ময়মনসিংহের হালুয়াঘাট উপজেলার ৫ নম্বর গাজীরভিটা ইউনিয়নের মহাজনি কান্দা গ্রামের প্রধান সড়কের বেহাল অবস্থার কারণে শিক্ষার্থী, রোগী ও সাধারণ মানুষ চরম দুর্ভোগে পড়েছেন। সামান্য বৃষ্টিতেই সড়ক কাদা ও পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় স্বাভাবিক যাতায়াত কার্যত অচল হয়ে পড়ে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে রাস্তার সংস্কার না হওয়ায় প্রতিনিয়ত ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন কয়েকটি গ্রামের মানুষ। বিশেষ করে বর্ষা মৌসুমে মহাজনিকান্দা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সামনের সড়ক পানিতে ডুবে যায়। কোথাও কোথাও তিন থেকে চার ফুট পানি জমে প্রবল স্রোতের সৃষ্টি হয়, ফলে পুরো এলাকা বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে।
এই একটি সড়ক দিয়েই বোয়ালমারা, গোপীনগরসহ আশপাশের কয়েকটি গ্রামের মানুষ স্কুল, মাদ্রাসা, মসজিদ ও বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানে যাতায়াত করেন। কিন্তু অল্প বৃষ্টিতেই সড়ক ডুবে যাওয়ায় শিক্ষার্থীদের পড়ালেখা ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন জীবনযাত্রাও বিপর্যস্ত হয়ে পড়ে।
শিক্ষার্থীরা জানায়, বৃষ্টি হলেই বই-খাতা মাথায় নিয়ে হাঁটু থেকে বুকসমান কাদা-পানি পেরিয়ে স্কুলে যেতে হয়। এতে অনেকের পায়ে ঘা হয়ে অসুস্থ হওয়ার ঘটনাও ঘটে। তারা দ্রুত সড়ক সংস্কারের দাবি জানিয়েছে।
স্থানীয় অভিভাবক ও ভুক্তভোগী নারীরা বলেন, এই রাস্তার কারণে সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগে পড়েন গর্ভবতী নারী ও অসুস্থ রোগীরা। রাতে প্রসব ব্যথা উঠলে হাসপাতালে নেওয়া প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়ে। অনেক সময় নৌকা, বাঁশের সাঁকো কিংবা মানুষের কাঁধই একমাত্র ভরসা। সময়মতো চিকিৎসা না পাওয়ায় একজন প্রসূতির মৃত্যুর ঘটনাও ঘটেছে বলে দাবি করেন তারা। ভবিষ্যতে এমন মর্মান্তিক ঘটনা এড়াতে দ্রুত টেকসই সড়ক নির্মাণের দাবি জানান এলাকাবাসী।
স্থানীয়দের ভাষ্য, সামান্য বৃষ্টিতেই সড়কে হাঁটুসমান কাদা ও পানি জমে যায়। এতে শিক্ষার্থীদের জামাকাপড় ও বই-খাতা নষ্ট হওয়ার পাশাপাশি দুর্ঘটনার ঝুঁকি বেড়ে যায়। একই সঙ্গে ভাঙাচোরা রাস্তার কারণে যানবাহন চলাচলও প্রায় বন্ধ হয়ে পড়ে।
এ বিষয়ে উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা আশীষ কর্মকার বলেন, বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা হবে। আগামী বাজেটে সড়কটি সংস্কারের জন্য প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়ার সর্বোচ্চ চেষ্টা করা হবে।
ময়মনসিংহ জেলা পরিষদের প্রশাসক ও বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব সৈয়দ এমরান সালেহ প্রিন্স বলেন, স্বাধীনতার পর থেকে বহু জনপ্রতিনিধি ও উপজেলা প্রশাসনের আশ্বাস মিললেও আজও টেকসই সড়ক নির্মাণ হয়নি। দ্রুত সড়ক নির্মাণের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে জোরালো সুপারিশ করা হবে। পাশাপাশি ব্যক্তিগতভাবেও প্রয়োজনীয় সহযোগিতা করা হবে।
স্থানীয়দের দাবি, আর কোনো আশ্বাস নয়—দ্রুত ও টেকসই সড়ক নির্মাণই এখন সময়ের দাবি। একটি নিরাপদ সড়ক নিশ্চিত করতে পারলে শিশুদের শিক্ষা, গর্ভবতী মায়েদের নিরাপদ চিকিৎসা এবং হাজারো মানুষের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ফিরে আসবে বলে মনে করেন এলাকাবাসী।