গাজীপুর মহাসড়কের সার্ভিস লেনের ওপর হাটবাজার, নীরব প্রশাসন

গাজীপুর জেলা সংবাদদাতা

সারাদেশ

ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কের গাজীপুর মহানগর ও কালিয়াকৈর উপজেলার বিশেষ অংশে পথচারী ও ধীরগতির যানবাহনের জন্য নির্ধারিত সার্ভিস লেন ও ফুটপাত এখন

2026-07-13T14:08:49+00:00
2026-07-13T14:08:49+00:00
  বৃহস্পতিবার, ৬ আগস্ট ২০২৬,
২২ শ্রাবণ ১৪৩৩
 
বৃহস্পতিবার, ৬ আগস্ট ২০২৬
সারাদেশ
গাজীপুর মহাসড়কের সার্ভিস লেনের ওপর হাটবাজার, নীরব প্রশাসন
গাজীপুর জেলা সংবাদদাতা
সোমবার, ১৩ জুলাই, ২০২৬, ২:০৮ পিএম 
সংগৃহীত ছবি
ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কের গাজীপুর মহানগর ও কালিয়াকৈর উপজেলার বিশেষ অংশে পথচারী ও ধীরগতির যানবাহনের জন্য নির্ধারিত সার্ভিস লেন ও ফুটপাত এখন অবৈধ দখলদারদের কব্জায়।

ফলে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে মূল সড়ক দিয়ে চলাচল করতে হচ্ছে নারী, শিশু ও বৃদ্ধসহ সাধারণ মানুষকে। মহাসড়কের এমন গুরুত্বপূর্ণ অংশ বেদখল হয়ে থাকায় যেকোনো সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনার আশঙ্কা থাকলেও দৃশ্যত নির্বিকার হাইওয়ে পুলিশ ও স্থানীয় প্রশাসন।

সরেজমিনে জানা গেছে, গাজীপুর মহানগরের ভোগড়া বাইপাস, কোনাবাড়ি কলেজ গেট এলাকায় ও কালিয়াকৈর উপজেলার চান্দনা চৌরাস্তা, চন্দ্রা পল্লীবিদ্যুৎ, সফিপুর, মৌচাক সার্ভিস লেনের সিংহভাগ জুড়েই বসেছে অবৈধ হাটবাজার। ফুটপাত ও সার্ভিস লেনের ওপর জামাকাপড়, ফল ও সবজির ভ্যান, করাতকল (স-মিল), ভাঙারির দোকান, ওয়ার্কশপ এমনকি নির্মাণসামগ্রী স্তূপ করে রেখে দেদারসে ব্যবসা চালানো হচ্ছে। হাঁটার কোনো জায়গা না থাকায় পথচারীরা মূল সড়ক ব্যবহারে বাধ্য হচ্ছেন।

এর ওপর সামান্য বৃষ্টি হলেই এসব বেদখল হওয়া অংশে কাদা-পানিতে একাকার হয়ে চরম ভোগান্তির সৃষ্টি হয়। এছাড়া নগরীর কোনাবাড়ি নতুন বাজার এলাকায় ফ্লাইওভারের নিচে অবৈধ গাড়ি পার্কিংয়ের কারণে যানজট আরও তীব্রতা রূপ নিয়েছে। 

সবচেয়ে ভয়াবহ চিত্র দেখা গেছে, কোনাবাড়ি কলেজ গেট ফুটওভারব্রিজের নিচে ও কালিয়াকৈর উপজেলার পল্লীবিদ্যুৎ, সফিপুর বাজার, মৌচাক ও চৌরাস্তা এলাকায়। কোনাবাড়ি কলেজ গেট এলাকায় বিপজ্জনকভাবে গড়ে উঠেছে ভাঙারি ব্যবসা। 
অভিযোগ রয়েছে, এসব প্রতিষ্ঠান থেকে নাওজোড় হাইওয়ে থানা পুলিশের একশ্রেণীর কর্মকর্তা নিয়মিত মাসোহারা তুলে থাকেন। প্রতি মাসে এখান থেকে মোটা অঙ্কের অর্থ হাতিয়ে নিয়ে ভাঙারি ব্যবসা করতে দেওয়া হচ্ছে বলে নির্ভরযোগ্য সূত্রে জানা গেছে।

মৌচাক পুলিশ ফাঁড়ির সামনে, সফিপুর বাজারের ফ্লাইওভারের নিচে ও উপজেলার পল্লীবিদ্যুৎ এলাকায়ও জেলা ট্রাফিক পুলিশের সদস্য এবং মৌচাক পুলিশ ফাঁড়ির সদস্যরা নিয়ন্ত্রণ করছে এসব ফুটপাতের দোকানপাটগুলো। কোনাবাড়ি কলেজের শিক্ষার্থীরা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘সবই হচ্ছে মাসোহারার কারবার। ’

নাওজোড় হাইওয়ে পুলিশের গাড়ি প্রতিদিন এ রাস্তা দিয়ে চলাচল করলেও এই অবৈধ দখলদারিত্ব তাদের চোখে পড়লে না দেখার ভান করে। প্রতিনিয়ত কলেজে যাওয়ার সময় মূল সড়ক দিয়ে গাড়ির পাশ ঘেঁষে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করতে হয়। ভাঙারির দোকানের কারণে ফুটপাত পুরোপুরি বন্ধ। এভাবে চলতে থাকলে যেকোনো দিন বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটে যাবে।

"স্থানীয়দের অভিযোগ, এই অবৈধ দখলদারিত্বের পেছনে রয়েছে বিশাল এক চাঁদাবাজ চক্র। প্রতিটি দোকান থেকে দৈনিক বা সাপ্তাহিক ভিত্তিতে মোটা অঙ্কের চাঁদা তোলা হয়। আর এই অবৈধ বাণিজ্যের সাথে স্থানীয় প্রভাবশালী চক্রের পাশাপাশি নাওজোড় হাইওয়ে থানা ও সফিপুরে কর্মরত জেলা ট্রাফিক, মৌচাক ফাঁড়ি পুলিশের একটি অংশের পরোক্ষ যোগসাজশ রয়েছে বলে জোর অভিযোগ উঠেছে। 

প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের গাড়ি প্রতিনিয়ত এই সড়ক দিয়ে যাতায়াত করলেও অদৃশ্য কারণে এই চাঁদাবাজি ও অবৈধ দখল বন্ধ হচ্ছে না। তবে সাধারণ বাসিন্দারা বলছেন ভিন্ন কথা। 

তাঁদের দাবি, মাঝে মধ্যে লোকদেখানো উচ্ছেদ অভিযান চালানো হলেও দু-তিন দিনের মধ্যেই আবার আগের অবস্থায় ফিরে যায় সার্ভিস লেন। স্থায়ী কোনো সমাধান মিলছে না।

এ প্রসঙ্গে নগরবিদ ও নিরাপদ সড়ক আন্দোলনের কর্মীরা বলছেন, ফুটপাত ও সার্ভিস লেন সাধারণ জনগণের মৌলিক অধিকার। দ্রুত স্থায়ী উচ্ছেদ অভিযান এবং নিয়মিত কঠোর মনিটরিং নিশ্চিত করা না গেলে এই শিল্পাঞ্চলে যানজট ও সড়ক দুর্ঘটনা দুই-ই মারাত্মক আকার ধারণ করবে। 

অবিলম্বে এই চাঁদাবাজি বন্ধ করে, সার্ভিস লেন দখলমুক্ত ও ফুটপাত পথচারীদের জন্য নিরাপদ করতে প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ দাবি করেছেন ভুক্তভোগী ও স্থানীয় সচেতন মহল।

এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে নাওজোড় হাইওয়ে থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) জাফর আলী খান বলেন, ‘আমি যদিও কর্তৃপক্ষের কাছে চিঠি দিয়েছি যে গাড়ি চলাচলে বিঘ্ন সৃষ্টি হচ্ছে, মূলত এটা ভ্রাম্যমাণ আদালত দেখবে, আমরা হাইওয়ে পুলিশ তাদের সাহায্য করব। পুলিশ উঠাতে গেলে ঝগড়া-বিবাদ হতে পারে। রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ এটার সাথে জড়িত, কাজেই আমরা সংঘাতের জড়াতে চাই না। 

উপজেলা নির্বাহী অফিসারের (ইউএনও) সাথে কথা বলেন, এটা ইউএনও স্যারের কাজ। প্রত্যেক মাসে আইনশৃঙ্খলা কমিটির মিটিং হয়, সেখানে আপনারা এই কথাগুলো তুলে ধরবেন। আমি নতুন এসেছি, পুলিশ এর সঙ্গে জড়িত আছে কি না তা জানি না।’ 

গাজীপুর হাইওয়ে রিজিয়ন পুলিশ সুপার (এসপি) মোহাম্মদ রহমত উল্লাহর মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি রিসিভ করেননি।

কালিয়াকৈর উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) এ এইচ এম ফখরুল হোসাইন বলেন, ‘আমি একাধিকবার উচ্ছেদ করেছি। উচ্ছেদ করার পর এরা আবার বসে যায়। গেল ঈদের সময়ও উচ্ছেদ করেছি যেন ঈদে কারও বিঘ্ন না ঘটে, কিন্তু এরা আবার বসে গেছে। রাজনৈতিক ছত্রছায়ায় একটি গোষ্ঠী এবং কিছু ডিপার্টমেন্টের স্বার্থান্বেষী মহলের কারণে এরা মূলত সার্ভিস লেন দখল করে হাটবাজার বসিয়েছে। এটার আসল জবাব হাইওয়ে পুলিশ ডিপার্টমেন্ট সবচেয়ে ভালো দিতে পারবে। আমরা তো ম্যাজিস্ট্রেসি দায়িত্ব পালন করি। মূলত এটা হাইওয়ে ও সড়ক ও জনপদ (সওজ) বিভাগের দায়িত্ব।’ হাইওয়ে চাইলে আমি কালকেই উচ্ছেদ অভিযান করবো।


  বিষয়:   ঢাকা-টাঙ্গাইল  মহাসড়ক  গাজীপুর 


Loading...
Loading...

সারাদেশ- এর আরো খবর

Loading...
Loading...
© 2026 Daily Daily Bhorer Dak
সম্পাদক ও প্রকাশক : কে.এম. বেলায়েত হোসেন
৪-ডি, মেহেরবা প্লাজা, ৩৩ তোপখানা রোড, ঢাকা-১০০০ থেকে প্রকাশিত এবং মনিরামপুর প্রিন্টিং প্রেস ৭৬/এ নয়াপল্টন, ঢাকা থেকে মুদ্রিত। পিএবিএক্স: ৪১০৫২২৪৫, ৪১০৫২২৪৬, ০১৭৭৫-৩৭১১৬৭, বিজ্ঞাপন ও সার্কুলেশন: ৪১০৫২২৫৮
ই-মেইল : [email protected], [email protected]
ফলো করুন: