নেত্রকোণার মোহনগঞ্জে মাত্র ২৪ ঘণ্টার ব্যবধানে দুই সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের দুই শিক্ষার্থীকে অপহরণ ও অপহরণের চেষ্টার ঘটনায় জনমনে তীব্র উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। সন্তানদের নিরাপত্তা নিয়ে আতঙ্কে রয়েছেন অভিভাবকরা। পরিস্থিতিতে শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও অভিভাবকদের সচেতন করতে বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে মতবিনিময় সভা শুরু করেছে মোহনগঞ্জ থানা পুলিশ।
বুধবার (১৫ জুলাই) মোহনগঞ্জ থানা এই মতবিনিময় সভার আয়োজন করে।
সভায় মোহনগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. হাফিজুল ইসলাম হারুন বলেন, পরপর দুই ঘটনায় স্বাভাবিকভাবেই অভিভাবকদের মধ্যে উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছে। ঘটনাগুলোর প্রকৃত রহস্য উদঘাটনে পুলিশ সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে কাজ করছে। তিনি অভিভাবকদের সন্তানদের চলাফেরার বিষয়ে আরও সতর্ক থাকার আহ্বান জানান এবং যেকোনো সন্দেহজনক ঘটনা ঘটলে দ্রুত থানায় জানাতে অনুরোধ করেন।
ওসি বলেন, আপনাদের কোনো সমস্যা হলে সঙ্গে সঙ্গে থানায় যোগাযোগ করবেন। আমরা দ্রুত ব্যবস্থা নেব। শুধু একটি বিদ্যালয় নয়, পৌর শহরের প্রতিটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে গিয়ে সচেতনতামূলক মতবিনিময় কার্যক্রম পরিচালনা করা হবে।
গত সোমবার দুপুরে পৌর শহরের দৌলতপুর মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থী জেরিন আক্তার (১১) টিফিনের সময় বিদ্যালয়ের গেটের বাইরে গেলে কয়েকজন অজ্ঞাত ব্যক্তি তাকে রাস্তার পাশে পড়ে থাকা একটি রুমাল তুলে দিতে বলে। পরিবারের অভিযোগ, রুমালটি তুলতেই সে অচেতন হয়ে পড়ে। পরে তাকে ব্যাটারিচালিত অটোরিকশায় তুলে নিয়ে যাওয়া হয়।
বিদ্যালয় ছুটির পর জেরিন বাড়িতে না ফেরায় পরিবারের সদস্যরা বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি শুরু করেন। পরে রাত সাড়ে ১০টার দিকে মোহনগঞ্জ রেলস্টেশনে দাঁড়িয়ে থাকা আন্তঃনগর মোহনগঞ্জ এক্সপ্রেস ট্রেনের খাবারের বগি থেকে স্থানীয় লোকজন তাকে উদ্ধার করেন। প্রাথমিক চিকিৎসার পর তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য নেত্রকোণা আধুনিক সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়।
এর আগের দিন রোববার বিকেলে ১ নম্বর মোহনগঞ্জ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের তৃতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী সোমাইয়া আক্তার (৯)-কে অপহরণের চেষ্টা করা হয়। পরিবারের ভাষ্য, বিদ্যালয় থেকে বাড়ি ফেরার পথে একটি সিএনজিচালিত অটোরিকশা থেকে নেমে এক যুবক জোর করে তাকে গাড়িতে তুলে মুখ চেপে ধরে। পরে বিরামপুর বাজার এলাকায় পৌঁছে সোমাইয়া অপহরণকারীর হাতে কামড় দিয়ে চলন্ত গাড়ি থেকে লাফিয়ে পড়ে। স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে পরিবারের কাছে পৌঁছে দেন।
দুই ঘটনার পর সন্তানদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন অভিভাবকরা। অভিভাবক শামীমা আক্তার শিশির বলেন, এমনিতেই সন্তানদের নিয়ে দুশ্চিন্তায় থাকি। পরপর দুই ঘটনায় সেই ভয় আরও বেড়ে গেছে।
১ নম্বর মোহনগঞ্জ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক উম্মে হাবিবা আসমা বলেন, ঘটনার পর শিক্ষক ও অভিভাবক সবাই উদ্বিগ্ন। শিক্ষার্থীদের একা বিদ্যালয়ের বাইরে না যাওয়া এবং দলবেঁধে কিংবা অভিভাবকের সঙ্গে চলাচলের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
এদিকে, দুই ঘটনারই তদন্ত অব্যাহত রেখেছে পুলিশ। তবে এখন পর্যন্ত কোনো ঘটনায় লিখিত অভিযোগ পাওয়া যায়নি বলে জানিয়েছেন ওসি মো. হাফিজুল ইসলাম হারুন। তিনি বলেন, অভিযোগ না পেলেও ঘটনাগুলোর তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহ এবং সংশ্লিষ্টদের শনাক্তে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
পরপর দুই শিশুকে ঘিরে ঘটে যাওয়া এসব ঘটনায় মোহনগঞ্জে শিশুদের নিরাপত্তা এখন সবচেয়ে বড় আলোচনার বিষয় হয়ে উঠেছে। অভিভাবকরা দ্রুত দোষীদের শনাক্ত ও আইনের আওতায় এনে নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন।