বর্ষায় যেন ভেসে না যায় শিশুর শিক্ষাজীবন

দীপু মাহমুদ

মতামত

বাংলাদেশে বর্ষা একদিকে জীবন ও জীবিকার আশীর্বাদ, অন্যদিকে প্রতিবছর পুনরাবৃত্ত হওয়া এক নীরব শিক্ষাসংকটের নাম। বর্ষার বৃষ্টি, উজান থেকে নেমে

2026-07-09T11:40:48+00:00
2026-07-09T11:40:48+00:00
  রবিবার, ১২ জুলাই ২০২৬,
২৮ আষাঢ় ১৪৩৩
 
রবিবার, ১২ জুলাই ২০২৬
মতামত
বর্ষায় যেন ভেসে না যায় শিশুর শিক্ষাজীবন
দীপু মাহমুদ
বৃহস্পতিবার, ৯ জুলাই, ২০২৬, ১১:৪০ এএম 
সংগৃহীত ছবি
বাংলাদেশে বর্ষা একদিকে জীবন ও জীবিকার আশীর্বাদ, অন্যদিকে প্রতিবছর পুনরাবৃত্ত হওয়া এক নীরব শিক্ষাসংকটের নাম। বর্ষার বৃষ্টি, উজান থেকে নেমে আসা ঢল, নদীভাঙন, বন্যা কিংবা দীর্ঘস্থায়ী জলাবদ্ধতার সংবাদ আমরা নিয়মিত দেখি। ক্ষয়ক্ষতির হিসাবও হয়- কত কিলোমিটার সড়ক ভেঙেছে, কত হেক্টর জমির ফসল নষ্ট হয়েছে, কত মানুষ আশ্রয়কেন্দ্রে উঠেছে। কিন্তু একটি ক্ষতি প্রায়ই পরিসংখ্যানের আড়ালে থেকে যায়। সেটা হলো, কত শিশুর শেখার ধারাবাহিকতা ভেঙে গেল, কত শিশু কয়েক সপ্তাহ বিদ্যালয়ে যেতে পারল না, কতজন পাঠ্যবই থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ল, আর সেই বিরতির কতটা প্রভাব তাদের ভবিষ্যতের ওপর পড়ল।

শিক্ষা শুধু বিদ্যালয়ের চার দেয়ালের ভেতরে কিছু পাঠ শেষ করার নাম নয়, এটা একটি ধারাবাহিক প্রক্রিয়া। বিশেষ করে প্রাথমিক স্তরের শিশুদের ক্ষেত্রে প্রতিটি দিন গুরুত্বপূর্ণ। এই বয়সে তারা ভাষা শেখে, পড়তে শেখে, সংখ্যা বোঝে, যুক্তি করতে শেখে, বন্ধুদের সঙ্গে মিশতে শেখে এবং আত্মবিশ্বাস গড়ে তোলে। এই ধারাবাহিকতায় বারবার ছেদ পড়লে ক্ষতি শুধু কয়েকটি ক্লাসের নয়, ক্ষতিগ্রস্ত হয় তাদের শেখার ভিত্তি। শিক্ষা অর্থনীতির গবেষণায় বহুবার দেখানো হয়েছে, শৈশবের শিখন-ঘাটতি পরবর্তী জীবনে পূরণ করা সবচেয়ে কঠিন। অর্থাৎ আজকের কয়েক সপ্তাহের শিক্ষাবিরতি আগামী দিনের দক্ষ জনশক্তির সংকটে রূপ নিতে পারে।

বাংলাদেশের জন্য বিষয়টি আরও গুরুত্বপূর্ণ, কারণ আমরা ইতোমধ্যেই একটি বড় শিখন-সংকটের মুখোমুখি। ইউনিসেফের সাম্প্রতিক তথ্য অনুযায়ী, দেশের ৭ থেকে ১৪ বছর বয়সী শিশুদের মাত্র প্রায় অর্ধেক বয়সোপযোগী পাঠদক্ষতা অর্জন করতে পারে। গণিত দক্ষতার চিত্র আরও উদ্বেগজনক। অর্থাৎ বিপুলসংখ্যক শিশু বিদ্যালয়ে গেলেও প্রত্যাশিত শেখা নিশ্চিত হচ্ছে না। এই বাস্তবতায় বর্ষাজনিত শিক্ষাবিরতি সেই সংকটকে আরও গভীর করে তোলে। শিখন-ঘাটতির ওপর নতুন করে যুক্ত হয় অনুপস্থিতির চাপ, যা সবচেয়ে বেশি ক্ষতি করে দরিদ্র ও প্রান্তিক পরিবারের শিশুদের।

জলবায়ু পরিবর্তন এই পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে। একসময় যে বন্যা বা অতিবৃষ্টি কয়েক বছর পরপর ঘটত, এখন অনেক অঞ্চলে তা প্রায় নিয়মিত ঘটনা। ২০২৪ সালে তীব্র তাপপ্রবাহ, ঘূর্ণিঝড় ও বন্যার কারণে বাংলাদেশের প্রায় সাড়ে তিন কোটি শিশুর শিক্ষা কোনো না কোনোভাবে ব্যাহত হয়েছিল বলে ইউনিসেফ জানিয়েছে। কোথাও বিদ্যালয় বন্ধ ছিল, কোথাও শিক্ষার্থীরা যাতায়াত করতে পারেনি, আবার কোথাও বিদ্যালয় আশ্রয়কেন্দ্রে পরিণত হয়েছিল। সিলেট অঞ্চলের বহু শিক্ষার্থী কয়েক সপ্তাহের শ্রেণিশিক্ষা হারিয়েছে। এই অভিজ্ঞতা স্পষ্ট করে যে, জলবায়ু পরিবর্তন এখন শুধু পরিবেশগত নয়, এটা শিক্ষারও অন্যতম বড় চ্যালেঞ্জ।

বর্ষার অভিঘাত অবশ্য দেশের সব অঞ্চলে সমান নয়। হাওরাঞ্চলে বর্ষা মানেই বিস্তীর্ণ জনপদ পানিতে ডুবে যাওয়া। চরাঞ্চলে নদীর স্রোত ও ভাঙনের কারণে যাতায়াত অনিশ্চিত হয়ে পড়ে। উপকূলীয় এলাকায় অতিবৃষ্টি ও জোয়ার পরিস্থিতিকে আরও কঠিন করে তোলে। অনেক বিদ্যালয়ে পৌঁছাতে নৌকাই একমাত্র ভরসা। আবহাওয়া খারাপ হলে সেই পথও বন্ধ হয়ে যায়। অনেক বিদ্যালয় আবার দুর্যোগের সময় আশ্রয়কেন্দ্র হিসেবে ব্যবহৃত হয়। তখন শিক্ষা কার্যক্রম সপ্তাহের পর সপ্তাহ বন্ধ থাকে।

কিন্তু শহরাঞ্চলও এই সংকটের বাইরে নয়। ঢাকাসহ বড় শহরগুলোতে কয়েক ঘণ্টার ভারী বৃষ্টিতেই জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়। সড়কে যানজট, নোংরা পানি, বিদ্যুৎসংকট ও স্বাস্থ্যঝুঁকির কারণে অভিভাবকেরা ছোট শিশুদের বিদ্যালয়ে পাঠাতে অনীহা দেখান। ফলে উপস্থিতি কমে যায়। অর্থাৎ বর্ষাজনিত শিক্ষাবিচ্ছিন্নতা এখন শুধু হাওর বা চরাঞ্চলের সমস্যা নয়, জাতীয় বাস্তবতা, যদিও এর তীব্রতা অঞ্চলভেদে ভিন্ন।

এই পরিস্থিতির সবচেয়ে বড় শিকার হয় সেই শিশুরা, যাদের পরিবারে পড়াশোনার জন্য আলাদা সহায়ক পরিবেশ নেই। শহরের তুলনামূলক সচ্ছল পরিবারের একজন শিশু বিদ্যালয় বন্ধ থাকলেও বই, ইন্টারনেট বা পরিবারের সহায়তায় কিছুটা শেখা চালিয়ে যেতে পারে। কিন্তু দরিদ্র পরিবারের অধিকাংশ শিশুর সেই সুযোগ থাকে না। অনেকের ঘরই পানিতে ডুবে যায়, বই-খাতা নষ্ট হয়, পড়ার জায়গা থাকে না। পরিবারের প্রধান লক্ষ্য হয়ে দাঁড়ায় নিরাপদ আশ্রয় ও খাদ্যের ব্যবস্থা। শিক্ষার প্রশ্নটি তখন স্বাভাবিকভাবেই পেছনে চলে যায়।

এর সামাজিক প্রভাবও গভীর। দীর্ঘদিন বিদ্যালয়ের বাইরে থাকলে অনেক শিশুর পড়াশোনার অভ্যাস ভেঙে যায়। কেউ পারিবারিক কাজে যুক্ত হয়, কেউ মৌসুমি শ্রমে যায়। কিশোরীদের ক্ষেত্রে অল্প বয়সে বিয়ের ঝুঁকিও বেড়ে যেতে পারে। অর্থাৎ বর্ষাজনিত শিক্ষাবিচ্ছিন্নতা কেবল একটি শিক্ষাগত সমস্যা নয়- এটা দারিদ্র্য, বৈষম্য, শিশুশ্রম এবং সামাজিক নিরাপত্তার সঙ্গেও সরাসরি সম্পর্কিত।

তবু আশার জায়গা আছে। কারণ এই সংকট নতুন নয়, ফলে এর সমাধানের পথও অজানা নয়। প্রশ্ন হলো, আমরা কি এখনো প্রতি বর্ষায় তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেওয়ার সংস্কৃতি থেকে বেরিয়ে এসে একটি স্থায়ী, দুর্যোগ-সহনশীল শিক্ষাব্যবস্থা গড়ে তুলতে প্রস্তুত? যদি প্রস্তুত না হই, তবে প্রতিবছর একই ভুলের পুনরাবৃত্তি হবে, আর তার মূল্য দেবে আমাদের শিশুরাই।

সমস্যাটি আমরা জানি, অভিজ্ঞতাও নতুন নয়। তবু প্রতিবছর বর্ষা এলেই শিক্ষা কার্যক্রমে একই ধরনের বিঘ্ন ঘটে। এর প্রধান কারণ, আমাদের শিক্ষা পরিকল্পনায় দুর্যোগকে এখনো ব্যতিক্রমী ঘটনা হিসেবে দেখা হয়, অথচ জলবায়ু পরিবর্তনের বাস্তবতায় এটা আর ব্যতিক্রম নয়, বরং নতুন বাস্তবতা। সেই বাস্তবতার সঙ্গে খাপ খাওয়াতে না পারলে শিক্ষার ধারাবাহিকতা রক্ষা করা সম্ভব হবে না।

বাংলাদেশে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনায় উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়েছে। ঘূর্ণিঝড়ের আগাম সতর্কতা, আশ্রয়কেন্দ্র, দুর্যোগ-পরবর্তী পুনর্বাসন- এসব ক্ষেত্রে আন্তর্জাতিকভাবেও বাংলাদেশের সাফল্যের স্বীকৃতি রয়েছে। কিন্তু শিক্ষা খাতকে এখনো সেই দুর্যোগ প্রস্তুতির অবিচ্ছেদ্য অংশ করা যায়নি। বিদ্যালয় বন্ধ হলে কোথায় বিকল্প পাঠদান হবে, কীভাবে শিশুদের শেখা অব্যাহত থাকবে, কোন শিক্ষক কোন শিক্ষার্থীর সঙ্গে যোগাযোগ রাখবেন, কীভাবে শিখন-ঘাটতি মূল্যায়ন করা হবে- এসব বিষয়ে অধিকাংশ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের কোনো প্রস্তুত পরিকল্পনা নেই।

অথচ পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে ভিন্ন চিত্র দেখা যায়। জাপানে ভূমিকম্প, ফিলিপাইনে টাইফুন কিংবা ইন্দোনেশিয়ায় আগ্নেয়গিরির অগ্ন্যুৎপাত- প্রাকৃতিক দুর্যোগ সত্ত্বেও শিক্ষা দ্রুত পুনরুদ্ধারের জন্য আগাম পরিকল্পনা থাকে। বিকল্প শ্রেণিকক্ষ, অস্থায়ী শিক্ষা কেন্দ্র, স্থানীয় স্বেচ্ছাসেবী নেটওয়ার্ক, শিক্ষাসামগ্রী বিতরণ এবং দুর্যোগ-পরবর্তী ‘লার্নিং রিকভারি’ কর্মসূচি সেখানে শিক্ষা ব্যবস্থার অংশ। দুর্যোগকে থামানো যায় না, কিন্তু শেখাকে থামিয়ে না দেওয়ার প্রস্তুতি নেওয়া যায়- এই দর্শনই তাদের সাফল্যের ভিত্তি।

বাংলাদেশেও ইতিবাচক উদাহরণ আছে। নদীবিধৌত অঞ্চলে ভাসমান বিদ্যালয় বহু বছর ধরে দেখিয়ে আসছে, ভৌগোলিক প্রতিবন্ধকতা অতিক্রম করেও শিক্ষা পৌঁছে দেওয়া সম্ভব। নৌকাভিত্তিক বিদ্যালয়, ভ্রাম্যমাণ গ্রন্থাগার কিংবা কমিউনিটিভিত্তিক শিক্ষাকেন্দ্র প্রমাণ করেছে, স্থানীয় বাস্তবতা বোঝা গেলে সমাধানও স্থানীয়ভাবেই তৈরি করা যায়। কিন্তু এসব উদ্যোগ এখনো প্রকল্পভিত্তিক, জাতীয় শিক্ষা পরিকল্পনার মূলধারায় এগুলোকে যথেষ্ট গুরুত্ব দেওয়া হয়নি।

এখানেই নীতিগত পরিবর্তনের প্রয়োজন। প্রথমত, দেশের সব দুর্যোগপ্রবণ বিদ্যালয়ের জন্য বাধ্যতামূলক বিদ্যালয়ভিত্তিক দুর্যোগ শিক্ষা পরিকল্পনা থাকতে হবে।

দ্বিতীয়ত, বন্যা বা জলাবদ্ধতার ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় বিকল্প পাঠদানের জন্য কমিউনিটি লার্নিং সেন্টার, অস্থায়ী শ্রেণিকক্ষ বা মোবাইল শিক্ষাকেন্দ্রের ব্যবস্থা আগেভাগেই প্রস্তুত রাখতে হবে।

তৃতীয়ত, প্রাথমিক শ্রেণির শিশুদের জন্য সহজপাঠ, অনুশীলনপত্র ও স্বশিক্ষা উপকরণ আগেই বিতরণ করা যেতে পারে, যাতে বিদ্যালয় সাময়িক বন্ধ থাকলেও শেখা পুরোপুরি থেমে না যায়।

চতুর্থত, প্রযুক্তিকে বাস্তবতার সঙ্গে মিলিয়ে ব্যবহার করতে হবে। অনলাইন শিক্ষা সহায়ক হতে পারে, কিন্তু সেটাই একমাত্র সমাধান নয়। যেখানে ইন্টারনেট নেই, সেখানে এসএমএসভিত্তিক নির্দেশনা ও কমিউনিটি রেডিও, অফলাইন ডিজিটাল কনটেন্ট, কিংবা শিক্ষক-অভিভাবকের সমন্বয়ে ছোট ছোট শেখার দল কার্যকর হতে পারে। বাংলাদেশের বৈচিত্র্যময় বাস্তবতায় একটিমাত্র সমাধান দিয়ে সব অঞ্চলের সমস্যা মোকাবিলা সম্ভব নয়।

পঞ্চমত, দুর্যোগ শেষে শুধু দ্রুত সিলেবাস শেষ করার মানসিকতা থেকে বেরিয়ে আসতে হবে। যে শিশুর শেখায় ঘাটতি তৈরি হয়েছে, তাকে অতিরিক্ত সহায়তা, পুনরুদ্ধারমূলক পাঠদান এবং প্রয়োজন হলে মানসিক সহায়তা দিতে হবে। শিক্ষা শুধু পরীক্ষার ফল নয়, শেখার গুণগত মান নিশ্চিত করাই হওয়া উচিত মূল লক্ষ্য।

সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, শিক্ষা ও জলবায়ু অভিযোজনকে এখন একই নীতিগত কাঠামোর মধ্যে আনতে হবে। বাংলাদেশ ইতিমধ্যে জলবায়ু পরিবর্তনের সঙ্গে খাপ খাওয়ানোর জন্য বিভিন্ন পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে। সেখানে শিক্ষাকে একটি অগ্রাধিকার খাত হিসেবে আরও স্পষ্টভাবে অন্তর্ভুক্ত করা জরুরি। কারণ জলবায়ু-সহনশীল অবকাঠামো গড়ে তোলার পাশাপাশি জলবায়ু-সহনশীল শিক্ষাব্যবস্থা গড়ে তোলাও সমান গুরুত্বপূর্ণ।

আমাদের মনে রাখতে হবে, একটি বিদ্যালয় কয়েক সপ্তাহ বন্ধ থাকা শুধু প্রশাসনিক সমস্যা নয়, এটা মানবসম্পদ উন্নয়নের প্রশ্ন। যে শিশু আজ বর্ষার কারণে নিয়মিত পড়াশোনা করতে পারছে না, কয়েক বছর পর সেই শিশুই হয়তো দক্ষ কর্মী, চিকিৎসক, শিক্ষক, প্রকৌশলী বা উদ্যোক্তা হওয়ার সুযোগ থেকে বঞ্চিত হবে। তাই প্রতিটি হারানো পাঠদিবস দেশের ভবিষ্যৎ উৎপাদনশীলতারও ক্ষতি।

বাংলাদেশ উন্নয়নযাত্রার এক গুরুত্বপূর্ণ সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে। উচ্চ-মধ্যম আয়ের দেশের পথে এগোতে হলে সবচেয়ে বড় বিনিয়োগ হতে হবে মানুষের জ্ঞান ও দক্ষতায়। সেই বিনিয়োগের ভিত্তি তৈরি হয় প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শ্রেণিকক্ষে। যদি জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাতে সেই ভিত্তিই বারবার দুর্বল হয়ে পড়ে, তবে উন্নয়নের অগ্রযাত্রাও দীর্ঘমেয়াদে বাধাগ্রস্ত হবে।

বর্ষা আমাদের থামাবে না- এই অঙ্গীকারই হওয়া উচিত রাষ্ট্রের। নদীর পানি বাড়বে, বৃষ্টি হবে, কোথাও বন্যাও আসবে। কিন্তু কোনো শিশুর শিক্ষা থেমে যাবে কিনা, সেটা প্রকৃতি নয়, আমাদের নীতি, প্রস্তুতি এবং রাজনৈতিক অগ্রাধিকারই নির্ধারণ করবে।

আগামী বর্ষা তাই শুধু আরেকটি মৌসুম নয়, এটা বাংলাদেশের শিক্ষাব্যবস্থার জন্য একটি পরীক্ষা। সেই পরীক্ষায় সফল হতে হলে এখনই এমন একটি দুর্যোগ-সহনশীল শিক্ষা কাঠামো গড়ে তুলতে হবে, যেখানে কোনো শিশু শুধু বন্যা, জলাবদ্ধতা বা ভাঙা সড়কের কারণে শেখার অধিকার থেকে বঞ্চিত হবে না। কারণ প্রত্যেক শিশুর নিরবচ্ছিন্ন শিক্ষা নিশ্চিত করা শুধু সাংবিধানিক দায়িত্ব নয়- সমৃদ্ধ, বৈষম্যহীন ও টেকসই বাংলাদেশের পূর্বশর্ত।

লেখক : কথাসাহিত্যিক 


Loading...
Loading...

মতামত- এর আরো খবর

Loading...
Loading...
© 2026 Daily Daily Bhorer Dak
সম্পাদক ও প্রকাশক : কে.এম. বেলায়েত হোসেন
৪-ডি, মেহেরবা প্লাজা, ৩৩ তোপখানা রোড, ঢাকা-১০০০ থেকে প্রকাশিত এবং মনিরামপুর প্রিন্টিং প্রেস ৭৬/এ নয়াপল্টন, ঢাকা থেকে মুদ্রিত। পিএবিএক্স: ৪১০৫২২৪৫, ৪১০৫২২৪৬, ০১৭৭৫-৩৭১১৬৭, বিজ্ঞাপন ও সার্কুলেশন: ৪১০৫২২৫৮
ই-মেইল : [email protected], [email protected]
ফলো করুন: