জেনারেল এরশাদ: বাংলাদেশের রাজনীতির এক অনিবার্য অধ্যায়

সুজন দে

মতামত

সময়ের ব্যবধানে মানুষ যেমন একজন রাষ্ট্রনায়ক বা রাজনৈতিক নেতাকে তার ভুলের জন্য মূল্যায়ন করে, তেমনি দেশ ও দেশের মানুষের জন্য

2026-07-13T17:26:53+00:00
2026-07-13T17:53:39+00:00
  মঙ্গলবার, ১৪ জুলাই ২০২৬,
৩০ আষাঢ় ১৪৩৩
 
মঙ্গলবার, ১৪ জুলাই ২০২৬
মতামত
জেনারেল এরশাদ: বাংলাদেশের রাজনীতির এক অনিবার্য অধ্যায়
সুজন দে
সোমবার, ১৩ জুলাই, ২০২৬, ৫:২৬ পিএম  আপডেট: ১৩.০৭.২০২৬ ৫:৫৩ পিএম
প্রয়াত জেনারেল হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ। ছবি: সংগৃহীত
সময়ের ব্যবধানে মানুষ যেমন একজন রাষ্ট্রনায়ক বা রাজনৈতিক নেতাকে তার ভুলের জন্য মূল্যায়ন করে, তেমনি দেশ ও দেশের মানুষের জন্য তার অসামান্য অবদানও নতুন করে বিচার করে। বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে এমন খুব কম নেতা আছেন, যাদের নিয়ে মতভেদ এত প্রবল, আবার যাদের অবদান নিয়েও ইতিবাচক আলোচনা এত বিস্তৃত। জাতীয় পার্টির প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান ও সাবেক রাষ্ট্রপতি  সেই বিরল ব্যতিক্রম ব্যক্তিত্ব। নিঃসন্দেহে তিনি বাংলাদেশের রাজনীতির এক অনিবার্য অধ্যায়। 

১৯৮২ সালের ২৪ মার্চ সেনাপ্রধান হুসেইন মুহাম্মদ এরশাদ বিচারপতি আবদুস সাত্তারের নেতৃত্বাধীন নির্বাচিত সরকারকে হটিয়ে রাষ্ট্রক্ষমতা দখল করেন। পরবর্তীতে ১৯৮৩ সালের ১১ ডিসেম্বর তিনি নিজেকে দেশের রাষ্ট্রপতি হিসেবে ঘোষণা করেন। ২০১৯ সালের ১৪ জুলাই ৮৯ বছর বয়সে তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। ১৯৮২ সালে রাষ্ট্রক্ষমতায় এসে তিনি প্রায় নয় বছর দেশ পরিচালনা করেন। ১৯৯০ সালের ৬ ডিসেম্বর গণ-অভ্যুত্থানের মুখে তাকে ক্ষমতা ছাড়তে হয়। তার শাসনামল ছিল সামরিক শাসনের বাস্তবতা, রাজনৈতিক আন্দোলন এবং গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের দাবিতে উত্তাল। বিএনপি, আওয়ামী লীগ, জামায়াত, বামপন্থি দলসহ প্রায় সব বিরোধী রাজনৈতিক শক্তি তার বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ হয়েছিল। ইতিহাসের এই অধ্যায় অস্বীকার করার সুযোগ নেই। তবে ইতিহাসের আরেকটি দিকও সমানভাবে গুরুত্বপূর্ণ। উন্নয়নকে যদি রাষ্ট্র পরিচালনার অন্যতম সূচক হিসেবে ধরা হয়, তাহলে জেনারেল এরশাদের সময়কার বহু উন্নয়নমূলক কর্মকান্ড আজও বাংলাদেশের মানুষের মুখেমুখে আলোচনায় রয়েছে।

বাংলাদেশের সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থার সম্প্রসারণ, জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে অবকাঠামো উন্নয়ন, প্রশাসনিক বিকেন্দ্রীকরণের উদ্যোগ এবং স্থানীয় সরকারকে কার্যকর করার প্রচেষ্টা তার শাসনামলের উল্লেখযোগ্য দিক। উপজেলা পরিষদ ব্যবস্থা চালুর মাধ্যমে ক্ষমতা রাজধানীকেন্দ্রিক না রেখে তৃণমূলে পৌঁছে দেওয়ার যে প্রচেষ্টা নেওয়া হয়েছিল, তা নিঃসন্দেহে একটি যুগান্তকারী প্রশাসনিক পদক্ষেপ ছিল। 

পরবর্তী সময়ে নানা সরকার ভিন্ন ভিন্ন রূপে এই ব্যবস্থাকে অব্যাহত রেখেছে। আজ যখন আঞ্চলিক বা প্রাদেশিক প্রশাসন নিয়ে নতুন করে আলোচনা হচ্ছে, তখন অনেকেই স্মরণ করেন,এরশাদ কয়েক দশক আগেই প্রশাসনিক বিকেন্দ্রীকরণের প্রশ্নটি সামনে এনেছিলেন। সময় হয়তো তখন তাঁর ভাবনাকে পুরোপুরি গ্রহণ করেনি, কিন্তু রাষ্ট্র পরিচালনায় বিকেন্দ্রীকরণের গুরুত্ব আজ আর কেউ অস্বীকার করেন না।

স্বাস্থ্য খাতেও তার সরকারের সময় জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে স্বাস্থ্যসেবা সম্প্রসারণের উদ্যোগ নেওয়া হয়। একই সঙ্গে শিক্ষা, সেচ, বন্যা নিয়ন্ত্রণ এবং গ্রামীণ অবকাঠামো উন্নয়নের বিভিন্ন প্রকল্প বাস্তবায়িত হয়। দেশের শিল্পায়নের ক্ষেত্রে তৈরি পোশাক শিল্পের বিকাশে সরকারি নীতিগত সহায়তাও সেই সময়ে আরও সুসংহত হয়, যা পরবর্তী সময়ে বাংলাদেশের অর্থনীতির প্রধান চালিকাশক্তিতে পরিণত হয়েছে।

বাংলাদেশের ধর্মীয় সম্প্রীতি রক্ষায় প্রয়াত এরশাদের রয়েছে অসামান্য অবদান। ১৯৮৮ সালে তিনি সংবিধানের অষ্টম সংশোধনীর মাধ্যমে ইসলামকে বাংলাদেশের রাষ্ট্রধর্ম হিসেবে ঘোষণা করেন। রোববারের পরিবর্তে তিনি পবিত্র জুম্মার নামাজ আদায়ের সুবিধার্থে শুক্রবার সরকারি ছুটি ঘোষণা করেন। তার সময়ে সকল মসজিদ, মন্দির, গির্জা ও প্যাগোডার পানি ও বিদ্যুৎ বিল স্থায়ীভাবে মওকুফ করা হয়। 

এ ছাড়া কওমি ও আলিয়া মাদ্রাসার স্বীকৃতি, সরকারি যাকাত বোর্ড গঠন এবং ইসলামিক ফাউন্ডেশনের সম্প্রসারণে তিনি বড় ভূমিকা রাখেন। সনাতন ধর্মাবলম্বীদের প্রধান ধর্মীয় উৎসব শ্রীকৃষ্ণের জন্মদিন জন্মাষ্টমীতে প্রথমবারের মতো সরকারি ছুটি ঘোষণা করেন তিনি। সনাতন ধর্মাবলম্বীদের কল্যাণে তিনি হিন্দু ধর্মীয় কল্যাণ ট্রাস্ট গঠন করেন। জেনারেল হুসেইন মুহম্মদ এরশাদই বলেছিলেন মুক্তিযোদ্ধারা সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ সন্তান। সাভারের জাতীয় স্মৃতিসৌধের অসমাপ্ত কাজ সম্পন্ন ও সৌন্দর্য বৃদ্ধি তিনি করেছিলেন। 

শহীদ পরিবার ও যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধাদের পুনর্বাসনের জন্য মুক্তিযোদ্ধা কল্যাণ ট্রাস্টের কার্যকারিতা বৃদ্ধি করেন। এ ছাড়া প্রতিদিন বাংলাদেশ টেলিভিশনে সংবাদের আগে জাতীয় স্মৃতিসৌধ ও মুক্তিযুদ্ধের গান প্রচারের প্রথা তিনিই চালু করেন।

ক্রীড়া সেক্টরে হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের অবদান অপরিসীম। তিনিই প্রথম বাংলাদেশে ক্রীড়াঙ্গনের আধুনিকায়নে বড় ধরনের ভূমিকা পালন করেন। ব্যক্তিগত জীবনে ক্রীড়াপ্রেমী এরশাদ তার শাসনামলে স্টেডিয়াম নির্মাণ, ক্রীড়া শিক্ষা প্রতিষ্ঠান প্রতিষ্ঠা এবং বিভিন্ন আন্তর্জাতিক টুর্নামেন্ট চালুর মাধ্যমে দেশের খেলাধুলার ব্যাপক প্রসার ঘটান।

দেশের তৃণমূল পর্যায় থেকে দক্ষ খেলোয়াড় তৈরির লক্ষ্যে এরশাদ সাভারে বাংলাদেশ ক্রীড়া শিক্ষা প্রতিষ্ঠান (বিকেএসপি) প্রতিষ্ঠা করেন। মিরপুরে জাতীয় স্টেডিয়াম (বর্তমানে শের-ই-বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়াম) উন্নত করা হয় এবং আউটার স্টেডিয়াম নির্মাণ করা হয়। এছাড়া নির্মিত হয় আর্মি স্টেডিয়াম, মওলানা ভাসানী হকি স্টেডিয়াম এবং মহিলা ক্রীড়া কমপ্লেক্স। ঢাকার ধানমন্ডিতে আধুনিক সুইমিং পুল, বাস্কেটবল কোর্ট ও জাতীয় টেনিস কমপ্লেক্স নির্মাণে তিনি সরাসরি পৃষ্ঠপোষকতা করেন।

আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ অবদান ছিল জাতিসংঘের শান্তিরক্ষা মিশনে বাংলাদেশের সশস্ত্র বাহিনীর অংশগ্রহণের সূচনা। শুরুতে বিষয়টি নিয়ে রাজনৈতিক বিতর্ক থাকলেও আজ বাংলাদেশের সেনাবাহিনী, নৌবাহিনী, বিমানবাহিনী ও পুলিশ জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা কার্যক্রমে বিশ্বজুড়ে সুনামের সঙ্গে দায়িত্ব পালন করছে। বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন, আন্তর্জাতিক মর্যাদা এবং পেশাগত দক্ষতা বৃদ্ধির ক্ষেত্রেও এর ইতিবাচক প্রভাব সুস্পষ্ট। এই উদ্যোগের দীর্ঘমেয়াদি তাৎপর্য আজ আরও স্পষ্টভাবে উপলব্ধি করা যায়।

অন্যদিকে, রাষ্ট্রপতি হিসেবে জেনারেল এরশাদের বৈদেশিক নীতির অন্যতম বৈশিষ্ট্য ছিল ভারসাম্যপূর্ণ কূটনীতি। তিনি একই সঙ্গে ভারত, যুক্তরাষ্ট্র, চীন এবং মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোর সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক জোরদারে গুরুত্ব দেন। বিশেষ করে সার্ক-এর কার্যক্রমে সক্রিয় অংশগ্রহণ, মধ্যপ্রাচ্যে বাংলাদেশি শ্রমবাজার সম্প্রসারণ এবং উন্নয়ন সহযোগিতা বাড়ানোর উদ্যোগ তার পররাষ্ট্রনীতির উল্লেখযোগ্য দিক ছিল। আদর্শিক বিভাজনের পরিবর্তে জাতীয় স্বার্থকে অগ্রাধিকার দিয়ে বহুমাত্রিক কূটনৈতিক সম্পর্ক গড়ে তোলাই ছিল তার পররাষ্ট্রনীতির মূল বৈশিষ্ট্য।

প্রয়াত জেনারেল হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ দেশের পল্লী জনগণ বিশেষ করে কৃষকদের কল্যাণে যুগান্তকারী পদক্ষেপ গ্রহণের জন্য ‘পল্লীবন্ধু’ হিসেবে পরিচিত। প্রশাসনিক ক্ষমতা তৃণমূল পর্যায়ে পৌঁছে দিতে এরশাদ উপজেলা ব্যবস্থা চালু করেন। এর ফলে প্রত্যন্ত অঞ্চলের মানুষ নিজ নিজ এলাকায় সরকারি সেবা সহজে পাওয়ার সুযোগ পায়। কৃষকদের সুবিধার্থে তিনি ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত কৃষিঋণের সুদ মওকুফ করেছিলেন এবং কৃষি যন্ত্রপাতি ও সেচ যন্ত্রের ওপর শুল্ক প্রত্যাহার করে নিয়েছিলেন। এ ছাড়া প্রান্তিক কৃষকদের সুরক্ষার জন্য ‘ঋণ সালিশি বোর্ড’ গঠন করা হয়।

১৯৮৪ সালে প্রণীত ভূমি সংস্কার অধ্যাদেশের মাধ্যমে বর্গাচাষিদের অধিকার সুরক্ষিত করা হয়েছিল, যা গ্রামীণ ভূমিহীন ও দরিদ্র কৃষকদের জন্য অত্যন্ত ইতিবাচক ছিল।

১৯৯০ সালের ৬ ডিসেম্বর গণ-আন্দোলনের মুখে ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ কারাবন্দি থাকলেও ১৯৯১ সালের ২৭ ফেব্রুয়ারি জাতীয় সংসদ নির্বাচনে পাঁচটি আসনে বিজয়ী হয়ে বাংলাদেশের রাজনীতিতে নিজের জনপ্রিয়তার একটি শক্তিশালী বার্তা দেন।

বিশেষ করে বৃহত্তর রংপুর অঞ্চলে তার জনপ্রিয়তা দীর্ঘদিন অটুট ছিল। জীবনের শেষ সময়ে তিনি জাতীয় সংসদে বিরোধীদলীয় নেতা ছিলেন। তার মৃত্যুতে দেশের প্রায় সব রাজনৈতিক দল শোক প্রকাশ করে। সাধারণ মানুষের ব্যাপক উপস্থিতিতে তার জানাজা অনুষ্ঠিত হয়, যা তার জনপ্রিয়তার একটি দিক তুলে ধরে।

১৯৯০ ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পরও পরবর্তী তিন দশকেরও বেশি সময়ে জাতীয় পার্টি কখনও আওয়ামী লীগ( বর্তমানে কার্যক্রম নিষিদ্ধ) এর সঙ্গে, আবার কখনও বিএনপির সঙ্গে রাজনৈতিক সমঝোতার মাধ্যমে দেশের ক্ষমতার রাজনীতিতে একটি কার্যকর ‘কিংমেকার’ বা ‘ট্রাম্প কার্ড’ হিসেবে ভূমিকা পালন করে।

২০১৪, ২০১৮ ও ২০২৪ সালের অনুষ্ঠিত জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর প্রধান বিরোধী দলের আসনে বসে জাতীয় পার্টি। যদিও এই তিনটি নির্বাচন নিয়েই বিতর্ক রয়েছে। এরমধ্যে ২০১৪ ও ২০২৪ সালের নির্বাচনে বিএনপির মতো বড় দল অংশগ্রহণই করেনি। তবে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট গণঅভ্যুত্থানে শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে জাতীয় পার্টির রাজনৈতিক ভিত্তি দুর্বল হয়ে পড়ে। 

সর্বশেষ ২০২৬ সালের ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত জাতীয় সংসদ নির্বাচনে লাঙল প্রতীক নিয়ে অংশ নিয়েও জাতীয় পার্টি কোনো আসনে জয় পায়নি। যা দীর্ঘ প্রায় সাড়ে তিন দশকের মধ্যে প্রথম। যদিও দলটির নেতারা নির্বাচনের নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। কিন্তু বাস্তবতা হলো, নতুন রাজনৈতিক বাস্তবতায় জাতীয় পার্টিকে নিজেদের অবস্থান ও জনআস্থা পুনর্গঠনের বড় চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে হয়েছে।

বর্তমান রাজনৈতিক বাস্তবতায় জাতীয় পার্টির সামনে সবচেয়ে বড় প্রশ্ন—অতীতের ঐতিহ্য ও রাজনৈতিক অভিজ্ঞতাকে ভিত্তি করে তারা কি নতুন প্রজন্মের কাছে নিজেদের আবারও একটি প্রাসঙ্গিক রাজনৈতিক শক্তি হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করতে পারবে, নাকি ইতিহাসের একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় হয়েই সীমাবদ্ধ থাকবে।

বর্তমানে জাতীয় পার্টি সাংগঠনিক ভাবে বিভক্ত হলেও উভয় পক্ষই এরশাদের রাজনৈতিক দর্শনের উত্তরাধিকার দাবি করে। উভয় পক্ষই মুক্তিযুদ্ধের চেতনা, সাম্য, সামাজিক ন্যায়, উন্নয়ন, গণতান্ত্রিক রাজনীতি এবং প্রতিহিংসামুক্ত রাজনৈতিক সংস্কৃতির কথা বলে। পাশাপাশি প্রয়াত এরশাদকে নিয়ে রাজনৈতিক মতপার্থক্য থাকলেও এরশাদের নাম ও রাজনৈতিক ঐতিহ্য এখনো বাংলাদেশের রাজনীতিতে প্রাসঙ্গিক।

তবে একজন রাষ্ট্রনায়কের মূল্যায়ন কখনো একপাক্ষিক হতে পারে না। এরশাদের শাসনামল যেমন উন্নয়নের নানা উদ্যোগের জন্য স্মরণীয়, তেমনি গণতন্ত্র, রাজনৈতিক স্বাধীনতা ও সামরিক শাসনের প্রশ্নে সমালোচনারও মুখোমুখি। ইতিহাসের ন্যায়সংগত মূল্যায়ন এই দুই বাস্তবতাকেই একসঙ্গে বিবেচনা করে।

আজ মৃত্যুবার্ষিকীর দিনে হুসেইন মুহাম্মদ এরশাদকে স্মরণ করার অর্থ শুধু একজন সাবেক রাষ্ট্রপতিকে স্মরণ করা নয় বরং বাংলাদেশের রাষ্ট্রগঠনের এক জটিল অধ্যায়কে নতুন করে ভাবা। ব্যক্তি এরশাদকে নিয়ে বিতর্ক চলতেই পারে, কিন্তু তার নেওয়া কিছু সুদূরপ্রসারী উদ্যোগ আজও রাষ্ট্র পরিচালনার আলোচনায় ফিরে আসে। হয়তো এ কারণেই তিনি শুধু অতীতের একজন শাসক নন, বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসের এমন এক চরিত্র, যাকে এড়িয়ে দেশের রাষ্ট্রবিকাশের পূর্ণাঙ্গ ইতিহাস লেখা সম্ভব নয়।

লেখক: সাংবাদিক ও যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক পলিটিক্যাল রিপোর্টার্স ফোরাম।


  বিষয়:   হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ  জাতীয় পার্টি  বাংলাদেশের রাজনীতি  সাবেক রাষ্ট্রপতি  রাজনৈতিক ইতিহাস 


Loading...
Loading...

মতামত- এর আরো খবর

Loading...
Loading...
© 2026 Daily Daily Bhorer Dak
সম্পাদক ও প্রকাশক : কে.এম. বেলায়েত হোসেন
৪-ডি, মেহেরবা প্লাজা, ৩৩ তোপখানা রোড, ঢাকা-১০০০ থেকে প্রকাশিত এবং মনিরামপুর প্রিন্টিং প্রেস ৭৬/এ নয়াপল্টন, ঢাকা থেকে মুদ্রিত। পিএবিএক্স: ৪১০৫২২৪৫, ৪১০৫২২৪৬, ০১৭৭৫-৩৭১১৬৭, বিজ্ঞাপন ও সার্কুলেশন: ৪১০৫২২৫৮
ই-মেইল : [email protected], [email protected]
ফলো করুন: