম ভোগান্তির মুখে পড়তে হচ্ছে।
কৃষকদের অভিযোগ, রাস্তা বন্ধ থাকায় কৃষিযন্ত্র ও উৎপাদিত ফসল জমি থেকে আনা-নেওয়ায় অতিরিক্ত সময় ও অর্থ ব্যয় হচ্ছে। এতে কৃষিকাজ ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি আর্থিক ক্ষতিরও শিকার হচ্ছেন তারা।
তবে অভিযোগ অস্বীকার করে জায়গার একাংশের মালিক দাবি করা হারুন বেপারী বলেন, জমিটি তাদের দলিলভুক্ত ব্যক্তিগত সম্পত্তি। সম্পত্তি রক্ষার জন্যই সেখানে বেড়া দেওয়া হয়েছে, কারও চলাচল বন্ধ করার উদ্দেশ্যে নয়।
এ বিষয়ে সদরপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শরীফ শাওন বলেন, অভিযোগের বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। যদি এটি সরকারি বা জনসাধারণের চলাচলের রাস্তা হয়ে থাকে এবং অবৈধভাবে বন্ধ করে রাখা হয়ে থাকে, তাহলে বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।