বান্দরবানের লামা উপজেলায় টানা ভারী বর্ষণ ও ভয়াবহ পাহাড়ি ঢলে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া গেছে। উপজেলার ৫নং সরই ইউনিয়নের ধুইল্যা পাড়া এলাকায় অবস্থিত 'হারেস মাল্টি ফার্ম'এর তিনটি বড় মৎস্য প্রজেক্টের বাঁধ ভেঙে প্রায় কোটি টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে জানা গেছে। পাহাড়ি ঢলের তোড়ে ভেসে গেছে প্রজেক্টের বিপুল পরিমাণ মাছ।
সোমবার (১৩ জুলাই) সরেজমিনে পরিদর্শনে গিয়ে দেখা যায়, গত কয়েকদিনের টানা অতিবৃষ্টির কারণে সৃষ্ট পাহাড়ি ঢলে সরই ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকার সড়ক, সেতু, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও মৎস্য প্রজেক্ট প্লাবিত হয়।
ঢলের পানির তীব্র স্রোতে ধুইল্যা পাড়া এলাকার হারেস মাল্টি ফার্মের ১৫ একর জায়গাজুড়ে বিস্তৃত তিনটি প্রজেক্টের বাঁধ সম্পূর্ণ ভেঙে যায়। এতে প্রজেক্টে থাকা প্রায় ৯০ লক্ষ টাকার বিভিন্ন প্রজাতির মাছ মুহূর্তের মধ্যে ভেসে যায়। এছাড়া বাঁধের অবকাঠামোগত ভাঙনে আরও লাখ লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে, যার ফলে সব মিলিয়ে মোট ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ কোটি টাকা ছাড়িয়ে গেছে।
আকস্মিক এই বিপর্যয়ে দিশেহারা হয়ে পড়েছেন খামারি। হারেস মাল্টি ফার্মের স্বত্বাধিকারী হারেস কোম্পানি বলেন, "টানা ভারী বর্ষণ আর পাহাড় থেকে নেমে আসা ঢলের তীব্র স্রোতে আমার স্বপ্নের মৎস্য প্রজেক্টের বাঁধগুলো ভেঙে চুরমার হয়ে গেছে। চোখের সামনে কোটি টাকার মাছ ভেসে গেল।৭০ লক্ষ টাকা ব্যাংক লোন নিয়ে আমি এই প্রজেক্ট দাড় করিয়েছি এই মুহূর্তে আমি সম্পূর্ণ নিঃস্ব হয়ে পড়েছি।" ভাঙনকবলিত প্রজেক্টের বাঁধগুলো দ্রুত সংস্কার এবং এই বিপুল ক্ষতি কাটিয়ে উঠতে প্রশাসনের কাছে জরুরি ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য তিনি বিনীত অনুরোধ জানান তিনি।
এদিকে পাহাড়ি ঢলে ইউনিয়নের গ্রামীণ রাস্তাঘাট ও অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় স্থানীয় বাসিন্দাদেরও চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। ক্ষতিগ্রস্ত চাষিকে সরকারিভাবে সহায়তা প্রদান এবং দ্রুত বাঁধ মেরামতের উদ্যোগ নেওয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সুদৃষ্টি কামনা করেছেন এলাকাবাসী।
লামা উপজেলা মৎস কর্মকর্তা মো.আসাদুজ্জামান জানান,হারেস মাল্টি ফার্মে ৯৬ লক্ষ টাকার ক্ষয়ক্ষতির তথ্য পেয়েছি, ক্ষতিগ্রস্ত মৎস্য চাষীদের জন্য যদি বরাদ্দ পাওয়া যায়, তবে ক্ষতির পরিমাণ বিবেচনা করে সহযোগিতা করা হবে।