চট্টগ্রামে আবারও ভারী বৃষ্টিতে নগরের বিভিন্ন সড়কে হাঁটুপানি জমে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে। এতে কর্মজীবী মানুষের পাশাপাশি দুর্ভোগে পড়েছেন শিক্ষার্থীরাও। জলাবদ্ধতার আশঙ্কায় কয়েকটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠনে পরীক্ষা ও শ্রেণি কার্যক্রমও স্থগিত করা হয়েছে।
টানা বৃষ্টিতে চট্টগ্রামের জনজীবন এখনো পুরোপুরি স্বাভাবিক হয়নি। শনিবার রাত থেকে আবারও ভারী বৃষ্টি শুরু হয়। আবহাওয়া অধিদপ্তরের তথ্যমতে, গত ২৪ ঘণ্টায় চট্টগ্রামে ১৩৬ দশমিক ৮ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। এর আগে দুই দিন বৃষ্টির তীব্রতা কিছুটা কম থাকায় নিচু এলাকার পানি নামতে শুরু করেছিল। তবে নতুন করে ভারী বর্ষণে নগরের বিভিন্ন এলাকায় আবারও জলাবদ্ধতা দেখা দিয়েছে।
সরেজমিনে দেখা গেছে, চকবাজার, কাপাসগোলা, কাতালগঞ্জ, বাকলিয়াসহ বিভিন্ন নিচু এলাকার সড়কে পানি জমে গেছে। এতে যান চলাচল ব্যাহত হচ্ছে এবং কর্মজীবী মানুষকে চরম ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে। সপ্তাহের প্রথম কর্মদিবসে অফিসগামী অনেককে ছাতা ও রেইনকোট পরে গন্তব্যে যেতে দেখা যায়। একই সঙ্গে স্কুলগামী শিক্ষার্থীরাও দুর্ভোগে পড়েছে।
বৃষ্টির কারণে অনেক এলাকায় রিকশা ও সিএনজিচালিত অটোরিকশার সংকট দেখা দেয়। যাত্রীরা অভিযোগ করেন, যানবাহন পাওয়া গেলেও চালকেরা অতিরিক্ত ভাড়া দাবি করছেন। তবে বৃষ্টি কমে আসায় নিচু এলাকার পানি ধীরে ধীরে নামতে শুরু করেছে।
এদিকে আবহাওয়ার পরিস্থিতির উন্নতির আভাস দিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। পূর্বাভাস কর্মকর্তা মোহাম্মদ ইসমাইল ভূঁইয়া জানিয়েছেন, সোমবার থেকে ভারী বৃষ্টির প্রবণতা কমবে। তবে হালকা থেকে মাঝারি ধরনের বৃষ্টি অব্যাহত থাকতে পারে।
গভীর নিম্নচাপের প্রভাব কমে যাওয়ায় চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, মোংলা ও পায়রা সমুদ্রবন্দরের জন্য জারি করা ৩ নম্বর স্থানীয় সতর্ক সংকেত শনিবার দুপুরেই প্রত্যাহার করা হয়েছে।
গত এক সপ্তাহ ধরে চট্টগ্রামে থেমে থেমে বৃষ্টি হচ্ছে। এরই মধ্যে গত মঙ্গলবার জুলাই মাসে এক দিনে গত ৪৩ বছরের সর্বোচ্চ বৃষ্টিপাত রেকর্ড হয়। ওই দিনের বৃষ্টিতে আগ্রাবাদ, হালিশহর, বাকলিয়া, চান্দগাঁও, চকবাজার, কাতালগঞ্জ ও পতেঙ্গাসহ নগরের বিভিন্ন এলাকায় ব্যাপক জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়। বাসাবাড়ি ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানেও পানি ঢুকে পড়ে। পরবর্তী দুই দিন পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি হলেও নতুন করে ভারী বর্ষণে আবারও জলাবদ্ধতার শঙ্কা দেখা দিয়েছে।
ত্রাণ ও পুনর্বাসন কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, শনিবার সবচেয়ে বেশি মানুষ পানিবন্দি রয়েছেন সাতকানিয়া উপজেলায়—৩ লাখ ৫২ হাজার ৫০০ জন। এছাড়া বাঁশখালী উপজেলায় প্রায় দেড় লাখ মানুষ পানিবন্দি অবস্থায় রয়েছেন।