চট্টগ্রাম বন্দরের বহির্নোঙরে নোঙর করা একটি বিদেশি জাহাজে পাইরেসি (ক্ষুদ্র জলদস্যুতা) বা সংঘবদ্ধ চুরির ঘটনা ঘটেছে। বুধবার (১৫ জুলাই) রাত ১টার দিকে সাগরের চার্লি অ্যাংকরেজ এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
জানা গেছে, সিয়েরা লিওনের পতাকাবাহী ট্যাংকার ‘তাই শিউয়েন’ হংকং থেকে ১৫ জুলাই রাতে চট্টগ্রাম বন্দরের বহির্নোঙরে পৌঁছে। জাহাজটি সীতাকুণ্ডের একটি শিপ ব্রেকিং ইয়ার্ডে স্ক্র্যাপ হিসেবে বিক্রির জন্য আনা হয়েছিল।
বন্দরসংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, জাহাজটি নোঙর করার কাজে নাবিকরা ব্যস্ত থাকার সুযোগে পাঁচটি কাঠের বোটে করে প্রায় ২০ জনের একটি সংঘবদ্ধ দল জাহাজে উঠে পড়ে। তারা জাহাজের ডেকে থাকা মূল্যবান রশি, ব্যাটারিসহ বিভিন্ন সরঞ্জাম চুরি করে নিয়ে যায়।
ঘটনার পর জাহাজটির ইন্দোনেশীয় ক্যাপ্টেন রেডিও কন্ট্রোলের মাধ্যমে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষকে বিষয়টি জানান। তবে নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা কোস্ট গার্ড ঘটনাস্থলে পৌঁছানোর আগেই চোরের দল পালিয়ে যায়।
চট্টগ্রাম বন্দরের মেরিন বিভাগ জানিয়েছে, প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য কোস্ট গার্ডকে অবহিত করা হয়েছে।
শিপিং এজেন্ট বেনলাইন শিপিং-এর কর্ণধার মোশাররফ হোসেন বলেন, জাহাজটি নোঙর করার সময় মুহূর্তের মধ্যে পাঁচটি বোটে করে ২০ জনের একটি দল ডেকে উঠে পড়ে। তাদের একদল নোঙর করার কাজে বাধা দেয়, অন্যদল জাহাজের মূল্যবান সরঞ্জাম চুরি করে নিয়ে যায়। ক্যাপ্টেন নিয়ন্ত্রণ কক্ষে খবর দিলেও নিরাপত্তা বাহিনী পৌঁছানোর আগেই তারা পালিয়ে যায়।
তিনি বলেন, ঘটনাটি ছোট মনে হলেও এর প্রভাব অনেক বড়। প্রায় ৩ হাজার টন ওজনের জাহাজেও এখন এ ধরনের দস্যুতার ঘটনা বেড়ে গেছে। দস্যুরা মাছ ধরার আড়ালে জাহাজের আশপাশে অবস্থান করে এবং সুযোগ পেলেই জাহাজে উঠে চুরি-ডাকাতি চালায়। গত এক মাসে আমার তিনটি জাহাজে একই ধরনের চুরির ঘটনা ঘটেছে। সবকটিই চার্লি অ্যাংকরেজ এলাকায়। এসব ঘটনায় নাবিক থেকে শুরু করে শিপিং সংশ্লিষ্ট সবাই উদ্বেগে রয়েছেন।