আগামী ২৪ ঘণ্টায় বান্দরবান, চট্টগ্রাম ও কক্সবাজারের বন্যা পরিস্থিতির উন্নতি হতে পারে বলে জানিয়েছে বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র। এ সময়ে অতি ভারী বৃষ্টিতে দেশের ১২ জেলার বন্যা পরিস্থিতি আরো অবনতি হতে পারে।
রোববার (১২ জুলাই) বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্রের দেওয়া এক পূর্বাভাসে এসব তথ্য জানানো হয়েছে।
বন্যার পূর্বাভাস : বন্যার পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, আগামী ২৪ থেকে ৪৮ ঘণ্টায় দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলীয় ফেনী, চট্টগ্রাম, খাগড়াছড়ি, উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় সিলেট, সুনামগঞ্জ, নেত্রকোণা, শেরপুর ও ময়মনসিংহ, উত্তরাঞ্চলীয় নীলফামারী, লালমনিরহাট, রংপুর, কুড়িগ্রাম জেলার নদীসংলগ্ন নিম্নাঞ্চলে কোথাও কোথাও স্বল্পমেয়াদী বন্যা পরিস্থিতির উদ্ভব অথবা কিছুটা অবনতি হতে পারে।
কেন্দ্রের সহকারী প্রকৌশলী (দায়িত্বরত কর্মকর্তা) মোস্তফা কামাল জিহান স্বাক্ষরিত ওই পূর্বাভাসে আরো বলা হয়েছে, আগামী ২৪ ঘণ্টায় বান্দরবান, চট্টগ্রাম ও কক্সবাজার জেলার সাঙ্গু, মাতামুহুরী এবং মৌলভীবাজার ও হবিগঞ্জ জেলার মনু, খোয়াই নদী সংলগ্ন নিম্নাঞ্চলসমূহে বন্যা পরিস্থিতির উন্নতি হতে পারে।
পাঁচ স্টেশনে পানি বিপৎসীপার ওপর : ওই পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, সাঙ্গু নদী বান্দরবান (বান্দরবান) ও দোহাজারী (চট্টগ্রাম); কুশিয়ারা নদী মারকুলি (সুনামগঞ্জ) ও ফেঞ্চুগঞ্জ (সিলেট); সোমেশ্বরী নদী কলমাকান্দা (নেত্রকোনা) স্টেশনে পানি বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।
বৃষ্টিপাতের পূর্বাভাস : আগামী ২৪ থেকে ৪৮ ঘণ্টায় সিলেট বিভাগে এবং উজানে ভারতের আসাম, মেঘালয় প্রদেশে ভারি থেকে অভি ভারী বৃষ্টিপাতের পূর্বাভাস রয়েছে।
বন্যায় ক্ষয়ক্ষতি : সারা দেশ থেকে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, টানা বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলে চট্টগ্রামের পাঁচ জেলায় এখন পর্যন্ত ৪৩ জনের মৃত্যু হয়েছে। আহত হয়েছেন আরও অন্তত ৩৯ জন। এসব জেলায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন ৮ লাখ ৬৭ হাজার মানুষ।
৪ কোটি ৬০ লাখ টাকা ও ৮ হাজার ৯৫০ টন চাল বরাদ্দ : বন্যা ও অন্যান্য প্রাকৃতিক দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের সহায়তায় গত ৭ জুলাই থেকে ধারাবাহিকভাবে দেশের ৬৪ জেলার জন্য নগদ অর্থ ও চাল বরাদ্দ দিয়েছে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়। এ সময়ে মোট ৪ কোটি ৬০ লাখ টাকা এবং ৮ হাজার ৯৫০ মেট্রিক টন চাল মানবিক সহায়তা হিসেবে বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। গতকাল দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের এক তথ্যবিবরণীতে এ তথ্য জানানো হয়।
তথ্যবিবরণীতে বলা হয়, প্রথম ধাপে চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, খাগড়াছড়ি, রাঙামাটি, বান্দরবান, শেরপুর ও কুড়িগ্রাম জেলায় মোট ৬০ লাখ টাকা এবং ১ হাজার ২০০ মেট্রিক টন চাল বরাদ্দ দেওয়া হয়। একই সঙ্গে দেশের বাকি ৫৭ জেলার প্রতিটির জন্য ৫ লাখ টাকা এবং ১০০ মেট্রিক টন করে চাল বরাদ্দ দেওয়া হয়।
পরবর্তীতে ৯ জুলাই চট্টগ্রাম জেলার জন্য অতিরিক্ত ২৫ লাখ টাকা ও ৩০০ মেট্রিক টন চাল বরাদ্দ দেওয়া হয়। একই দিনে কক্সবাজারের জন্য ২০ লাখ টাকা ও ২৫০ মেট্রিক টন চাল এবং খাগড়াছড়ি, রাঙামাটি ও বান্দরবান জেলার প্রতিটির জন্য ১০ লাখ টাকা ও ২০০ মেট্রিক টন করে চাল বরাদ্দ দেওয়া হয়।
এছাড়া মৌলভীবাজার জেলার জন্য ৫ লাখ টাকা ও ১০০ মেট্রিক টন চাল বরাদ্দ দেওয়া হয়। ১০ জুলাই চট্টগ্রাম জেলার জন্য আরও ৫ লাখ টাকা এবং ২০০ মেট্রিক টন চাল বরাদ্দ দেওয়া হয়, যাতে জেলার চলমান ত্রাণ কার্যক্রম আরও জোরদার করা যায়।
সবশেষে ১২ জুলাই চট্টগ্রাম ও রাঙামাটি জেলার জন্য নতুন করে অতিরিক্ত বরাদ্দ ঘোষণা করা হয়। এর মধ্যে চট্টগ্রামের জন্য ২৫ লাখ টাকা ও ৫০০ মেট্রিক টন চাল এবং রাঙামাটির জন্য ৫ লাখ টাকা ও ১০০ মেট্রিক টন চাল বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।
দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, বন্যা ও অন্যান্য প্রাকৃতিক দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের জরুরি খাদ্যসহায়তা নিশ্চিত করতে প্রয়োজন অনুযায়ী মানবিক সহায়তা কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।